বগুড়ায় ২০ কিলোমিটার মহাসড়কে বেপরোয়া দুর্বৃত্তরা

0
28
বগুড়ায় ২০ কিলোমিটার মহাসড়কে বেপরোয়া দুর্বৃত্তরা
বগুড়ায় ২০ কিলোমিটার মহাসড়কে বেপরোয়া দুর্বৃত্তরা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার উত্তরে দশমাইল আর দক্ষিণে সীমাবাড়ী। এই ২০ কিলোমিটার উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে মারাত্মক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। তারা কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে, কখনো যাত্রীবেশে বাসে ওঠে। আবার কৌশলে বাস-ট্রাক, সিএনজি ও প্রাইভেটকার থামিয়ে ঘটাচ্ছে অপরহরণ, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা।

দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নগদ টাকাসহ মালামাল লুটে নিচ্ছেন। জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটিতে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তেমন সুফল মিলছে না। সেইসঙ্গে উদ্ধার হয়নি খোয়া যাওয়া মালামাল। এমনকি চক্রটিকে শনাক্ত করে তাদের কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে সর্বশেষ গতকাল বুধবার মহাসড়ক সংলগ্ন বাড়ি থেকে লুটে নেওয়া গরুগুলো উদ্ধার হয়েছে। সেইসঙ্গে আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে মাংস ব্যবসায়ী আলম হোসেন শেরপুর শহরের ধুনটমোড় থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে পাশের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা হাটে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে মহাসড়কের ঘোগা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছামাত্র একটি ছাই রঙয়ের মাইক্রোবাস অটোরিকশার সামনে এসে দাঁড় করায়।

এসময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাইক্রোবাস থেকে তিন থেকে চারজন এসে জোরপূর্বক তাকে গাড়িতে তুলে ঢাকার দিকে রওনা দেয়। এরপর কালো কাপড় দিয়ে তার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। কিছু সময় পর কিলঘুষি মেরে তার কাছ থেকে ১২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের জুয়ানপুর গ্রামের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলম হোসেন বলেন, অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তোলার পর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। এজন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে নাটোর বনপাড়া ও পাবনা রোডকে বেছে নেওয়া হয়। সেদিকেই মাইক্রোবাসটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে তাদের কথাবার্তায় জানতে পারি।

এসময় তাদের কাছে অনেক আকুতি-মিনতি করি, জীবন ভিক্ষা চাই। নাবালক ছেলেমেয়েদের কথা বলায় তাদের দু-একজনের মনে একটু মায়ার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সারাদিন ঘোরাঘুরি করে রাত নেমে এলে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে চলে যায় তারা। পরে ওই এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় বাড়িতে খবর দেই। এরপর তাকে বাড়িতে আনা হয় বলে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনার দুইদিন আগে একইভাবে শহিদুল ইসলাম নামে আরেক গরু ব্যবসায়ীকে অপরহরণ করে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সবুজ সিএনজিযোগে ওই হাটে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ছোনকা বাজার পার হওয়া মাত্রই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সিএনজির গতিরোধ করে তাকে অপহরণ করা হয়। মাইক্রোবাসে তোলার পর তাকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মহাসড়কের পাশে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা।

এদিকে, সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার সীমাবাড়ী বাজারের ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক সংলগ্ন গোলাম রহমানের মালিকানাধীন একটি গরুর খামারে হানা দেয় দুর্বৃত্তরা। খামারের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুটি গরু ও একটি বাছুর ট্রাকে তোলা হয়। পরে খবর পেয়ে ওই রাতেই মহাসড়কে টহলরত পুলিশের দলটি চোরাই গরুবোঝাই ট্রাকটি ধরতে ধাওয়া করেন।


আরও পড়ুন>>


কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে গরুবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে দ্রুত সিরাজগঞ্জের দিকে চলে যায় তারা। তবে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বড়পুকুরিয়া গ্রামে বাদশার বাড়িতে গরুগুলো থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে শেরপুর ও কামারখন্দ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া গরুগুলোসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এভাবে মাঝেমধ্যেই ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

এসব ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উপজেলার গাড়ীদহ দশমাইল থেকে সীমাবাড়ী বাজার এলাকাজুড়ে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা দিনে-রাতে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অবস্থান নেয়। সেইসঙ্গে সুযোগ পেলেই সাধারণ মানুষকে অপহরণের পর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটে নেওয়া হয় নগদ টাকাসহ মালামাল। একের পর এক ঘটনা ঘটলেও এই ধরনের অপরাধ রোধে হাইওয়ে পুলিশের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ বানিউল আনাম বলেন, এসব ক্রাইম দেখার বিষয়টি থানা পুলিশের। সেখানেই অভিযোগ বা মামলা হয়। এক্ষেত্রে তাদের কোনো উদাসীনতা নেই। এছাড়া মহাসড়কে তাদের সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম রয়েছে।

যেকেউ তাদের সহযোগিতা চাইলে হাইওয়ে পুলিশের টহল গাড়িতে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী এত টাকা নিয়ে হাটে যাচ্ছেন, বিষয়টি থানা পুলিশ অথবা তাদের আগে জানানো উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply