বসন্তের রঙে আমাদের ভালোবাসা

0
27
বসন্তের রঙে আমাদের ভালোবাসা
বসন্তের রঙে আমাদের ভালোবাসা

আজ রোববার ফাল্গুনের প্রথম দিন, ইংরেজিতে ১৪ ফেব্রুয়ারি। আজ বসন্তকে বরণ করার দিন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। একই দিনে দুটি দিবসকে বেশ আপন করেই নিয়েছেন এ প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা। প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনে ভালোবাসার মানুষকে আজ বাঙালির পবিত্র প্রেম রঙিন ফুলের সাজে প্রকাশ পাবে।

এ দিনটিতে যুগলদের মনে ভালোবাসার উচ্ছ্বাস কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কেবল তরুণ-তরুণী নয়, এদিন সকল বয়সের মানুষই তার ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সময় কাটাবেন। বসন্তের প্রথম দিনে সকল প্রেমিক-প্রেমিকারা ভালোবাসার মানুষকে নিবিড় আলিঙ্গনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবেন যে, এভাবেই যেন আমৃত্যু বেঁচে থাকে তাদের ভালোবাসা। ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে আজ গড়ে উঠবে বিশেষ মুহূর্ত, কিছু বিশেষ স্মৃতি। যা আগামীর প্রতিটি দিনের ভালোবাসায় ক্ষণে ক্ষণে দিবে নতুন রূপ।

আজকের এই ভালোবাসা দিবস শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য নির্দিষ্ট নয়, এ ভালোবাসা হতে পারে মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, সন্তান বা বন্ধুর জন্যও। এদিন সকলেই হতে পারে ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত। ভালোবাসার মানুষের মুখে একরাশ হাসি ফুটানোর জন্য একজন অপরজনকে দিবে উপহার। কাগজের তৈরি নীল খামে লিপস্টিকের দাগ, একটা লাল গোলাপ, কিছু চকলেট, ক্যান্ডি, ছোট্ট একটা চিরকুট আর সেখানে প্রিয় মানুষকে নিয়ে কয়েক লাইনের গদ্য বা পদ্যই হতে পারে আজকের বিশেষ দিনের বিশেষ উপহার।

জানা যায়, ধর্মযাজক সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন একজন খ্রিস্টধর্ম প্রচারক ছিলেন। বিপরীতে তৎকালীন সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ছিলেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী। সম্রাটের পক্ষ থেকে সেইন্টকে দেব-দেবীর পূজা করার জন্য বলা হলে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনকে অসম্মতি জানায় আর এতে তাকে ২৭০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।


আরও পড়ুন>>


অন্য একদল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন, স্নেহময় যাজক সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন কারাবন্দী হলে তাকে দেখার জন্য তরুণ-তরুণীরা ফুল নিয়ে আসতেন। একদিন কারারক্ষীর অন্ধ মেয়েও আসে। অন্ধ মেয়েটি সেইন্টের ক্ষমতায় তার দৃষ্টি শক্তি ফিরে পায়। তাই সেই সময় তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ঠেকাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন সম্রাট ক্লডিয়াস।

এদিকে অন্য এক ইতিহাসে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীতে জনবল সংকট হলে তরুণ-তরুণীদের বিয়ের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন সম্রাট ক্লডিয়াস। এতে করে যেন তরুণ-তরুণীরা সৈনিক হতে আগ্রহী হয়। কিন্তু সম্রাটের এই নির্দেশ সর্বপ্রথম অমান্য করেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামক এক ধর্মযাজক। মর্সিয়া নামের এক তরুণীকে ভালোবেসে বিয়ে করেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে অন্যদের বিয়ে দেন। সম্রাটের আদেশ অমান্য করায় সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। তার স্মরণেই পালিত হয়ে আসছে ভালোবাসা দিবস। আর এটিই বিশ্বে সর্বাধিক প্রচারিত ভালোবাসা দিবস পালনের ইতিহাস।

Leave a Reply