বাসদ (মার্কসবাদী)’র স্বেচ্ছাচারীতার বিরুদ্ধে ছাত্র ফ্রন্টের ৭ নেতার বিবৃতি

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকতাজ নাহার রিপন, আরিফ মঈনুদ্দীন, স্কুল বিষয়ক সম্পাদকআরিফ মঈনুদ্দীন, সদস্য  মনিরুজ্জামান মুনির, রুহুল আমিন, কাজী জহির উদ্দিন,রা য়হান বকসী এবং উজ্জ্বল বিশ্বাস এক যুক্ত বিবৃতিতে বাসদ(মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির একাংশ কর্তৃক কেন্দ্রীয় নির্ধারিত প্রতিনিধি ফোরামের ১৬জন নেতার বহিষ্কারাদেশ ও কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তীকে শোকজ-এর সিদ্ধান্তকে স্বৈরতান্ত্রিক আখ্যা দেন এবং সারাদেশের ছাত্র ফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে পার্টির অভ্যন্তরে দল পরিচালনা পদ্ধতি, সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়া, পার্টির ঘোষিত রাজনৈতিক লাইন অনুসারে সংগঠন ও দল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উদ্যোগহীনতা, বিগত দিনের সংগ্রামের মূল্যায়ন সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক চলে আসছিল। পার্টির গণসংগঠনের (ছাত্র ফ্রন্ট) নেতৃত্বের অবস্থান থেকে আমরাও এ বিষয়গুলোর সাথে যুক্ত ছিলাম। পার্টির বিভিন্ন অগনতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত ও ভুল পদক্ষেপের কারণে ছাত্র ফ্রন্টের বহু সম্ভাবনাময় নেতা-কর্মীরা সংগঠন ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এ ব্যথা আজো আমাদের হৃদয়ে বাজে। সংগঠনগত ভাবে বিভিন্ন সময় আমরা পার্টি নেতৃত্বের সাথে বিষয়গুলো নিয়ে বসেছি। কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান তো করেননি বরং সময় ক্ষেপণ করে নিজেদের আস্থাভাজন কর্মীদেরকে সংগঠনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করার মতো পেটিবুর্জোয়া তৎপরতা চালিয়েছেন। এমতাবস্থায় দলকে এ পরিস্থিতি থেকে বের করে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য বর্তমান কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে অতীত দিনের ভুলের পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন পার্টি প্রক্রিয়া শুরু করার যে আহ্বান ১৬জন নেতা জানিয়েছিলেন, তা অত্যন্ত যৌক্তিক বলে আমরা মনে করি ও সমর্থন করি।”

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “ কিন্তু কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটি এ মতামতকে দলবিরোধী তৎপরতা হিসেবে চিহ্নিত করে দলের অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রাম পরিচালনার সকল পথ বন্ধ করে ঐ ১৬জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে। যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও বুর্জোয়া সংস্কৃতির প্রতিফলন ছাড়া আর কিছু নয়। কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী ১৬জন নেতার বক্তব্যকে সমর্থন ও কেন্দ্রীয় কমিটির একাংশের এই সিদ্ধান্তকে বিরোধীতা করলে তাকে শোকজ করা হয়েছে। উপরন্তু যে নেতারা সমালোচনা করেছেন তাদেরকে ক্ষমতালোভী, পদাকাক্সক্ষী হিসেবে চিহ্নিত করে বিবৃতি দিয়েছে। আমরা তাদের এই বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানাই এবং বহিষ্কারাদেশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করছি। ভিন্নমত ও যৌক্তিক বক্তব্যকে এভাবে খারিজ করা ও তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ বিচারে ফ্যাসিবাদের হাতকেই যে শক্তীশালী করা হবে বলে আমরা মনে করি।”

নেতৃবৃন্দ ছাত্র ফ্রন্টের সারাদেশের নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের নতুনভাবে পর্যালোচনার ভিত্তিতে নতুন কর্মপন্থা হাজির করার প্রচেষ্টায় যুক্ত হবার জন্য আহ্বান জানান।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: