বিলুপ্তির পথে সাপের খেলা; অনাহারে সাপুড়েরা

এখন আর দেখা মেলে না সাপুড়েও সাপের। যা কি না কয়েক বছর আগেও কাউকে সাপে কামড়ালে সাধারণ মানুষ ডাক্তারের কাছে না গিয়ে সাপুড়ে খুঁজতো। তবে এর অন্যতম কারণ বনাঞ্চল কমছে, সাপ কমছে, কমছে সাপুড়ের সংখ্যাও।

অন্যদিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাধারণের মাঝে সচেতনতাও বাড়ছে। ফলে সাপে কাটলে সাপুড়ে খোঁজার প্রবণতাও কমেছে অনেক।

আগের দিনে বেদে সম্প্রদায়ের বাসস্থান বলতে ছিলো বিশাল এক নৌকার বহর। তবে নদীমাতৃক বাংলাদেশে হলেও অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন বাঁধ নির্মাণ করার ফলে নদীর নাব্যতা কমেছে। যার ফলে এখন আর তারা নৌকার বহর নিয়ে চলে না।

এখন বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের এখন রাস্তার পাশের পতিত জমিতে ছোট্ট পলিথিনের ঝুপড়িতে দেখা মেলে। তাদের কে যাযাবর বলে।

এর কখনো এক স্থানে থাকে না। জীবন চলার পথে বছরের কয়েক মাস কয়েকটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আশ্রয় স্থাপন করে তারা বসবাস করে। এরপর জীবিকা হিসেবে কেউ বানর, কেউ সাপ, কেউ বা অন্য কোন পেশায় নিযুক্ত থেকে বসবাসকৃত এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে বেদে-বেদেনীরা সাপ নাচিয়ে খেলা দেখাত। আবার তাদের পুরুষ সঙ্গীরা জীবিকা নির্বাহ করত সাপ, বানর কিংবা অন্য কোন কর্ম করে।

পুরুষ সাপুড়ে গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারে সাপ নাচিয়ে লোক জড়ো করে খেলা দেখিয়ে কিংবা ওষুধ বা তাবিজ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। বর্তমানে কালের আবর্তে পূর্ব পুরুষদের রেখে যাওয়া সেই পেশা ছেড়ে তারা এখন অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। ফলে এখন আর আগের মতো গ্রামের মেঠোপথে কিংবা হাট-বাজারে এসব খেলা দেখিয়ে মানুষের জটলা আর দেখা যায় না। বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন পূর্বে ভাসমান জীবনযাপন করলেও বর্তমানে নদ-নদী, খাল-বিল চলাচল অনুপযোগী হওয়ায় নৌকায় অবস্থান না করে বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী আবাস গড়ে তুলছে। কমে আসছে তাদের সংখ্যাও।


আরও পড়ুন>>


তবে হাটবাজারে প্রদর্শিত সাপ খেলার মূল উদ্দেশ্য সাপ খেলা নয়। অন্তরালে থাকে সাপ বশীকরণ তাবিজ বা ওষুধ বিক্রি। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অবাধ অগ্রগতিতে তাবিজ বা গ্রামীণ ভেষজের প্রতি বিশ্বাসেও চিড় ধরেছে সাধারণ মানুষের। সাপের খেলার উদ্দেশ্য বা অন্তরালের লক্ষ্য যাইই থাকুক, গ্রামীণ বাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে সাপ খেলা। এখন আর হাটবাজারে জটলা থাকে না সাপ খেলাকে ঘিরে। খুব একটা চোখে পড়ে না মনষা পালাও। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে আশঙ্কা, খুব তাড়াতাড়িই হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সাপ খেলা।

কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের মুক্ত মঞ্চ মাঠে সাপ খেলা দেখাতে আসা সাপুড়ে জানান, সাপের বিষ দিয়ে অনেক দুরারোগ্য রোগ সারার ওষুধ তৈরি হয়। এগুলো সংগ্রহ করতে গিয়ে আমাদের অনেকে সাপের বিষাক্ত ছোবলে প্রাণ হারিয়েছে।

তিনি আরও জানান, সাপ ধরার কোন মন্ত্র নেই। আছে বুদ্ধি, সাহস আর কলা-কৌশল। তাবিজে বিভিন্ন গাছ-গাছড়া থাকে। গাছ-গাছড়ার দ্রব্যগুণ আছে এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। তাই আমরা এগুলো বিক্রি করে, বিভিন্ন হাট-বাজারে বীণ বাজিয়ে সাপের নাচ দেখিয়ে দর্শক মাতাই এবং তাবিজ বিক্রি করে দিনে ২-৩ শত টাকা আয় করে চালাতে হয় নিজ সংসার।

- Advertisement -

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ

Bengali Bengali English English German German Italian Italian
%d bloggers like this: