এখনকার সময় ভাইরাল সম্পর্কে কমবেশী সবাই অবগত। ভার্চুয়াল মিডিয়ার বদৌলতে বিশেষকরে ফেসবুকে প্রচলিত নিয়মের বাইরে একটু ব্যতিক্রম কিছু হলেই ভাইরাল হয়ে যায়। যা কিনা সর্বস্থরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এর ভালো দিকে যেমন আছে তেমনি আছে কিছু খারাপ দিকও। বাংলাদেশ ও ভারতে এখনকার সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত বিষয় হচ্ছে ধর্ষণ। তাইতো যে যেখান থেকে এই রকম নিউজ দিচ্ছে তাই ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। এর ভালো দিক হলো সর্বস্তরের মানুষের কাছে খুব অল্প সময়ের মাঝে তথ্য গুলো পৌঁছে যাচ্ছে যার ফলে ধর্ষণ নিয়ে সারা বাংলাদেশের মানুষ সচেতন হচ্ছে। আন্দোলন সংগ্রাম হচ্ছে, অল্প সময়ে বিচার কার্যক্রমে প্রশাসন দৃষ্টিপাত করছে।

খারাপ দিক হলো সর্বস্তরের মানুষ ধর্ষণ সম্পর্কে অবগত হচ্ছে যার ফলে ধর্ষণের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে অনেক সময়। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে ধর্ষিত নারী জনসন্মুখেও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে। একদল অসাধু লোক তারা নিজেদের স্বার্থহাসিল করার জন্য ভাইরাল হতে চায়। এমনকি অনলাইন মিডিয়াগুলো তাদের টিআরপি বাড়ানোর জন্য অনেক সময়ই ভুল তথ্য কিংবা সত্যতা যাচাই না করে জনসন্মুখে প্রকাশ করছে। যার ফলে ভুক্তভোগী ব্যক্তি সমস্যার সম্মুখীন হয়।


আরও পড়ুন


খুব বেশি ভালো লাগে যখন দেখাতে পাই এই ভাইরাল হওয়ার জন্য কিছু মানুষের বিরাট আকারে উপকার সাধন হয়। জীবন্ত উদাহরণ ভাইরাল হওয়া রিক্সাচালক মোঃ ফজলুর রহমানের রিক্সা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ অভিযানে তার রিক্সা টি তুলে নেওয়ার নিউজটা ভাইরাল হয় এবং উক্ত রিকশাচালককে আহসান ভূঁইয়া ও ইসরাত করিম নামক দুইজন বড় মনের মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অনেকেই সাহায্য করার ইচ্ছা পোষণ করছেন। ঈদুল আযহার সময় গরু বিক্রয় করার পর সেই ছোট্টমেয়েটার কান্না করা ভাইরাল হওয়া নিউজটার কথা আমরা ভুলিনাই। তখন বাচ্চা মেয়েটার মুখে হাসি ফুটিয়ে ছিল প্রথম আলো পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। এরকম প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জিনিশের ন্যায় বিচারের কিংবা উপকারের জন্য এই ভাইরাল হওয়াটা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

এক স্তরের মানুষ ভাইরাল হওয়ার জন্য বিভিন্ন অসামাজিক কর্মেও লিপ্ত হচ্ছে যার ফলে কৃত্রিম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে জনসাধারণকে। এইসব ধর্ষণ কিংবা দুর্নীতিকে রুখতে হলে প্রয়োজন নিজ নিজ জায়গা থেকে আত্ম সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়া। আশার কথা হচ্ছে এটা বিগত দিনগুলোতে ধর্ষিতা নারী কিংবা তাদের পরিবার বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হলেও তারা সেটা জনসম্মুখে আনতে সম্মত হতেন না। কিন্তু যুগ বদলে গেছে এরকম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সামাজিক কর্মকান্ড মানুষের আত্ম শক্তি বৃদ্ধি করছে। অনিয়ম-সামাজিক অবক্ষয় মূলক জিনিস যদি সমাজে ভাইরাল হতে থাকে তাহলে একদিন আমাদের সুদিন আসবেই। আমরা সেই প্রতীক্ষায় রইলাম।

ধর্ষকদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, তারা কেউ কোনভাবেই যেন এক বিন্দুও ছাড় না পায় সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে, তাহলে মানুষের ভেতরে একটা ভীতি তৈরি হবে এবং ধর্ষণ থেকে মুক্তি পাবে আমার মা, আমার বোন এবং একটি রাষ্ট্র।

লেখক।।
মোঃ সাইদুর রহমান
শিক্ষার্থী, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

প্রেমিকাকে দিয়ে গণধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন নিজেই

ফেনীর সোনাগাজীতে প্রেমিকাকে দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ মামলা সাজাতে গিয়ে আরিফুল ইসলাম সাকিব নামে এক যুবক ধর্ষণ মামলায় নিজেই ফেঁসে গেছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর)...

লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতাকর্মীসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষ্মীপুরে সড়কে ফাঁদ পেতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মনির হোসেন মনুর ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। সোমবার...

তানোরে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী অপহরন মামলার আসামি গ্রেপ্তার

সোহানুর রহমান, পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি ll রাজশাহীর তানোরে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী অপহরন মামলার আসামি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে তানোর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল...

স্থানীয় সরকারের ২ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ভোট মঙ্গলবার

সারা দেশে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন ও উপনির্বাচন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ৯টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল...
%d bloggers like this: