ভাষাসৈনিক আলী তাহের আর নেই

ভাষাসৈনিক আলী তাহের মজুমদার মারা গেছেন। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চাঁনপুরে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর। বিকেল ৫টায় উপজেলার রামপুর ছয়বাড়ী ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।

আলী তাহের মজুমদার চাঁদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হন কুমিল্লা জেলা স্কুলে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ছাত্রাবস্থায় ১৯৩৫ সালে কংগ্রেসের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অষ্টম পাঞ্জাব আর্মিতে যোগ দেন। সাত-আট মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ছুটিতে এসে আর ফিরে যাননি। সে সময় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শরৎ বোসের পরিকল্পিত বাংলা ভাষাভাষী এলাকা নিয়ে স্বাধীন সরকার গঠনের জন্য কাজও করেছেন আলী তাহের। দেশ ভাগের পর ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তোলেন কুমিল্লার গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত। তখন দেশে ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আলী তাহের মজুমদার তখন আরএসপি (রেভল্যুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি) করতেন। ওই অফিসে বসে ভাষা আন্দোলনের লিফলেট-পোস্টার লিখে বিলি করতেন।


আরও পড়ুন>>


বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মিছিলে গুলি হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে কুমিল্লার মানুষ। তখন বিক্ষোভ মিছিল করার অপরাধে আলী তাহের কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জে গ্রেফতার হন। পরদিন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগেও দুই দফা গ্রেফতার হয়েছেন আলী তাহের।

১৯৫৩ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে যোগ দেন আওয়ামী মুসলিম লীগে। এই অপরাধে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়ে তিন বছর কারাগারে ছিলেন। ১৯৫৬ সালে কারামুক্ত হন। কুমিল্লা সদর থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯-এর গণ-আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে চলে যান ভারতে। সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। পাকিস্তানিরা তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। রাজনীতি করেই জীবন কেটেছে তার।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা হয়ে মুক্তিযুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন। দেশকে ভালোবাসতেন আলী তাহের মজুমদার। তবে সব ছাপিয়ে ভাষাসৈনিক হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন তিনি।

আলী তাহের মজুমদারের জন্ম ১৯১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। বাবার নাম চারু মজুমদার, মা সাবানী বিবি। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: