মন্ত্রণালয়ের অদূরদর্শীতার বলি ২০১৪ সালের প্রাথমিকের প্রার্থীরা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সিনিয়র সচিব স্যারকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই প্যানেল নিয়ে অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক করার জন্য। আমরা স্পষ্ট করতে বলতে চাই ২০১৪ স্থগিত (২০১৮) সালে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাত ভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল প্রত্যাশীরা কোন অনৈতিক অর্থ লেনদেনের সাথে জড়িত নয়।

বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করার পর ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব আরোপ করে এবং নিয়মিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সরবরাহ করার লক্ষ্য ২০১০ সাল থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে ২০১৪ সাল পর্যন্ত। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ইং/৩০ ভাদ্র ১৪২১ বাং তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাত ভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ “দৈনিক ইত্তেফাক, জনকণ্ঠ, কালের কন্ঠ” পত্রিকায় ও মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় যার স্মারক নং প্রাশিঅ/৭(নিয়োগ)/সাশিনি/(রাজস্ব) /২০১৪/২৪৯। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবার দীর্ঘ ৩ বছর ৮ মাস পর ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল ১ম ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং পর্যায় ক্রমে ৪ ধাপে ১ জুন ২০১৮ সালে সমাপ্ত হয়। ২০১৪ সালের মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রায় ১৪ লাখ প্রার্থী আবেদন কারী ছিলো, এত বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্য মাত্র ২৯৫৫৫ জন (মহিলা ২০৪৬৬, পুরুষ ৯০৮৯) লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। যার লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ৮ জুলাই ২০১৮। ২৯ জুলাই থেকে ১৫ অগাস্ট ২০১৮ পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ নিয়োগের জন্য ৯৭৬৭ জনকে মনোনীত করে ফল প্রকাশ হয়।

২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ চার বছর স্থগিত থাকায় নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা এবং শূন্য পদসমূহ পূরণ না করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায় ২০১৪ স্হগিত নিয়োগের প্রার্থীদের উপর কেন বর্তাবে? এই জন্য কি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন দায়ীত্ব নেই?

২০১৮ সালের ২৯ মার্চ “এডুকেশন বাংলা” নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য ছিলো ১৮০০০। ঐ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্ব শীল সূত্র থেকে জানা যায় ২০১৪ সালের স্থগিত নিয়োগ থেকে ১০০০০ এবং আগামী জুনের (২০১৮) ভিতর নতুন করে আরো ৮০০০ শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দ্রুত সময়ের মধ্য শূন্য পদ পূরণ করা হবে। কিন্তু ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যখন চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয় তখন নিয়োগের জন্য ৯৭৬৭ জনকে মনোনীত করে ফল প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নিদিষ্ট পদ উল্লেখ থাকে না তাই শূন্য পদের চাহিদার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালের এপ্রিল -জুনে যখন নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করা হলো তখন ১৮০০০ এর বেশি শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও কেন শূন্য পদ পূরণ করা হয় নি?

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর ২০১১ সালের ৪ আগস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে । যার স্মারক নং প্রাশিঅ / নিয়োগ/ ০২/ সঃশিঃনিঃ / ২০১১/ ২৯৫।

উক্ত বিজ্ঞপ্তির আলোকে দেশের ৬১ টি জেলা থেকে প্রায় ১১,২০,২৯০ (এগারো লাখ, বিশ হাজার্‌ দুই শত নব্বই) জন প্রার্থী আবেদন করেন। ২০১২ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারী লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় । লিখিত পরীক্ষায় ৪৪ হাজার ৬০৯ জনকে কৃতকার্য ঘোষণা করা হয়।

অতঃপর, ২০১২ সালের মে মাসে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন করা হয় এবং ১৪-০৮-২০১২ ইং তারিখে মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে কৃতকার্য দেখানো হয় ২৭ হাজার ৭২০ জনকে । উক্ত ১৪-০৮-২০১২ ইং তারিখে দুই ভাগে কৃতকার্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ভাগ (১) এ বলা হয়েছিল যে, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগ -২০১১ এর জন্য গৃহীত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের জেলা ভিত্তিক তালিকা ’’১২,৭০১ জন ,এবং ভাগ (২) এ এটা বলা হয়েছিল যে, “সহকারি শিক্ষক নিয়োগের জন্য শূন্য পদের বিপরীতে প্রার্থী নির্বাচনের পর অবশিষ্ট প্রার্থীদের মধ্য হতে উপজেলা/থানা ওয়ারী প্রাথমিক শিক্ষক পুল গঠনের নিমিত্তে সুপারিশকৃত রোল নম্বরের তালিকা ’’১৫,০১৯ জন। ( উক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এইভাবে ফলাফল প্রকাশ করা বা এইভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে কোন কিছু উল্লেখ ছিল না)

কিন্তু উত্তীর্ণ প্রার্থীদের স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে ২০১৪ সালের ১৪/০৯/২০১৪ ইং তারিখে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য আবার ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। যার স্মারক নং প্রাশিঅ/৭(নিয়োগ)/ সঃশিঃনিঃ (২০১৪/২৪৯)। ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্থায়ী নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ৫২ জন আবেদনকারী ওই বছর মহামান্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

মহামান্য আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর রুল জারি করেন। রুলে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করে পুল শিক্ষকদের স্থায়ী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর একে একে আর ও ৭১ টা রিট আবেদন করেন পুল শিক্ষকরা। মোট ৭২ টা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৩রা ফেব্রুয়ারি/২০১৬ উচ্চ আদালত পুল শিক্ষকদের পক্ষে রায় ঘোষণা করে। উক্ত রায়ে উল্লেখ থাকে যে, পুলভুক্ত ২৫০০ (আড়াই হাজার) জন শিক্ষককে নিয়োগ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত নতুন কোন নিয়োগ দেওয়া যাবে না। পরিশেষে ধাপে ধাপে আর ও (প্রায় ১৫০০) জন শিক্ষক ৬৩ টা রিট করেন । ওই রিট কারিদের ও একই রকম রায় দিয়েছেন আদালত।’

৭২টা রিটের চূড়ান্ত রায়ের কপি প্রকাশিত হয় ২৩ জুন/২০১৬ ইং তারিখে। পুল শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে মহামান্য আদালত যে রায় প্রদান করে সেই রায়ের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আপিল করে কিন্ত উচ্চ আদালত আপিল খারিজ করে দেয়। মন্ত্রণালয় এবং রীটকারীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারনে বছরের পর বছর আইনি লড়াই চলে। শেষ। পর্যন্ত পুল শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে বাধ্য হয় মন্ত্রণালয়। মাঝ খান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে আবেদনকারীরা।একজন উচ্চশিক্ষিত তরুণতরুণী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য অধীর অপেক্ষা করে কেননা দেশের ৮০% উচ্চশিক্ষিত তরুণতরুণী রা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করে।শিক্ষা জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে যখন শিক্ষক হিসেবে প্রস্তুত করার জন্য নিজেকে তৈরি করে তখন ৪ বছরের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। একজন উচ্চশিক্ষিত চাকরি প্রার্থীর জীবনে হারিয়ে যাওয়া ৪ বছরের মূল্য কতটা সেটা কি মন্ত্রণালয় একবার ও অনুধাবন করে নি? ২০১০ সাল থেকে যখন প্রতিবছর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়ে আসছিল সেই হিসেব অনুযায়ী ২০১৪-২০১৮ সাল পর্যন্ত ৪ টা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবার কথা ছিলো। কিন্ত কেন হলো না এর দায় ভার কি চাকরী প্রার্থী বহন করবে নাকি মন্ত্রণালয়? ২০১১ সালের আগস্টের শুরুতে যখন রাজস্ব খাত ভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলো তখন নিশ্চয় মন্ত্রণালয় শূন্যপদের চাহিদা গ্রহন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলো। ২০১০-২০১১ সালের শূন্য পদের চাহিদা পূরণ তো ২০১২ সালেই শেষ হবার কথা। তাহলে কেন পুল শিক্ষকদের সবাইকে নিয়োগ না দিয়েই নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিলো? ২০১১ সালের পর ২০১২ ও ২০১৩ সালে প্রাক প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (নব সৃষ্ট পদে) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এই দুই বছরেও পুল ভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতে পারতো মন্ত্রণালয়। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজস্ব খাত ভুক্ত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার আগেই যদি পুল শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি চুড়ান্ত ভাবে নিষ্পত্তি করা হত তাহলে ২০১৪ সালের সার্কুলার আটকে থাকতো না। এবং প্রতিবছরই নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হত। আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতায় ২০১৪ সালের আবেদন কারীরা তাদের জীবনের সব চেয়ে মূল্যবান সময় হারিয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে। এই যে ৪ বছর সময় আমাদের জীবন থেকে চলে গেলো এর দায় ভার কার? চাকরী প্রার্থীদের নাকি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের? ৪ বছর পর যখন ২০১৮ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলো এবং সেপ্টেম্বরে চুড়ান্ত রেজাল্ট প্রকাশিত হবার পুর্বে আমরাও ভেবেছিলাম আমাদের ৪ বছরের ক্ষতির দিক বিবেচনা করে পুল বা প্যানেল ভুক্ত করে নিয়োগের অপেক্ষায় রেখে অনন্ত ৪ বছরের ক্ষতিপূরণ দিবে মানবিক দিক বিবেচনা করে। কিন্ত উল্টো আমাদের সাথে করা হলো অমানবিকতা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০ হাজার পদ শূন্য থাকার পরও আমাদের নিয়োগ থেকে শূন্য পদ পূরণ করা হয় নি।অথচ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত রাজস্ব খাত ভুক্ত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ৮ নং কলামে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে যে বিদ্যমান কোটা নীতি অনুসরণ করে মেধাতালিকা অনুযায়ী (উপজেলা/থানাওয়ারী) “সহকারী শিক্ষক” এর বিদ্যমান শূন্যপদ সমূহে নিয়োগের চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করে নিয়োগ দানের ব্যবস্থা করা হবে।কিন্তু ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ২০০০০ হাজারের বেশি শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও নীতিমালা অনুযায়ী শূন্য পদ যথাযথ ভাবে পুরণ হলো না? রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে কেন আমরা চাকরি লাভের সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলাম? ২০১১ সালের রাজস্ব খাত ভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞাপ্তিতে পুল ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে এমন কোন বিষয় উল্লেখ করা ছিলো না তারপরও সেই নিয়োগ থেকে যদি পুল শিক্ষক নিয়োগ করা যায় সময়ের চাহিদার প্রয়োজনে তাহলে ২০১৪ স্থগিত নিয়োগ থেকে হাজার হাজার পদ শূন্য রেখে আমাদের কেন নিয়োগ বঞ্চিত করা হলো? ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই প্রকাশিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ১২ হাজার মত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে এই তথ্য তৎকালীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বিভিন্ন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছিলেন।

অথচ ২০১৮ সালের (২০১৯ সালে) অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নিয়োগ থেকে শূন্য পদের বিপরীত ১৮ হাজারের বেশি নিয়োগ দেয়া হয় যা ২০১৪ স্থগিত (২০১৮ সালে) অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দের সাথে চরম বৈষম্য করা হয় যা বাংলাদেশ সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। বাংলাদেশর সংবিধানের ২৯ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সকল নাগরিক সরকারি চাকরি লাভের সমান সুুযোগ পাবে কিন্ত ২০১৪ স্থগিত (২০১৮) সালে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা সব দিক দিয়ে বৈষম্যর স্বীকার। একদিকে ৪৩ হাজার পুল-প্যানেলের জটিলতায় পৃষ্ঠ অন্যদিকে হাজার পদ শূন্য রেখে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা। ৪ বছর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত বন্ধ থাকায় চাকরিতে প্রবেশের বয়সীমার বাধার ফলে আমরা অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছি সকল যোগ্যতা থাকার পরও আবার ২০১৮ সালের সার্কুলারে ১২০০০ নিয়োগ দেয়ার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও শূন্যপদের ভিত্তিতে ১৮ হাজারের বেশি নিয়োগ প্রদান করা হলো একটা বিতর্কিত নিয়োগ থেকে। তাহলে কেন মাঝ খান থেকে আমরা বঞ্চিত হলাম? (২০১৪ স্থগিত) ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকলকে প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করে আমাদের জীবনের ৪ বছর সময়ের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ২০১৪ স্থগিত (২০১৮) সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থী রা নানা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে নিয়োগের দাবী জানিয়ে আসছে এর ধারাবাহিকতায় ১২ জুলাই ২০২০ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে ২০১৪ স্থগিত (২০১৮) সালে অনুষ্ঠিত প্রার্থীদের প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করার জন্য। ২৪ জুলাই ২০২০ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এই করোনাভাইরাসের মহামারী সময়েও শত শত প্যানেল প্রার্থী নিয়োগের দাবীতে রাস্তায় নেমে আসে। গত ০৩-০৯-২০২০ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে স্মারকলিপি প্রদান এবং মহান জাতীয় সংসদের সস্মানিত সদস্যদের সুপারিশ পত্র প্রদান করা হয়। ১৯৭৮৮ জন প্রার্থী মানবেতর জীবন যাপন করছি।

আমাদের ৪ বছরের ক্ষতির দিক গুলো অনুসন্ধান করে ২০১৪ স্থগিত নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৯৭৮৮ নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীকে প্যানেল ভুক্ত করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে দেশ ও জাতির সেবা করার সুযোগ প্রদান করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার প্রার্থীদের পুর্নবাসনের মাধ্যমে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিয়ে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী চিরস্মরণীয় করা হোক।

লেখক।।
সালেহা আক্তার
আহ্বায়ক

আকতারউজ্জামান
যুগ্ম আহ্বায়ক
২০১৪ স্থগিত (২০১৮) সালে অনুষ্ঠিত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটি

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

সালমান শাহর জন্মদিন আজ

আচ্ছা, সালমান শাহ যেখানে আছেন, সেখান থেকে কি ভক্তদের ভালোবাসা টের পান? তিনি নেই ২৪ বছর, এত দীর্ঘ সময় পরও তাঁর জন্য বিচার চেয়ে...

শিবিরের পক্ষে ভিপি নূর, হুশিয়ারী ঢাবি ছাত্রলীগের

জামায়াত শিবিরের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুররের প্রকাশ্য অবস্থান নেয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পাসে সমাবেশ করে...

জন্মদিনে মোদিকে শুভেচ্ছা জানায়নি চীন ও পাকিস্তান

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭০তম জন্মদিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। এদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মোদিকে শুভেচ্ছা জানালেও প্রতিবেশী চীন ও পাকিস্তান জানায়নি। আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে...

পাটগ্রামে ধরলা নদী থেকে ভারতীয় যুবকের লাশ উদ্ধার

এস এম আলতাফ হোসাইন সুমন, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি।। লালমনিরহাটে পাটগ্রাম উপজেলায় বুড়িমারী সীমান্তে ধরলা নদীর প্রবল স্রোতে ভারত থেকে আলীবুল ইসলাম (২০) নামের এক যুবকের...
%d bloggers like this: