মাগুরায় চার খুন: ১৭ জনের জামিন, ৪১ জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

- Advertisement -

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১৫ অক্টোবর সংঘাতে আপন দুই ভাইসহ চারজন খুন হন। এর মধ্যে একপক্ষের তিনজন এবং অন্যপক্ষের একজন রয়েছেন। ওই ঘটনায় আহত হন আরও ২০ জন। খুনের ওই ঘটনায় দুইপক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে।

এর মধ্যে তিনজন মারা যাওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় (ট্রিপল মার্ডার) আসামি করা হয়েছে ৬৮ জনকে। ওই মামলায় ৬২ আসামির আগাম জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনের চার সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করে আদেশে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

অন্যদিকে, একই মামলায় অপর ৪১ জনকে চার সপ্তাহ পর বিচারিক (নিম্ন) আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন আদালত।

বুধবার (১০ নভেম্বর) আগাম জামিন আবেদন শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদ উদ্দিন। জাগো নিউজকে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আইনজীবী আসাদ উদ্দিন জানান, ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় মামলা হয়। ১৫ অক্টোবর হত্যাকাণ্ড হলেও মামলা দায়ের হয় ১৮ অক্টোবর। আমরা আজ ৬২ জনের জন্য আবেদন করি। তিনজন ইতোমধ্যে গ্রেফতার হওয়ায় এবং একজন না আসায় মোট ৫৮ জনের জন্য আগাম জামিন চাওয়া হয়। তাদের ১৭ জনকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন এবং ৪১ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

জানা যায়, তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় ৬২ আসামির জামিন আবেদন ছিল মোট ১২টি। হাইকোর্ট বিভাগে যার ক্রমিক নম্বর ছিল ৭৩ থেকে ৮৪ পর্যন্ত।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী নজরুল ইসলাম ও সৈয়দ হাসানের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ১৫ অক্টোবর বিকেলে নজরুল সমর্থকরা প্রতিপক্ষ সৈয়দ হাসানের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। এ সময় হামলাকারীরা রহমান মোল্লা (৫৪), সবুর মোল্লা (৫২) ও কবির মোল্লাকে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করেন। এদের মধ্যে কবির মোল্লা ও সবুর মোল্লা আপন ভাই।

পরে সৈয়দ হাসানের সমর্থকরা নজরুল গ্রুপের ইমরান হোসেনকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করেন বলে স্বজনদের অভিযোগ।

ঘটনার তিনদিন পর ১৮ অক্টোবর নিহত সহোদরদের ভাই আনোয়ার হোসেন ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৬৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এছাড়া ২০ অক্টোবর নিহত ইমরানের মা ৫২ জনকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন।

ঘটনার দিন রাতে চারজনকে আটক করা হলেও মূল আসামিসহ অন্যরা থেকে যান ধরা ছোঁয়ার বাইরে। পরে মাগুরা সদর থানা থেকে ২৪ অক্টোবর এ মামলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।

মাগুরা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, গত রোববার ঢাকার গাবতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে এ মামলার প্রধান আসামি নজরুল মেম্বারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ট্রিপল মার্ডার মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। অপরদিকে ইমরান হত্যা মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ