মাদক পরিবহনের বিশেষ রুট ফেনী, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

- Advertisement -

ফেনীকে মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ রুট হিসেবে বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার করছে মাদক পাচারকারীরা। বছরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ মাদক বহনকারীরা আটক হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময় অনেকেই ধরা পড়লেও মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং আইনের ফাঁকফোকরে জামিনে এসে অনেকেই একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে এ অঞ্চলে মাদকের বিস্তার কোনোভাবেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর দাবি, মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে তারা।

কখনো দরজার ফ্রেমে, আবার কখনো গাড়ির তেলের ট্যাংক অথবা ড্যাশবোর্ডে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে নিত্যনতুন এমন অনেক কৌশল অবলম্বন করে থাকে মাদক কারবারিরা। আর মাদকের এই ব্যবসার সঙ্গে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জড়িয়ে পড়ছে জনপ্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অনেক বিপথগামী সদস্যও। ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ফেনীর ১০২ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে ভারতের এসব মাদক এ দেশে এসেছে। অথচ মূল যে মাদক কারবারিরা তারা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত ২৭ জুলাই ৪ বিজিবি প্রায় ১৭ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদক ধ্বংস করে।

এ ছাড়াও ফেনীর জেলা পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত জেলা পুলিশ, র‌্যাব এবং অন্যান্য সংস্থা মিলে মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৩ হাজার পিস ইয়াবা, ৮৫৯ কেজি গাঁজা, ৫০০ লিটার দেশীয় মদ এবং ৫ হাজার বোতল বিভিন্ন ধরনের বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে। আর এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে ৫৮৪ জনকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে ৪৫২টি মামলা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনাই স্পষ্ট করে যে ফেনীকে গোল্ডেন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। আর মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে বিজিবি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী লিস্ট শেয়ার করি। চোরাকারবারি কারা, কীভাবে কোন রুট ব্যবহার করছে–আমরা দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। সে অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান শরীফ বলেন, ‘আমরা দুইশ থেকে আড়াইশ অভিযান পরিচালনা করেছি। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। তাতে মাদকদ্রব্যসহ অপরাধীরা ধরা পড়ছে।’

ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন সাড়ে ১৬ হাজার মামলার মধ্যে শুধু মাদকের মামলা ৫ হাজারেরও বেশি। মাদক কারবারিদের রুট হিসেবে ফেনীকে ব্যবহারের বিষয়টি নজরে আছে জানিয়ে জেলা পুলিশের তৎপরতার কথা জানালেন এই কর্মকর্তা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা বলেন, ‘আমরা মাদকের মূল অপরাধীদের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফেনীর রেলপথের ২৬ কিলোমিটার আর সড়কপথে ঢাকা-চট্টগ্রামে যাওয়া-আসায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতে ফেনীর ২৭ কিলোমিটার মহাসড়ক ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তাই মাদকের বিস্তার রোধে এই পথের মাদক কারবারিদের রুখে দেয়াটাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ