মায়েদের স্মরণে ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ আয়োজন

- Advertisement -

মা দিবসে ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের মায়েদের স্মরণে আয়োজন করেন এক বিশেষ অনুষ্ঠানের। সেই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মাঝে বাঙালি সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়াও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

জগতে ভালোবাসার প্রতীক অনেক কিছু হতে পারে। কিন্তু মায়ের ভালোবাসা সবসময় অকৃত্রিম, নির্মল ও স্বর্গীয় সুখের আবেশে মাখা। আর প্রবাসীদের কাছে মায়ের মমতার গুরুত্ব একটু ভিন্ন। হাজার হাজার মাইল দূর থেকে মায়ের চেহারা কল্পনা করে সব কষ্ট ভুলে থাকেন তারা। তাই এ দিবসটিতে প্রবাসীরা তাদের মায়েদের স্মরণ করছেন শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞ চিত্তে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ইতালিপ্রবাসী এক বাংলাদেশি বলেন, ‘মা দিবসে বিশ্বের সব মা-কে শুভেচ্ছা জানাই। আমি নিজেও একজন মা, দুই সন্তানের জননী। আজ আমার ছেলেরাও আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আজ আমি আমার মা-কে শুভেচ্ছা জানাতে পারিনি।’

অন্যান্য দেশের মতো ইতালিতেও বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয় মা দিবস। দিনটি ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলারও আয়োজন করা হয়। সবার অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন পরিবেশে সময় অতিবাহিত করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হয় বিশ্ব মা দিবস। এ হিসাব অনুযায়ী রোববার (৮ মে) সারা বিশ্বে পালন করা হয় মা দিবস। এই দিনটি মা-কে বিশেষভাবে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা জানানোর দিন।

দিবসটি বিশ্বজুড়ে মাতৃত্ব ও মাতৃসত্তার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য স্মরণ করিয়ে দেয়। আমাদের আবারও একবার স্মরণ করিয়ে দেয় পৃথিবীতে আমাদের পদচারণার মূল কান্ডারিকে।

ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য অনেক আগেই মায়েদের এবং মাতৃত্বকে সম্মান জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট রোববার বেছে নিয়েছিল। ষোড়শ শতকে এটি ইংল্যান্ডে ‘মাদারিং সানডে’ বলে পরিচিতি লাভ করে।

তবে ইতিহাসবিদদের মতে, জুলিয়া ওয়ার্ড হোই রচিত ‘মাদার্স ডে প্রক্লেমেশন’ বা ‘মা দিবসের ঘোষণাপত্র’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবস পালনের গোড়ার দিকের প্রচেষ্টাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

১৮৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের পৈশাচিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে শান্তির প্রত্যাশায় জুলিয়া একটি ঘোষণাপত্র লেখেন। এরপর যুদ্ধ শেষে পরিবারহীন অনাথদের সেবায় ও একত্রীকরণে নিয়োজিত হন মার্কিন সমাজকর্মী আনা রিভিজ জার্ভিস ও তার মেয়ে আনা মেরি জার্ভিস।

এ সময় তারা জুলিয়া ওয়ার্ড ঘোষিত মা দিবস পালন করতে শুরু করেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে আনা রিভিজ জার্ভিস ১৯০৫ সালের ৫ মে মারা যান।

মায়ের মৃত্যুর পর আনা মেরি জার্ভিস মায়ের শান্তি কামনায় ও তার সম্মানে সরকারিভাবে মা দিবস পালনের জন্য প্রচারণা চালান। তিন বছর পর ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার আন্দ্রেউজ মেথডিস্ট এপিসকোপাল চার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মা দিবস পালিত হয়।

১৯১২ সালে এ দিবসটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়। এই প্রচারণা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস ও জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করেন।

এরপর থেকেই প্রতিটি দেশে মায়েদের সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এই দিনটি উৎসর্গ করা হয়। দেশে দেশে পালন করা হয় বিশ্ব মা দিবস।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ