মুজিববর্ষে বিদেশি অতিথিদের আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে ‘মুজিববর্ষ বাস্তবায়ন আন্তর্জাতিক উপকমিটির’ সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, মানুষের কথা বিবেচনায় এনে গণজমায়েতের পরিবর্তে অনুষ্ঠানমালার সূচির পরিবর্তন করা হয়েছে। আমরা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে, তারাও চিঠির জবার দিয়েছেন। পরিবেশ ভালো হলে আগামীতে বড় অনুষ্ঠান করা হবে। তাছাড়া মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান একদিনের জন্য নয়, এটা বছরব্যাপী অনুষ্ঠান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জানিয়েছেন,আমরা খুব ভাগ্যবান বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ায় বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী পালন করার সুযোগ এসেছে। তারা নিশ্চয়ই চান বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠান হোক। যেহেতু এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাই বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা কমিটির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন কী করা হবে। তখন কমিটির সবাই বললেন, আমরা ১৭ মার্চ উদযাপন করব। তবে যেহেতু বঙ্গবন্ধু চেয়েছেন মানুষের যেন কোনো অমঙ্গল না হয়, তার কন্যারাও চান কেউ যেন করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে না পড়ে। সে জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম জনসমাগম এড়িয়ে চলব। এ ছাড়া দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।

আবদুল মোমেন বলেন, বিশ্বে করোনাভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠান সীমিত করেছে, ইউএনসহ অন্যান্য সংস্থা অনেক অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে। আমাদের মন্ত্রণালয় দেশ সফর সীমিত করেছে। তাছাড়া আমরা ছয়টি দেশের (চীন, ইরান, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড) ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখছি। সে সব দেশ থেকে আমাদের দেশে আসতে মেডিকেল টেস্ট করার কথা বলেছি। জরুরি না হলে দেশে আসতে অন্যান্য দেশে বসবাসরতদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে অংশ নিতে যে সব বিদেশি অতিথিদের আসতে বলা হয়েছিল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তাদের আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে অন্য দেশগুলো থেকে কোনো ধরনের বাধা-নিষেধ না থাকলে দেশের বাইরে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানমালা স্থগিত করা হচ্ছে, বাতিল নয়। সময় বুঝে মুজিববর্ষ উদযাপনের সব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও ওআইসিসহ সব ধরনের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে থাকা সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, প্রবাসী, রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৭ মার্চ বাংলাদেশে আসছেন না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছি যে, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের জন্য আয়োজিত বিশাল সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রিত ছিলেন। বাংলাদেশ সরকার আমাদের পরামর্শ দিয়েছে,এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানের জন্য নতুন তারিখ পরে জানানো হবে। এরই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির বাংলাদেশ সফর স্থগিত করা হচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় ভারত-বাংলাদেশ এক সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: