মৌলভীবাজারে চামড়া কেনার ক্রেতা নেই; চামড়া যাচ্ছে এতিমখানা ও মাদ্রাসায়

জোবায়ের আহমদ, মৌলভীবাজার।।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও মৌলভীবাজারের বহু মানুষ পশু কোরবানি দিয়েছেন। কিন্তু কোরবানির গরু ও ছাগলের চামড়া কিনতে এবারে বাসা-বাড়িতে তেমন ক্রেতা আসেনি। ছাগলের চামড়ার ক্রেতা একেবারেই নেই। ফলে শেষমেশ বাধ্য হয়ে বেশীরভাগ এলাকার বাসিন্দারা বিক্রি না করে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করে দিচ্ছেন। মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো থেকে স্বল্প মূল্যে সেসব কিনে নিচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

অন্যদিকে, “জাতীয় সম্পদ চামড়া, রক্ষা করবো আমরা” এই স্লোগান সামনে রেখে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় কর্তৃক ঈদুল আজহার কোরবানীর প্রাণীর চামড়ার সঠিক সংরক্ষণ এবং ক্রয় বিক্রয়ে তদারকি করছে।

শনিবার (১ আগস্ট) পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় কর্তৃক সদর উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং মসজিদে গিয়ে সরকারি কর্তৃক নির্ধারিত দামে চামড়ার ক্রয় বিক্রয় বিষয়ে তদারকি করা হয়। চামড়ার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দাম না পেলে অথবা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করলে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে উল্লেখ করে মাদ্রাসা এবং এতিমখানার কর্তৃপক্ষকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়। কোরবানী প্রাণীর চামড়ার অর্থ গরিব এবং এতিমরা পেয়ে থাকে উল্লেখ করে ক্রেতা সাধারণদের সরকারি নির্ধারিত দামে ক্রয় করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়াও সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করতে অধিদপ্তর কর্তৃক প্রেরিত লিফলেট ক্রেতা বিক্রেতাদের মাঝে বিতরণ করা হয়।


আরও পড়ুন


ঈদের দিন শনিবার (১লা আগস্ট) সকাল থেকেই ব্যবসায়ীদের নিয়ে আসা চামড়া কিনতে শুরু করেন পাইকাররা। গত বছর ঈদুল আজহায় গরুর চামড়া ১৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় কিনেছেন তারা। এ বছর ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কিনছেন পাইকাররা।অন্যদিকে ছাগলের চামড়ার নির্ধারিত দাম দিচ্ছেন না পাইকাররা। চামড়ার বিনিময়ে কেউ চা-পানের টাকা দিচ্ছেন,আবার কেউ বা মন চাইলে বিনামূল্যে তা রেখে যাচ্ছেন।

কোরবানি দিলেও পশুর চামড়া বিক্রি করতে পারেননি শহরের শাহমোস্তফা রোডের বাসিন্দা এবাদুর রহমান। তিনি জানান, কোরবানির জন্য ৯৪ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছেন। ঈদের নামাজের পর সেই গরু কোরবানি দিলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত চামড়ার কোন ক্রেতা আসেননি। বাধ্য হয়ে সন্ধ্যায় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় খবর দিয়ে চামড়াটি দান করে দিয়েছেন তিনি।

মৌলভীবাজার শহরের একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, এ বছর খুচরা কোনো চামড়ার বিক্রেতা মাঠে ছিল না। যার কারণে লোকজন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অধিকাংশ চামড়া দান করে দিয়েছেন। মাদ্রাসার ছাত্ররা এসব চামড়া একত্রিত করে পাইকারি বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। সদর উপজেলার শাহ বন্দর এলাকার বাসিন্দা সামছুল ইসলাম জানান, তারা দুটি গরু কোরবানি দিয়েছেন। গরু দুটি ১লাখ ৬০হাজার টাকা মূল্যের। এক ক্রেতা এসে ১শ’ টাকা করে দু’টি চামড়ার জন্য ২শ’ টাকা দিতে চেয়েছেন। পরে চামড়াগুলো তার কাছে বিক্রি না করে মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেন।

এবিষয়ে সদর উপজেলার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহর ও সদর এলাকার মতই এসব এলাকাতেও একই অবস্থা। খুচরা বিক্রেতারা মাঠে না থাকায় অধিকাংশ মানুষই মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চামড়া দান করেছেন।

শাহিন মিয়া চামড়া ব্যবসায়ী বলেন -ট্যানারি মালিক বা ব্যবসায়ীদের কাছে মৌলভীবাজারের চামড়া ব্যবসায়ীদের কয়েক লাখ টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। প্রতি বছর কোরবানির পূর্বে কিছু টাকা ট্যানারি ব্যবসায়ীরা দিলেও এবারে খালি হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই নতুন করে দেনাগ্রস্ত হতে রাজি হননি অনেকেই। এজন্য বহু ব্যবসায়ী এবার চামড়া কেনা থেকে বিরত রয়েছেন। তিনি আরও বলেন,মৌলভীবাজারে ১৫/২০জন চামড়ার পাইকারি ব্যবসায়ী ছিলেন,যারা স্থানীয়ভাবে চামড়া সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতেন। কিন্তু চামড়ার দরপতন অব্যাহত থাকায় এবং ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা আটকে যাওয়ায় বর্তমানে চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমেগেছে। এবারে মাত্র ২/৩জন ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহ করছেন। ফলে স্থানীয় বাজার থেকে আমাদের চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ কমে গেছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: