যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কী এমন ভরসা পেল তাইওয়ান

- Advertisement -

সামরিক সক্ষমতার দিক দিয়ে তাইওয়ানের চেয়ে অনেক এগিয়ে চীন। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা মনে করেন, আত্মরক্ষায় প্রতিরোধ যুদ্ধে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে তাইওয়ান। আর এর মাধ্যমে বেইজিংয়ের (চীন) আক্রমণ মন্থর করে দেয়ার সক্ষমতা রাখে তাইপের (তাইওয়ান) সেনারা।

প্রশ্ন হচ্ছে, সামরিক শক্তিতে সমৃদ্ধ একটি দেশের সঙ্গে (চীন) কীভাবে তাইওয়ানের মতো একটি ছোট দেশের যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিল? কার ভরসায় তাইওয়ান যুদ্ধে জড়াবে?

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, স্থলভাগের পাশাপাশি গেরিলা যুদ্ধ প্রতিরোধের সময় বাইরের দেশের সামরিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে তাইওয়ানের। সামরিক শক্তির বিবেচনায় চীনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে তাইওয়ান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, চীন কোনোদিন তাইওয়ানে সশস্ত্র হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে।

এরই মধ্যে গত বছর তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবে সম্মতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে রয়েছে এফ সিক্সটিন যুদ্ধবিমানের সেন্সর, মিসাইল, রকেট লঞ্চারসহ অত্যাধুনিক রণসরঞ্জাম।

সবশেষ তাইপেকে প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। নতুন এই অস্ত্রগুলো দিয়ে যুদ্ধজাহাজ, বিমান, সাবমেরিন ধ্বংস করা সম্ভব বলে জানায় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অস্ত্রের সাহায্যে তাইওয়ান তাদের উপকূল রক্ষা করতে পারবে।

আর্মড ফোর্সেস ডট ইউএর তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রায় ২৮০টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড আছে। তবে বিভিন্ন সূত্রমতে, চীনের ৩৫০ বা ৪০০টির মতো পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৫ বার পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। অপরদিকে তাইওয়ানের হাতে এ মুহূর্তে কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র নেই। তবে দেশটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় গোপনে পারমাণবিক গবেষণা ও কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লি মিংজিয়াং বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আরও বেড়েছে। এটি চীনে স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধারণা থেকে বেইজিংয়ের সামরিক হুমকির বিষয়টি সামনে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় থেকেই তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের আশঙ্কা বেড়েছে। বেইজিংয়ের ধারণা, ওয়াশিংটন ক্রমে তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী বন্ধু হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র আর ‘এক চীন নীতিকে’ সম্মান দেখাচ্ছে না। এ ছাড়া ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের তাইওয়ানে সফরও বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাতে চীনের কড়া হুঁশিয়ারির পরও তাইওয়ান সফরে আসেন ৮২ বছর বয়সী পেলোসি। ২৫ বছরের মধ্যে তাইওয়ান সফর করা সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ মার্কিন রাজনীতিবিদ তিনি। আর এতেই ক্ষুব্ধ ও নিরাপত্তা উদ্বেগে পড়েছে চীন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ