রমজান মাসকে নিয়ে নিত্যপণ্যর দাম বৃদ্ধিতে উপকূলে বসতকারীরা দুর্দশায়

মোঃ আলফাত হাসান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
- Advertisement -

উপকূলের দুঃখ কষ্ট, যন্ত্রণা, যুগ যুগ ধরে উপকূলের মানুষদের আয়ের উৎস নদীতে মাছ ধরা, জলে কুমির ডিঙ্গাই বাঘ জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ গোয়ালপাতা, কাঁকড়া, মাছ, সুন্দরবনে বিভিন্ন রকম উপার্জনে ব্যস্ত থাকে উপকূলবাসী, আবার অনেক মানুষ বিভিন্ন পেশার কাজ করতে যায় নানা জেলার শহরে।

এরই ভিতর বাজার সিন্ডিকেট, সিন্ডিকেটের কারসাজি নতুন নয়, কিন্তু করোনার অভিঘাতে মানুষ বড় অসহায় হয়ে পড়েছিল। মানুষ অনেকটাই নিঃস্ব, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য না কমালে মানুষের সব কিছু নাগালের বাইরে চলে যাবে, তাহারা দাঁড়াবে কোথায়? সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা দুবেলা দুমুঠো ভাত, এটার জন্য সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করলেই অনেকটাই সমাধান সম্ভব।

নিত্যপণ্যের বাজার ক্রমশই লাগামহীন হয়ে পড়েছে। করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই পরিস্থিতি কেমন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে,সবজির দাম বাড়লেও কৃষক যে লাভবান হবে তা কিন্তু হচ্ছে না। কৃষক যেসব পণ্যের দাম ৫ টাকা পাচ্ছে সেসব পণ্য শ্যামনগরের বিভিন্ন বাজারে আসতে আসতে তিনগুণ দাম বাড়ছে, অর্থাৎ একটি সিন্ডিকেট এ দাম বাড়াতে মূল ভূমিকা পালন করছে, দেশে দ্রব্যমূল্য বাড়ার এই অস্বাভাবিক অবস্থায় দিশাহারা মানুষ, তারপরও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে।

সবকিছুর দাম বাড়লেও বাড়ছে না কেবল মানুষের আয়, এ অবস্থায় শহুরে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে টিকে থাকা দায়, ঠিক তেমন অসহায় আর দারিদ্র্য উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুর্দশার শেষ নেই, এই অবস্থায় ভালো নেই মধ্য আয়ের কর্মজীবী মানুষ। এরাই এখন সবচেয়ে দুঃসময়ে, মানুষের দুঃসময়ে শুধু খাদ্যদ্রব্য নয়, জীবন-যাপনে প্রয়োজনীয় সবকিছুর দামই হু হু করে বাড়ছে, এতে চরম বিপাকে অসহায় হয়ে উঠেছে মধ্য আয়ের মানুষেরও, মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা ব্যক্তিরাও এখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, বাসা ভাড়া, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, অফিসে যাতায়াতসহ সংসারের যাবতীয় খরচের সঙ্গে যোগ হয়েছে নিত্যপণ্যের লাগামহীন বাড়তি মূল্য, রমজান মাস শুরু, অথচ বাজার অস্থির হয়ে আছে, যেটা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। বাংলাদেশে একবার কোনো পণ্যের দাম বাড়লে আর কমতে চায় না, এটা যেন স্বাভাবিক নিয়মে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে এমন ঘোষণায় দাম বাড়ে বারে বারে এবারে রমজান ও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পণ্য মূল্য আবার বাড়ায় মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়েছে।
ন্যায্যমূল্যে দ্রব্য বিক্রির গাড়ির পেছনে মানুষের লাইন ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে, দেশের একটি অনিয়ম নিয়ম হয়ে গেছে, রমজানের সময় মূল্য বেড়ে যায়, কেন বাড়ে, কারা বাড়ায় এটা দেখভাল করার কেউ আছে বলে আমাদের মনে হয়নি, এবারও দ্রব্য মূল্য বেড়েই চলেছে, এরপর কী হবে তা জানে না কেউ, সরকার বিভিন্ন বিষয়ে নজর দেয়ার কথা বললেও সিন্ডিকেটকে কোনোমতে ভাঙা যাচ্ছে না।

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চলতি সপ্তাহে দাম বেড়ে উঠেছে সবকিছুতেই, চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি, অপরিবর্তিত রয়েছে ডিম, মাছ ও মুরগির দাম, শ্যামনগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরলে যে চিত্র দেখা যাবে সেটা সাধারণ মানুষের জীবন-যাপনের বাইরে, এসব চিত্র সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের চোখে পড়ার কথা ছিল, কারণ শীতের মৌসুমের শুরুতে কফি বরবটি, বেগুন, ছীমের যে দাম ছিল এখনও তাই। কোথাওবা বেশি।

বরবটি কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি ব্যয় করতে হচ্ছে ৭০- থেকে ৮০ টাকা, তবে ২৫০ গ্রাম কিনলে গুনতে হচ্ছে ২০ টাকা। এর মধ্যে বাজারে নতুন আসা ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ভালো মানের করলার কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, সাধারণ মানের করলা ৮০ টাকা কেজি পাওয়া যাচ্ছে, বরবটি ও ঢেঁড়সের এমন দামের বিষয়ে শ্যামনগরের ভৈটখালী বাজারের জনৈক ব্যবসায়ীর অভিমত নতুন আসা ভালো মানের কাঁচা মালামালের দাম এখন একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, ভালো জিনিস নিতে খরচ বেশি হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে ভালো জিনিসের দাম বেশি সেটাই বিশ্বাস করা গেল, কিন্তু সে দাম কৃষক কেন পায় না? কৃষক-শ্রমিক যদি তার উৎপাদিত ফসলের দাম পেত তাহলে এ সংকট তৈরি হয় না, কিন্তু বার বার একই ঘটনা ঘটলেও এর থেকে কোনো পরিত্রাণ নেই।

শীতের সবজি শালগম, মুলা,শিম, লাউ সবছিুর দাম শীত শুরুর দামের চেয়ে কোথাও বেশি,দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে আলু, বেগুন, কুমড়ো, বরবটি, কচুর লতি, ঢেঁড়স,পটল,পাঁকা কলা ও, মাছবাজারে রুই, কাতলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ৪০০ টাকা। দাম বাড়ার ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে, কোনো বস্তুর দাম সরকার বেঁধে দেয়ার নিয়ম হারিয়ে গেছে,যে যা পারে দাম হাঁকলেই হলো।

এভাবে দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকলে মানুষ যাবে কোথায়? করোনাকাল শেষ হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনও দুর্বল। করোনার প্রথম দিকে যারা উপকূলীয় অঞ্চল ছেড়েছিল তাদের আশা ছিল আবার উপকূলের জন্মস্থানে ফেরার,আবার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর, কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি, বরং বাল্য বিয়ে আর শিশুশ্রম বেড়েছে, বেড়েছে শিশু-কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা, ক্ষুদ্র -মাঝারি ব্যবসায়ীরা করোনা-প্রনোদনা পেলে আবার উঠে দাঁড়াতে পারে উপকূলবাসী।

সারা দেশে, করোনা-প্রনোদনা পেয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ৪৬ ভাগ,এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি, দেশের খুলনা, সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল ঘুরে সবজির যে চিত্র দেখা গেছে তা খুবই করুণ, কৃষকের ১০ টাকার পণ্য বাজার আসতে আসতে ২৫ টাকা।

পাড়ার ভ্যানে ভ্যানে সেসবই ৩৫/৪৫ টাকা, ট্রাক ভাড়া, পথে চাঁদা দিতে দিতে দামের লাগাম টানা দুষ্কর হয়ে পড়ে, এর নাম সিন্ডিকেট, এই সিন্ডিকেটের হাতে সয়াবিন তৈল থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, এই সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে নিম্ন-আয়ের মানুষের অচিরেই সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলের ছাড়তে হতে পারে হাজার ও পরিবারের,সরকার এটা জানে না তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।

সিন্ডিকেটের কারসাজি নতুন নয়, কিন্তু করোনার অভিঘাতে মানুষ বড় অসহায়, আবার এদিকে সুন্দরবনের রাজস্ব দ্বিগুণ হওয়ায় বিপাকে উপকূলের জেলেরা।

অন্যদিকে উপকূল থেকে যে দিনমজুর শ্রমিকরা অন্য জেলা গুলোতে কাজ করতে যাই তাদের যে পাওনা, তাদের কাজের মূল্য বেতন স্থিতিশীল, উপকূলের মানুষগুলো অনেকটাই নিঃস্ব, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য না কমালে মানুষের সব কিছু নাগালের বাইরে চলে যাবে, দাঁড়াবে কোথায়? সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা দুবেলা দুমুঠো ভাত, এটার জন্য সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করলেই অনেকটাই সমাধান সম্ভব, তা না হলে এলাকাভেদে কৃষকদের সমিতি করে তাদের পণ্য পরিবহনের জন্য একটা ট্রাক কিনে দিলে কৃষক তার পণ্য নিজেই বাজারে নিতে পারবে অন্যদিকে উপকূলের বনজীবিদের রাজস্ব আদায়ের দিকে সরকারের মানবিক বিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যস্বত্বভোগী না থাকলে সিন্ডিকেট দুর্বল হয়ে যাবে। মানুষের সংকট লাঘব হবে, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বাজারে নজরদারি না করলে সংকট নিরসন সম্ভব নয়। বাজার অস্থির হওয়ার ব্যাপারে বার বার বিভিন্ন সিন্ডিকেটের নাম উঠে আসে, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপই পারে যেকোনো সংকট নির্মূল করতে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল পণ্যমূল্য কমাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ