রায়পুরের চরকাচিয়ায় পুলিশের অভিযানে আলতু ডাকাতের সেকেন্ড ইন কমান্ড আটক

রায়পুরের চরকাচিয়ায় পুলিশের অভিযানে আলতু ডাকাতের সেকেন্ড ইন কমান্ড আটক। ভোলা, মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, লক্ষ্মীপুর ও রায়পুরের দুর্গম চরাঞ্চল ও মেঘনার জেলেদের নিকট এক মূর্তিমান আতঙ্ক কুখ্যাত জলদস্যু আলতু ডাকাতের প্রধান সহযোগী আলিম ডাকাতকে গতকাল রাত ৮ টায় রায়পুর থানার এসআই অসীম ধরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে রায়পুর থানাধীন ৮ নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের পশ্চিম চর কাচিয়ার ৭ নং ওয়ার্ড়ের দুর্গম উপকূলীয় চরাঞ্চল এলাকা থেকে কুখ্যাত ডাকাত সম্রাট আলতু বাহিনীর প্রধান সহযোগী আলিম ডাকাতকে গ্রেফতার করে।

আলতু ডাকাতের প্রধান এই সহযোগীকে গ্রেফতারের সংবাদে এলাকার সাধারণ নিরীহ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ এসআই অসীম ধরের এমন দুঃসাহসিক অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এই প্রথম বার বিচ্ছিন্ন দুর্গম চর এলাকা থেকে কুখ্যাত ডাকাত সম্রাট আলতুর প্রধান সহযোগীকে গ্রেফতার করায় রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব আব্দুল জলিলের এমন কার্যকরী সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রের ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকারের বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে পালন করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন দক্ষিণ চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজী।

এক সময়ের ছিঁচকে চোর জেলে নৌকার মাঝি আলতু এখন ডাকাত সম্রাট দুর্গম চরাঞ্চলগুলো তার অভয়ারণ্যে। আলতু ডাকাতের আন্তঃজেলার সক্রিয় সদস্যরা এক স্থানে ডাকাতি করে সেই সমস্ত ডাকাতি ও লুটপাটের মালামাল নৌ-যোগে অন্য স্থানে নিয়ে আত্মসাৎ করে বলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়। তাদের ভয়ে ওই জনপদের মানুষ সর্বদা আতঙ্কে থাকে।


আরও পড়ুন>>


আলতু ডাকাত চক্রের দ্বারা নৃশংস হামলার শিকার মরিয়ম বিবি (৪৫) নামের এক নারী গত ১৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভোলার কুখ্যাত ডাকাত সর্দার আলতুকে প্রধান আসামি করে ৩২ জন কে এজাহারনামীয় আসামী করে নামে দণ্ডবিধি ১৪৭, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৭৮, ৩৮০, ৩৮৫, ৫০৬, ৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আলতু ডাকাত ও তার সহযোগীরা ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের পশ্চিম চর কাচিয়ার বাসিন্দা মরিয়ম বিবি’র পরিবারের নিকট থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবিতে ও লুটপাট চালিয়ে ৩২ টি গরু ২৮টি ছাগল ঘরের আসবাবপত্র, ২ টি পাওয়ার টিলার, দুটি সোলার প্যানেল, মাছ ধরার একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে সন্ত্রাসীরা ওই দিন মোট ৩০ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার মালামাল লুটপাট করে।

মামলার বাদী মরিয়ম বিবি বলেন, কুখ্যাত এই সন্ত্রাসীরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। এদের অত্যাচারের ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তাদের দাবি কৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় আমার পরিবারের উপর এমন জঘন্য হামলা চালিয়ে গবাদিপশু ও মালামাল লুটপাট করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর অসীম ধর বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, আলতু ডাকাতের অন্যতম সহযোগীরা দক্ষিণ চরবংশী এলাকায় অবস্থান করছে। তখন আমরা ওসি আব্দুল জলিল স্যারের নির্দেশে আমাদের সঙ্গীয় ফোর্স দিয়ে আলিম ডাকাতকে ধরতে সক্ষম হই। আমরা তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করবো। ভবিষ্যতে সকল আসামিদের কে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব আব্দুল জলিল বলেন, পর্যায়ক্রমে আমরা সকল আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রাখব। যাতে করে রায়পুরে কোন প্রকার সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ঘটনা ঘটতে না পারে। যারা এধরনের কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য যে, এই সন্ত্রাসীরা এর আগেও বরিশাল ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে লুটপাট, ডাকাতি, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতনসহ নানা অপকর্ম করে আসছে। ২৩ নভেম্বর ২০২০ তারিখে এই সন্ত্রাসীরা ভোলার চরে দুর্ধর্ষ হানায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অসংখ্য নারী পুরুষকে রক্তাক্ত জখম করে ও অঙ্গ হানির মতো নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং একের পর এক চরবাসির কোটি টাকার অধিক মূল্যের গবাদিপশু ও মালামাল লুটপাট করে অসংখ্য পরিবার কে নিঃস্ব করে দেয় । গ্রেফতারকৃত আলতু ডাকাতের প্রধান সহযোগী আলিমের বিরুদ্ধে ভোলা সদর থানারসহ বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি,ডাকাতি ও লুটপাটের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: