রায়পুরে দুই ধর্ষককে আটক করেছে পুলিশ

রায়পুরে দুই ধর্ষককে আটক করেছে পুলিশ, ভায়রার মেয়েকে কামরুল নামের এক ব্যক্তি তুলে নিয়ে ১৩ দিন আটকে রেখে এবং সমাধিতে ধূপকাঠি জ্বালাতে যেয়ে নিখিল চন্দ্র দাস নামে এক মাদকসক্তের পাশবিকতার ধর্ষণের শিকার হয় ১ শিশু।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রুস্তুমপুর গ্রামে আপন খালু ভাগ্নিকে ব্লাকমেইল করে দুই বছর ধরে শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তোলে। সম্পর্ক রাখতে রাজি না হওয়ায় পাশের জেলা লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের নতুন বাজার ১৩ দিন আটক রেখে ধর্ষণ করে। পরিবারের লোকজন অভিযুক্ত ধর্ষক কামরুল হোসেন (৪০) কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটককৃত ধর্ষক কামরুল রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের মোল্লারহাট গ্রামের ।

জানা গেছে, রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রুস্তুমপুর গ্রামের ওই কিশোরী গৃদকালিন্দিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার আপন খালু কামরুল ইসলাম গত দুই বছর পূর্বে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও চিত্র ধারণ করে রাখে। পরে ভিডিওর ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ দুই বছর তাকে ধর্ষণ করে আসছে।

সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে কৌশলে অপরহরণ করে পার্শ্ববর্তী জেলা: লক্ষ্মীপুর রায়পুর উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় একটি বাসায় আটক রাখে। সেখানে টানা ১৩ দিন কিশো

রীকে ধর্ষণ করে। এদিকে মেয়ের খোঁজ করে এক পর্যায়ে তার পরিবারের লোকজন গত বুধবার রাতে রায়পুর উপজেলার নতুন বাজার এলাকা থেকে কামরুল ইসলামকে আটক করে এবং মেয়েটি উদ্ধার করে। পরে তাকে রায়পুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। রায়পুর থানা পুলিশ ওই ধর্ষককে পরিদগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। পরে মেয়েটির মা শামছুন্নাহার বাদী হয়ে ধর্ষণ ও পর্ণগ্রাফী আইনে রাতেই ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শহিদ হোসেন জানান, রাতেই মামলা গ্রহণ করে অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া ভিকটিম কিশোরীটিকে ডাক্তারি পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনী বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চাঁদপুর প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নে সমাধিতে ধুপকাঠি জ্বালাতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের কন্যা শিশু।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার শিকার হয় সে। ধর্ষক নিখিল চন্দ্র দাসকে (৪৫) আটক করে পুলিশে দিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম সামু ও এলাকাবাসী।

জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কেরোয়া ইউ,পি’র নবদ্বীপ বেপারি বাড়ির নারায়ন দেবনাথের শিশু কন্যা সমাধিস্থলে সান্ধ্যকালীন ধুপকাঠি জ্বালাতে গেলে হঠাৎই পিছন থেকে একই এলাকার দাস বাড়ির মৃত কৃষ্ণ মোহন দাসের বখাটে ছেলে (মাদকসেবি) নিখিল চন্দ্র দাস শিশুটির মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী সুপারির বাগানে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা চালায়।

এমতাবস্থায় শিশুটির ফিরতে দেরি হওয়ায় তার মা সমাধির পাশে এসে তাকে না পেয়ে নাম ধরে ডাকতে থাকলে সে পার্শ্ববর্তী সুপারির বাগান থেকে কিঞ্চিৎ আওয়াজ করে। তখনই তার মা সেখানে ছুটে গিয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে ধর্ষককে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম সামুকে খবর দেয়।সামু ঘটনাস্থলে এসে নিশ্চিত হয়ে রায়পুর থানায় অবহিত করেন। পরবর্তীতে রায়পুর থানার এসআই মো. সাফায়েত ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে গিয়ে ধর্ষক নিখিলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল জলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন ধর্ষক নিখিলের বিরুদ্ধে এর আগেও রায়পুর থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।এ ব্যাপারে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে রায়পুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ফরিদগঞ্জের ঘটনা এবং রায়পুরের ঘটনায় কোন ছাঁড় না দেয়াই প্রমান করে পুুুলিশ আন্তরিক। ধর্ষক প্রভাবশালী হলেও কোন ছাঁড় নেই।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: