রায়পুরে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ, ভোটযুদ্ধে ফের মুখোমুখি আ ‘লীগ – বিএনপি

আসন্ন ২য় ধাপে সম্ভাব্য রায়পুর পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির একাধিক প্রার্থী দেখা গেলেও জাতীয় পার্টি, জামায়াত বা অন্য কোন দলের তেমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না। আ’লীগের ৪ হেভিওয়েট প্রার্থীর সাথে মনোনয়ন প্রত্যাশীও রুবেল ভাট, ভোট ফেয়ার হলে বিজয়ী হবে ধাঁনেরশীষ মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির।

রায়পুর পৌর এলাকা ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের খবর আসার সাথে সাথেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ দলীয় মনোনয়ন পেতে তদবীর শুরু করেছেন। তবে দলীর মনোনয়ন না পেলে অনেকেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন এমন আভাস ও পাওয়া গেছে।

আসছে পৌরসভা নির্বাচনে রায়পুর পৌরসভায় সরকারি দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যারা আলোচনায় আছেন তারা হলেন,জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এড. মিজানুর রহমান মুন্সি ,বর্তমান মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খোকন, সাবেক মেয়র রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর কাজী নাজমুল কাদের গুলজার, উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপ-কমিটির সাবেক সদস্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহসম্পাদক গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সাংবাদিক হারুনুর রশিদ পাটোয়ারী।

অন্য দিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন, পৌর বিএনপির সভা সাবেক মেয়র এবিএম জিলানী, ভিপি নজরুল ইসলাম লিটন ,যুবদলের সভাপতি সফিকুল আলম আলমাছ।এছাড়াও স্বতন্ত্র বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম মুরাদ।


আরও পড়ুন


এদিকে এ পৌরসভায় কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গণসংযোগ শুরু করেছেন। প্রার্থীদের তালিকায় বর্তমান কাউন্সিলরের পাশাপাশি সাবেক কাউন্সিলর ও অন্যান্য নতুন মুখও রয়েছেন। ঐসব প্রার্থী আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সমর্থন পেতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে অনেকেই সম্ভাব্য প্রার্থী হতে প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করেছেন পৌর এলাকায় গণসংযোগ। চলমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। তফসিল ঘোষণার আগেই বিভিন্ন কৌশলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে, তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ জনমনে প্রশ্ন কে হচ্ছেন এবার নৌকার মাঝি?কে হচ্ছেন ধাঁনেরশীষের প্রার্থী!

রায়পুরে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক উপ-কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট।

শনিবার (১৪ নভেম্বর) রায়পুর পৌর শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম ডাক বাংলায় আসন্ন রায়পুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক উপ-কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

ইতিমধ্যে মেয়র ও কাউন্সিলর পদের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। অনেকে গণসংযোগ, মতবিনিয়ম সভা শুরু করেছেন বিভিন্ন কমিটির নেতাদের সঙ্গে। তারই ধারাবাহিকতায় বাবুল পাঠান, নাজমুল কাদের গুলজার মতবিনিময় করেছেন

নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা বেশি তৎপর হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে মেয়র পদে দলের মনোনয়ন নিতে জেলা ও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের আশীর্বাদ পেতে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন তারা।

অনেকে ঢাকায় অবস্থান করে দলের নীতিনির্ধারক নেতাদের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে ঘরোয়া বৈঠকসহ সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন। ফলে দলের মধ্যে নানামুখী গ্রুপিং-লবিং দেখা যাচ্ছে।

অন্য দিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন, পৌর বিএনপির সভা সাবেক মেয়র এবিএম জিলানী, যুবদলের সভাপতি সফিকুল আলম আলমাছ।

এদিকে এ পৌরসভায় কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গণসংযোগ শুরু করেছেন। প্রার্থীদের তালিকায় বর্তমান কাউন্সিলরের পাশাপাশি সাবেক কাউন্সিলর ও অন্যান্য নতুন মুখও রয়েছেন। ঐসব প্রার্থী আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সমর্থন পেতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রার্থীদের মধ্যে সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মোঃ হারুনের রশীদ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বর্তমান, পূর্বের কেরোয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। বাবা মরহুম আবদুল জলিল মিয়া ১৯৭৭ সাল থেকে একটানা ২০ বছর কেরোয়া ইউপি আ’লীগ সভাপতি ও পৌর আ’লীগের নেতা ছিলেন। ছয় ভাই’র মধ্যে তিনি সকলে বড় ভাই। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে এম কম পাশ করে দেশের সুনামধন্য পত্রিকা দৈনিক জনকণ্ঠে ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ও পরে দৈনিক যুগান্তরের এ বিজ্ঞাপন প্রধান সহ বর্তমানে কালের কন্ঠে’র জেনারেল ম্যানেজার ও বিজ্ঞাপন প্রধান হিসাবে দায়ীত্ব পালন করছেন। তাদের পরিবারের সবাই ১৯৪৮ সাল থেকেই একই দল করে আসছে।


আরও পড়ুন


একজন প্রতিশ্রুতিশীল রাজনৈতিক ব্যাক্তি হারুনের রশীদ ১৯৭৮ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু আদর্শের ছাত্রলীগ রায়পুর এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শুরু করে ১৯৮২ সালে রায়পুর কলেজে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্মআহবায়ক হিসেবে এবং ১৯৮৫ সাল থেকে ঢাকা কলেজে এবং ২০০৩ সাল থেকে উপজেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকাস্থ রায়পুর যুব কল্যান সমিতির সভাপতি, ঢাকাস্থ রায়পুর উপজেলা কল্যান সমিতি, লক্ষীপুর জেলা সমিতি ঢাকা ও ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জেলা যুব কল্যান সমিতির যুগ্ন আহবায়ক। সামাজিক কর্মকান্ডেও নিজেকে সক্রিয় রাখছেন। রায়পুরের দলের অসহায় নেতা- কর্মীদের বিপদেও সহযোগিতা করে চলেছেন।বিশেষ করে ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতা হারানোর পর ঢাকায় কর্মীদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে সুনাম কুড়ান।

তিনি আ’লীগের মনোনয়ন পেলে ও নির্বাচিত হলে-পৌর ট্যাক্স নির্ধারন, কমিউনিটি বেইসড রাস্তা ঘাট নির্মাণ, প্রধান রাস্তাগুলোর টেকসই উন্নয়ন করা, নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, নাগরিক সেল গঠন, ডাকাতিয়া নদীর পৌরসভা অংশের দখল ও দুষন মুক্ত করে নিয়াপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। নদীর দু’পাশে ওয়াক ওয়ে নির্মাণ ও সৌন্দর্য বর্ধন করা। প্রস্তাবিত পৌর শিশু পার্কের কাজ দ্রুত সমাপ্ত করা। পাবলিক টয়লেট স্থাপন। পুরো বাজারকে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। দুস্থ, অসহায়, চিকিৎসাহীন, কণ্যাদায়গ্রস্থদের সাহায্যে স্থায়ী ফান্ড সৃষ্টি করা। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, পাঠাগার, স্কীল ডেভেলপমেন্টের জন্যে কম্পিউটার ও কারিগরি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। মাদকসক্ত তরুণ সমাজকে রক্ষায় প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদক নির্মুল কমিটি করবেন।

টেন্ডার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা রাখা। মসজিদ, মাদরাসা ও মন্দির উন্নয়নে কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহন। বাজারের যানজট নিরসন ও হকার মুক্ত ব্যবস্থা করা। পৌরসভায় স্থায়ীভাবে সাপ্তাহিক গবাদিপশুর হাটের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। এবং দলের নেতা কর্মীদের সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করে দলকে আগামী দিনের জন্য তৈরী করার সর্বাত্মাক ভূমিকা রাখবেন। সবশেষে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শেই রায়পুরের মেয়র তথা জনপ্রতিনিধি হতে চান এবং সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন হারুনের রশীদ।

সাবেক মেয়র রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান বলেন, ছাত্রজীবন থেকে কলেজ রাজনীতি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ঘাত প্রতিঘাত মোকাবেলা করে এ যাবৎ পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সকলের মাঝে সুনাম অর্জন করেছি। তিনি পৌর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সুশৃংখল সুনামের সাথে উন্নয়ন মূলক, সামাজিক সার্বিক দায়িত্ব পালন করেছেন। গরীব দুঃখী মানুষের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান জানান, আগত পৌরসভা নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ পৌর মেয়র পদে নির্বাচন করব। মানুষের ভালোবাসা নিয়ে সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের ভোটের রায়ে আমাকে জয়যুক্ত করবে বলে আমি শতভাগ বিশ্বাস করি।


আরও পড়ুন


জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এড. নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, পৌরসভার মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নেয়া হবে। তিনভাগে তালিকা পাঠানো যায়, ভোটাভোটির মাধ্যমে, উভয় সম্মতিতে ও জনমত জরীপ করে। তাছাড়া জেলা-উপজেলা এবং সংশ্লিষ্ট পৌরসভার আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মিলিয়ে ৬ সদস্যে স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী ঠিক করে মনোনয়নের সুপারিশ পাঠাবে কেন্দ্রে।পরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। আওয়ামী লীগের কোনো ইউনিটে পদ-পদবী নাই এমন ব্যক্তিকে মনোনয়নের জন্য সুপারিশ পাঠানোর সুযোগ নাই বলেও তিনি জানান।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: