রায়পুরে শিমের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য নিয়ে চিন্তিত চাষীরা

রায়পুর উপজেলায় এবার শিমের বাম্পার ফলন হলেও দাম কমে যাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। গত বছর এই সময়ের তুলনায় এবার শিমের দাম অনেক কম। এতে উৎপাদন খরচ উঠলেও তেমন লাভ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

উপজেলা উপসহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আলী আকবর বলেন , গত বছর উপজেলার এক হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে শিম উৎপাদন হয়েছে ৩০ হাজার টন। আবাদি জমির পাশাপাশি অনেক অনাবাদি জমিতেও শিম লাগিয়েছেন কৃষকেরা। এ জন্য লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। রায়পুরের প্রায় গ্রামে গ্রীষ্ম ও শীত—এই দুই মৌসুমে শিম উৎপাদন হয়। বিভিন্ন জাতের শিমের ফলন বেশ ভালো হয় বলে এসব জাতের শিমের চাষ বেশি হয়েছে এবার।

কৃষকেরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষের উপকরণের দাম বেড়েছে। এ কারণে চাষের খরচও পড়েছে বেশি। এবার প্রতি হেক্টরে শিম চাষে খরচ পড়েছে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মতো, গত বছরের তুলনায় যা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি। গত বছর এই সময়ে প্রতি কেজি শিম ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এ বছর শিমের দাম ঠিকমতো না ওঠায় মাথায় হাত পড়েছে তাঁদের।

উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, প্রতি  কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা দামে। আর পাইকারিতে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।


আরও পড়ুন>>


উপকূলীয় এলাকা চরবংশী, মোল্লারহাট, চরআবাবিল, সায়েস্তা নগর এর কৃষকরা বলেন, কয়েকজন ৮০ শতক জমিতে ছুরি জাতের শিম চাষ করেছেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত তিনি ৭০০ কেজি শিম বিক্রি করার ব্যবস্থা শুরু করেছেন। শুরুতে প্রতি কেজি ২৬ টাকায় বিক্রি করলেও এখন বিক্রি করছেন ২০ টাকায়। তিনি বলেন, পৌষ মাসের প্রথম থেকে শিম তোলা শুরু হয়েছে, ফাল্গুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত শিম তুলবেন। গত বছর তিনি এই সময়ে প্রতি কেজি শিম বিক্রি করেছেন ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। এ বছর বাজারদর যেভাবে কমতে শুরু করেছে, তাতে লাভের আশা করছেন না তিনি।

ঢাকা কারওয়ান বাজারের পাইকারি ক্রেতা নুরুল হুদা বলেন, গত বৃহস্পতিবার তিনি ১০ হাজার কেজি শিম কিনেছেন মোল্লারহাট থেকে। গড়ে কেজি প্রতি দাম পড়েছে ২২ টাকা করে। তিনি ওই শিম ঢাকায় ৩০ টাকা দরে বিক্রি করবেন বলে জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, শিমের উৎপদান এখনই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছেছে।এবার শীতকালীন শিমের বাম্পার ফলন হলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে দাম কমে যাওয়ায়। তবে উৎপাদন বেশী থাকায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। এতে দাম আরও বাড়তে পারে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: