রায়পুরে শীতকালীন শাক – সবজির বাম্পার ফলন, ন্যায্য মূল্যের আশায় কৃষকরা

শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন রায়পুরের ফসলের তীর্থভূমি খেত পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকরা।অনেক শিক্ষিত বেকার তরুনেরা এই পেশায় মনোনিবেশ করেছেন শীতকালীন সবজির চাষের দিকে।

আবহাওয়া অনুকূল ও তেমন রোগবালাই না থাকায় শীতের সবজি চাষে বাম্পার ফলন পাচ্ছেন কৃষকেরা। তেমনি হায়দারগঞ্জ, মোল্লারহাট, চরবংশী ,চরপাতা, বামনী সহ বিভিন্ন এলাকায় এক সবজি চাষ করছে।

নিজের কোন জমি না থাকা সত্ত্বেও উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের হানিফ অন্যের (১২ একর) জমি ইজারা নিয়ে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, আলু, শসা, লাউ, মিষ্টি লাউ, শিম, বরবটি, টমেটোসহ নানা শীতকালীন সবজি চাষ করে আসছেন। প্রতি বছরই তিনি জমি ইজারা নিয়ে সবজি চাষাবাদ করছেন।

সরেজমিনে পরিদর্শনে যেয়ে চরবংশী আলতাফ মাষ্টার পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশে হারুন, বারেক সবজি ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে তারা পানি দিতে ব্যস্ত। পাশাপাশি তার নিয়োজিত লোকরা নতুন সবজি গাছ থেকে সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ সময় চরবংশী ইউনিয়নের স্থানীয় মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মী কামাল বলেন, বর্তমানে খুচরা ও পাইকারি বাজারে সবজির বিক্রি খুব ভাল। তাই এসব সবজি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। শীতের আবহাওয়া শুরুর সাথে সাথেই সবজির চাষাবাদ শুরু করেন কৃষকরা।

মোল্লারহাট ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কৃষক মফিজ বলেন, আমার ক্ষেতে ২২০টির মতো লাউ গাছ রয়েছে যা থেকে গত কয়েক মাসে তিনি ছয় হাজারের মতো লাউ বিক্রি করেছেন। এসব গাছ থেকে আরও লাউ বিক্রি করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মফিজ। যা থেকে ক্ষেতের ও নিজের শ্রমের খরচ বাদ দিয়েও ভালোই লাভ থাকবে তার। ইতিমধ্যে তার যাবতীয় খরচ উঠে গেছে। লাউয়ের চাষ শেষে এই জমিতেই অন্য কোন সবজি চাষ করবেন বলে জানান তিনি।তিনি আরো বলেন, কোন ট্রেনিং ছাড়াই বাজার থেকে বীজ কিনে এনে সবজি চাষ করছি। তার এই সবজি ক্ষেত দেখাশুনা করার জন্য ৮ থেকে ১০ জন লোক রয়েছে। প্রতিদিন তার এসব সবজি ক্ষেত থেকে আয় হচ্ছে ১২ থেকে ১৫হাজার টাকা যা দিয়ে তিনি অনায়াসেই সংসারের খরচ চালিয়ে যেতে পারেন। বিকাল হলে শহর থেকে পাইকাররা এসে টাটকা সবজি কিনে নিয়ে যান। আবার সকাল বেলা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসে সবজি কিনে নিয়ে যায়।


আরও পড়ুন>>


এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, কৃষকেরা শীতের সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো ইত্যাদি সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারও শীতের শুরু থেকেই সবজির আবাদ হচ্ছে আশানুরুপ। এ ছাড়া এখন নতুন ফর্মুলায় উপজেলার বিভিন্ন ক্ষেতে চাষ হচ্ছে নানা ধরনের সবজি। সরকারি ভাবে আমরা বিভিন্ন বীজ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছি। বিনামূল্যে সার দিয়েছি।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: