রেমডেসিভির ও প্লাজমা থেরাপি করোনা চিকিৎসায় নিরাপদ নয়-ডাব্লুএইচও

অনলাইন ডেস্ক।।

রেমডেসিভির ও প্লাজমা থেরাপি করোনাভাইরাসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আশার আলো দেখালেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে ভিন্ন কথা। তারা করোনা সংক্রমণের চিকিৎসায় বহুল আলোচিত রেমডেসিভিরসহ অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের চূড়ান্ত ব্যবহার না করার সুপারিশ করেছে। সেই সাথে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে প্লাজমা থেরাপিও ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক এই সংস্থাটি। সর্বশেষ করোনা বিষয়ক গাইড লাইনে তারা এই তথ্য জানিয়েছে।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক এই সংস্থা এমন এক সময় প্রকাশিত হল যখন বাংলাদেশের অনেক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমোদন নিয়ে ইতিমধ্যেই রেমডেসিভির উৎপাদন শুরু করেছে। এছাড়াও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা রোগীর চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বেসরকারিভাবে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীরা প্লাজমা ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্লাজমা ব্যাংক গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নিমিত প্লাজমা থেরাপী নিচ্ছেন।


আরও পড়ুন


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য তারা এখন পর্যন্ত কোন এন্টি  ভাইরাল ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দেয় নাই। কারণ এখন পর্যন্ত কোন ওষুধেরই উচ্চমানের ইতবাচক ফলের প্রমান তারা পাননি। বরং এসব ওষুধের নেতিবাচক জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে বলে তারা প্রমান পেয়েছেন।

রেমডেসিভির এবং অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের ব্যাপারে ডব্লিউএইচও বলেছে, কয়েকটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে বিদ্যমান গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। করোনার চিকিৎসায় এসব ওষুধের কোনোটিরই উচ্চমানের ইতিবাচক ফল পাওয়ার প্রমাণ মেলেনি। এমনকি এসব ওষুধের জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

এর আগে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক এই সংস্থাটি কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ারোধী ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং ক্লোরোকুইন ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেয়।

সংস্থাটি বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ মানুষের শরীরে মৃদু এবং ৪০ শতাংশের মাঝারি উপসর্গ দিয়ে রোগটির শুরু হয়।

এছাড়া ১৫ শতাংশের গুরুতর আকার ধারণ করে; যাদের অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। অন্য ৫ শতাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়; যারা আগে থেকে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনিসহ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত।

উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে করোনার প্রকোপের দেড় শ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রতিষেধক কিংবা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শতাধিক ভ্যাকসিন তৈরির প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব ভ্যাকসিনের মধ্যে অন্তত ৬টি প্রথম ধাপের ট্রায়াল সফল হওয়ায় দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নভেল করোনা ভাইরাসের চূড়ান্ত ভ্যাকসিন পেতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগতে পারে। এমনকি কোভিড-১৯ এর কোনো ভ্যাকসিন কখনও নাও পাওয়া যেতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তারা।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

5 COMMENTS

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: