শরীয়তপুরে ভারপ্রাপ্তদের ভারে নূহ্য সরকারি হাই স্কুল গুলি

মেহেদী হাসান, শরীয়তপুর।।
- Advertisement -

শরীয়তপুরে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্যসহ জেলা শহরের দু’টি ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় যথা- পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও শরীয়তপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় এবং নড়িয়া, জাজিরা, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা সদরে ১টি করে সদ্য জাতীয়করণকৃত ৫টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোনটিতেই প্রধান শিক্ষক নেই।

দীর্ঘদিন যাবত জেলার সব কয়টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

জানা গেছে, এমারত হোসেন নামে জামায়াত সমর্থিত এক শিক্ষক দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর যাবত শরীয়তপুর জেলা শহরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সাথে শরীয়তপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। জামায়াত পন্থী এই শিক্ষক জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন যাবত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় শিক্ষক নিয়োগসহ জেলার মাধ্যমিক সরকারি শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে ভুক্তভোগি শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও দীর্ঘ প্রায় ২ বছর যাবত শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ নজরুল ইসলাম।

এদিকে প্রতিটি উপজেলা সদরে সদ্য জাতীয়করণকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয় যথা-ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ডামুড্যায় সরকারি ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, গোসাইরহাটে সরকারি ইদিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নড়িয়াতে সরকারি বিহারীলাল উচ্চ বিদ্যালয় ও জাজিরা উপজেলা সদরে সরকারি মোহর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবত প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

জেলা ও উপজেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এসব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন যাবত প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এক দিকে যেমন শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার বিঘ্ন ঘটছে অন্য দিকে অদক্ষ এসব ভারপ্রাপ্ত প্রধানদের দিয়ে বিদ্যালয় চালানোর ফলে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নসহ শিক্ষার গুণগত মান ব্যহত হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগি শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, জামায়াত সমর্থিত শিক্ষক এমারত হোসেন একই সাথে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) পদে দায়িত্ব পালন করায় জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে জামায়াতি প্রভাব পড়ছে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন।

মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ডিজি’র প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর চিঠি প্রেরণ করেন। নিয়োগ বোর্ডে সভাপতি থাকেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব, মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, মন্ত্রণালয়ের পক্ষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক।


আরও পড়ুন>>


এ ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার এমারত হোসেন একই সাথে ডিজি’র প্রতিনিধি এবং জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে নিয়োগ বোর্ডে একক কর্তৃত্ব স্থাপন করেন। শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা মিলে চাকুরি প্রার্থীকে সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা থাকলেও জামায়াত নেতা এমারত হোসেন একাই কর্তৃত্ব স্থাপন করে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এমারত হোসেন বলেন, আমি জামায়াত ইসলামী সমর্থক নই। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোথাও একক কর্তৃত্ব স্থাপন করি না।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ