শরীয়তপুরে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগে উন্নয়নমূলক কাজে নয় ছয়: নেই কোন তদারকি

শরীয়তপুরে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক কাজে নয় ছয় হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়নমূলক কাজে নেই কোন তদারকি। কিছু অসাধু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার পর নিজে না করে অনেক ক্ষেত্রেই তা অন্য ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে যা বিধি সম্মত নয় বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন।

শরীয়তপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি অভাবে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গচ্ছা যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের

শরীয়তপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের মনুয়া গ্রামে মনুয়া আহলে সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ৪তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৯শ’ ৬১ টাকা ব্যয় বরাদ্দে লটারীর মাধ্যমে উক্ত ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স বাণী কর্পোরেশন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট, বালু, সিমেন্ট, সুরকি ব্যবহারসহ তফসিল অনুযায়ী কাজ না করার কারণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। কাজের তদারকীতেও গাফিলতির বিস্তর অভিযোগ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের বিরুদ্ধে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এসব উন্নয়নমূলক কাজের ঠিকমত তদারকী করছেন না শরীয়তপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ।


আরও পড়ুন>>


মনুয়া এলাকার বিল্লাল ছৈয়াল, খোকন দপ্তরী, মামুনসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এই মাদ্রাসার ভবন নির্মাণে খুবই নিম্নমানের ইট, বালু, খোয়া, রড ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অল্প দিনের মধ্যে মাদ্রাসা ভবন ভেঙ্গে গিয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের বিশাল ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

মনুয়া আহলে সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবুল কালম আব্দুর রব বলেন, আমরা তো প্রকৌশল বিদ্যা ভাল বুঝিনা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাণী কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী নিপুল কৃষ্ণ মালো বলেন, ভবন নির্মাণে কোন অনিয়ম হয়নি। আমরা প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে এবং সিডিউল অনুযায়ী কাজ করেছি। ঢালাইসহ বিভিন্ন সময় তাদের সামনে আমাদের কর্মচারীরা কাজ করে থাকে।


আরও পড়ুন>>


শরীয়তপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন (এস ও) বলেন, আমাদের শরীয়তপুরে জনবল একটু কম হলেও আমরা ঠিকাদারের কাছ থেকে পুরোপুরি কাজ আদায় করে নিচ্ছি। তবে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: