শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও শিক্ষকের দায়!

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটা অংশ বেশ সরব। তাদের ধারণা দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পেছনে শিক্ষকরা দায়ী। তারা বসে বসে বেতন পাচ্ছেন, আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে তাদের কোন আগ্রহ নাই। ফেসবুকের কিছু জনপ্রিয় গ্রুপ /পেজ যেখানে বিভিন্ন ইস্যুতে গঠনমূলক আলোচনা হয়ে থাকে সেখানেও পোস্ট এবং কমেন্টে শিক্ষকদের ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, হেয় করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ।

দেশে শিক্ষক মূলত ৪ ক্যাটাগরির:

১। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।
২। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।
৩। স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং
৪। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ কারণ তাদের স্থায়ী কোনো সম্মানীর ব্যবস্থা নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে তাদের সম্মানী প্রদান করা হয়। এছাড়া বাকি তিন ক্যাটাগরির শিক্ষকগণ প্রতিমাসে সম্মানী পেয়ে থাকেন। কিছু মানুষের মাথা ব্যাথা কেন শিক্ষকগণ বসে বসে টাকা পান। মনে হচ্ছে শিক্ষকদের সম্মানী বন্ধ করলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। প্রশ্ন হচ্ছে শিক্ষকরা কি আসলেই বসে বসে বেতন নিচ্ছেন নাকি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন? পাঠদান ছাড়া ও আরো অনেক কাজই শিক্ষকদের করতে হয়। সরাসরি পাঠদান চালু না থাকলেও অনলাইনে কার্যক্রম চলমান। শিক্ষকরা চাইলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যাবে, যদি আপনি এই ধারণা রাখেন তাহলে বোকার রাজ্যে বসবাস করছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা একটা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। এটি কোন শিক্ষকের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভরশীল নয়। দেশের শিক্ষা সংক্রান্ত একটি মন্ত্রণালয় আছে সেখানে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আছেন, তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা সবাই মানতে বাধ্য। শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য আন্দোলন করেন না কেন? জি না, শিক্ষকরা কোন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন না। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা 1985, 2 এর – এফ(।।।) অনুযায়ী আইন সম্মত কারণ ব্যতিরেকে সরকারের কোনো আদেশ পরিপত্র এবং নির্দেশাবলীর প্রতি অবজ্ঞা পোষণ করলে তা “অসদাচরণ” হিসেবে গণ্য হবে আর অসদাচরণের সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি হতে বরখাস্তকরণ।

শিক্ষাব্যবস্থার স্থবিরতায় সবাই উদ্বিগ্ন। শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয় নেশা ও বটে।প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা শিক্ষাঙ্গন থেকে বিচ্যুত হওয়ায় অনেক শিক্ষক মানসিক সমস্যায় পড়েছেন। প্রিয় কর্মক্ষেত্রে ফেরার জন্য সবাইপ ব্যকুল । শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল তা সহজে পূরণ হবার নয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের একটা অংশ বিভিন্ন অনলাইন গেমসে আসক্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পড়াশোনার বাইরে থাকার কারণে তাদের যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন হয়েছে তা মেরামতের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত চেষ্টা করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষক সম্পর্কে মতামত প্রদানের শব্দচয়ন দেখে মনে হয় শিক্ষকরা সত্যিই ব্যর্থ। তাদের দায় আছে, অবশ্যই আছে কারণ তারা এটা শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, কিভাবে শিক্ষাগুরুকে শ্রদ্ধা করতে হয়, কিভাবে অন্যকে সম্মান করতে হয় ।

মোঃ সোহরাব হোসেন
প্রভাষক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ)
জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজ, জয়পুরহাট।

- Advertisement -

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ

Bengali Bengali English English German German Italian Italian
%d bloggers like this: