শিনজো আবেকে বিদায় জানাল জাপান

- Advertisement -

বিতর্ক ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই প্রায় অর্ধশত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে জাপান। এ আয়োজনে সাধারণ মানুষের ঘোর আপত্তি সত্ত্বেও দীর্ঘদিন দেশের জন্য কাজ করে যাওয়া শিনজো আবের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।

রয়টার্সের খবরে জানা যায়, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের শেষকৃত্যের ব্যয় ১৬৬ কোটি ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে। যা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যের চেয়েও অনেক বেশি। পুরো অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে চলছে।

জানা যায়, শেষকৃত্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অন্তত ৭০০ বেশি বিদেশি অতিথি অংশ নিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম বলছে, দেশটির স্থানীয় সময় দুপুর ২ টায় দেশটির সামরিক বাহিনীর অনার গার্ড আবেকে স্যালুট জানাতে কামান থেকে ৯টি ফাঁকা গোলা ছোড়ার মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। টোকিওর কেন্দ্রস্থলে খেলাধুলা ও কনসার্টের জন্য খুবই পরিচিত নিপ্পন বুদোকানে আবের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় এক হাজার সেনা সদস্য এ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছে। শেষকৃত্যে অন্তত ৪ হাজার ৩০০ অতিথি অংশ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে অনেক মানুষকে ফুল ও অন্যান্য উপকরণ হাতে দেখা গেছে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শুরু করেছেন।

আবের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের জন্য রাজধানী টোকিওতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এজন্য মাঠে থাকছেন অন্তত ২০ হাজার পুলিশ সদস্য। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আবের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এদিন সকাল থেকে অনুষ্ঠানস্থল নিপ্পন বুদোকানের পাশে আবার বিক্ষোভকারীদের দেখা গেছে।

বিক্ষোভকারীদের অনেককে বলতে শোনা যায়, ‘সাবেক এই প্রধানমন্ত্রিকে কেন রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য দিতে হবে’? কেননা জাপানে সাধারণত রাজপরিবারের সদস্যদেরই রাষ্ট্রীয়ভাবে শেষকৃত্য হয়। এছাড়া আবের শেষকৃত্যে বিপুল পরিমাণ ব্যয় নিয়েও ক্ষুব্ধ দেশটির সাধারণ জনগণ।

যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাপান শুধু একবার একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন করেছিল। ১৯৬৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইয়োশিদাকে এ সম্মান দেওয়া হয়। তিনি যুদ্ধ থেকে দেশটির পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

শিনজো আবে জাপানের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী যার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। গত ৮ জুলাই জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারাতে এক বন্দুকধারীর হামলায় নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিয়ে বক্তৃতার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শিনজো আবে। এ সময় তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। এর ৪ দিন পর স্বল্প পরিসরে আবের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় এবং তার মৃতদেহ দাহ করা হয়।

২০০৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন আবে। কিন্তু এক বছরের বেশি তার সেই মেয়াদ স্থায়ী হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, পেনশন রেকর্ড নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভ, নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয়ের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা ছাড়েন তিনি।

তবে অস্থিতিশীলতা দূর করে অর্থনীতিকে জাগিয়ে তোলার অঙ্গীকার করে ২০১২ সালে দ্বিতীয়বার জাপানের প্রধানমন্ত্রী হন শিনজো আবে। কিন্তু করোনা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর জনপ্রিয়তা কমে গেলে, ২০২০ সালে ক্ষমতা ছাড়তে হয় তাকে। যদিও পদত্যাগের পর তুঙ্গে ছিল শিনজো আবের জনপ্রিয়তা।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ