শেখ হাসিনা: গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক

- Advertisement -

প্রধনামন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক। তিনি জাতিকে নতুন এক আশা দিয়েছিলেন, সেই আশার নাম, রূপকল্প-২০২১। বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার সেই আশা। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের উন্নয়ন কমিটি বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছেন সব বাংলাদেশিকে, এক ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন, যেখানে সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি থাকবে এবং স্বাধীনতার চার দশক পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুকরণীয় নেতৃত্ব; খাদ্য নিরাপত্তা, শান্তি চুক্তি, সমুদ্র বিজয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষায় সমুজ্জ্বল।

বিপথগামী একদল সেনা কর্মকর্তার হাতে তার বাবা-মা ভাইসহ পুরো পরিবার নিহত হওয়ার পর তিনি নির্বাসনে ছিলেন ৬ বছর। ১৯৮১ সালে তার ফিরে আসা ছিল গণতন্ত্রে ফিরে আসা, দেশের উন্নয়ন ও প্রগতির ফিরে আসা, সেই সঙ্গে অনির্বাচিতভাবে ক্ষমতাসীন সরকারের বিদায়। নিজের নীতি ও আদর্শকে সমুন্নত রাখার এ যাত্রায় ১৯ বার আততায়ীর হামলার শিকার হয়েছেন তিনি, যার মধ্যে সর্বশেষ ছিল ২০০৪-এর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা।

এখনো তার হাসি প্রাণবন্ত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার স্বপ্নের সোনার বাংলা, যেখানে থাকবে না ক্ষুধা ও দারিদ্র্য, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই বেঁচে আছেন তিনি। জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’র মাঝি এখন তিনিই।

আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা, এই ৭৬ বছর বয়সে এসেও তার কাছে দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই। তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও মায়ের মতো একই আদর্শ ধারণ করেন। তার প্রয়াত স্বামী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন একজন স্বনামধন্য পরমাণু বিজ্ঞানী।

উন্নয়নের পথপ্রদর্শক
শেখ হাসিনার দিনবদলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে। ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টির মধ্যে ২৬৪টি আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করলে শুরু হয় রূপকল্প ২০২১-এর পথে শুভযাত্রা।

তার নেতৃত্বে ২০১৮-১৯ সালে জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৮.৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। করোনা মহামারির কারণে দেশে দেশে লকডাউন আর আমদানি-রপ্তানি বাধার কারণে ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধিতে হ্রাস ঘটলেও ২০২১-২২ সালে জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭.২৫ শতাংশ। বর্তমানে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২,৮২৪ মার্কিন ডলার। তার উদ্যোগের ফলে করোনা মহামারির মধ্যেও রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আয় করেছে বাংলাদেশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। এই অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫২.০৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে রপ্তানি খাত থেকে।

১৯৭১ -এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অতন্দ্র প্রহরী
বাংলাদেশের পতাকা যারা ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তাদের হাতে পতাকা সুরক্ষিত নয়। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার, সেই যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে পতাকা বহনের সুযোগ করে দিয়েছিল মন্ত্রী করে। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়ে, শেখ হাসিনা জাতিকে সেই লজ্জা থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছেন। তিনি বহু আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছেন। তার সরকারের অধীনেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। চারজন কুখ্যাত দাগি যুদ্ধাপরাধীর এরই মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আরও অনেকেই বিচারের অপেক্ষায় আছে। এ বিচার ৩০ লাখ শহীদ ও ৩ লাখ নির্যাতিত নারীর আত্মার সম্মান রক্ষার জন্য।

বিশ্ব শান্তির দূত
তার প্রথম শাসনামলে (১৯৯৬-২০০১) শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যেকার দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংগ্রামের সমাপ্তি হয়। ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, শান্তি বাহিনীর প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র লারমা খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অস্ত্রসমর্পণ করেন। ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনা ভারত ও পাকিস্তানে যান, তাদের পরমাণুযুদ্ধ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাতে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের কারণে উত্তেজনা চলছিল। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে Mother of Humanity হিসেবে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ সরকারি উদ্যোগে শরণার্থীদের নিশ্চিত অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি মৌলিক চাহিদার জোগান নিশ্চিত করছে। শুধু আশ্রয়ই নয়, ভাসান চরে অত্যাধুনিক শরণার্থী ক্যাম্প স্থাপন করে উন্নত দেশগুলোকেও বিস্মিত করেছেন শেখ হাসিনা।

বৈদেশিক কূটনীতিতে দূরদর্শী নেতা
দূরদর্শী বিদেশ নীতির মাধ্যমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর সঙ্গে সর্বকালের সবেচেয়ে নৈকট্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে সমর্থ হয়েছেন। পার্বত্য শান্তি চুক্তির জন্য তিনি ইউনেসকো শান্তি পুরস্কার পান। ১৯৯৮ সালে তিনি নিখিল ভারত পরিষদের কাছ থেকে মাদার তেরেসা পদকও পান। ১৯৯৯ সালের ১৫ মে, তিনি হেগ শান্তি পরিষদের সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। ১৯৯৯ সালে, শেখ হাসিনা সেরেস শান্তি পদক পান, যা বিশ্ব খাদ্য পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধানদের দেয়া সর্বোচ্চ পুরস্কার।

গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক
(১৯৭৫-১৯৯৫)
এই সময়, দেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালে তার পিতাকে পুরো পরিবারসহ মেরে ফেলা হয় বিপথগামী কিছু আর্মি অফিসারের নেতৃত্বে। শেখ হাসিনা ৬ বছর নির্বাসনে থেকে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরেন। সেই থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত ৯টি দীর্ঘ বছর রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন সামরিক স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার দল হয় প্রধান বিরোধী দল।
১৯৯৬-২০০০
শেখ হাসিনার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে। সেই সময় তার সরকার যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণ করে, যা ছিল সেই সময় বিশ্বের দীর্ঘতম সেতুর তালিকায় একাদশতম। ১৯৯৮ সালের বন্যার সময়, তার সরকার ২ কোটি বন্যাদুর্গত মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্যপ্রদান করে। তার নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের আমলে উল্লেখযোগ্য সাফল্যসমূহ হচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পার্বত্য শান্তি চুক্তি, ২১ ফেব্রুয়ারিকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা এবং বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি।
২০০১-২০০৭
২০০১ থেকে আবারও জাতির ইতিহাসে কালো অধ্যায় শুরু হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। যুদ্ধাপরাধীদের দেয়া হয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এ সময়েই জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, ৬৪ জেলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সর্বাত্মক আন্দোলনের ফলে সাজানো নির্বাচন বাতিল করতে বাধ্য হয় তৎকালীন সরকার। জরুরি অবস্থা ঘোষিত হয়। নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হয়। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করা হয়। ২০০৭-এর ১৬ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০০৮-২০১৩
ব্যাপক জনবিক্ষোভের মুখে তাকে ২০০৮-এর ১১ জুন প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশ যান এবং ডিসেম্বরের ৪ তারিখে দেশে ফেরেন। ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায়, শেখ হাসিনা “দিনবদলের সনদ” – তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একচেটিয়া বিজয়লাভ করে। তার এ শাসনামলে, জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয় ৬.৫১, সকল খাতের ডিজিটালাইজেশন করা হয়, অবকাঠামো খাতের ব্যাপক উন্নয়নসাধিত হয়, জঙ্গিবাদ কঠোরভাবে দমন করা হয় এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর শুরু হয়।

২০১৪-২০১৮
রূপকল্প-২০২১-এ সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এবং ভরসার জন্য সাধারণ মানুষ তাকে ২০১৪তে নির্বাচিত করে। এবার তার সরকার নিজ উদ্যোগে এবং অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করে যা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে। তার সঙ্গে, ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্প, দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ নিশ্চিতকরণ, জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীতকরণসহ আরও মেগা প্রকল্প হাতে নিয়ে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে যান। ২০১৮ সালেও টানা তৃতীয়বারের মতো জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
২০১৮
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা।
২০২০
২০২০ সালের শুরুতেই সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশে যখন করোনাসংকটে নানা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তখন তা মোকাবিলায় দ্রুত নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪১ কোটি টাকার ২৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সারা দেশে ব্যাপকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ২০২০ সালের ২৪ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা এবং ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৮০৭ টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।
২০২১ থেকে বর্তমান
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই যখন করোনা মহামারিতে ভ্যাকসিনপ্রাপ্তি নিয়ে লড়ে যাচ্ছে তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশের মানুষের জন্য দ্রুততম সময়ে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছেন। এখন পুরোদমে সারা দেশে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সারা দেশ আজ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে চালু হয়েছে পদ্মা সেতু। আর এসব সম্ভব হয়েছে শুধুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা আর দৃঢ়চিত্তের কারণে।

জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশন চলাকালীন দারিদ্র্য দূরীকরণ, বিশ্বের সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সর্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেয়ার জন্য ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতির সার্বভৌমত্বের প্রতীক
তার দূরদর্শী বৈদেশিক নীতির সুফল হিসেবে, ভারতীয় লোকসভায় ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তি পাস হয়েছে। এর ফলে ছিটমহলবাসীর চার শতকের দুঃখ-দুর্দশার অবসান হয়েছে। তার ২০০৯-২০১৪ শাসনামলে, বাংলাদেশ দুটি ঐতিহাসিক সমুদ্র সীমান্ত মামলায় জয়লাভ করে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ ২৫,৬০২ বর্গ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১৯,৪৬৭ বর্গ কিলোমিটার জায়গা পায়।

নারী ক্ষমতায়নে অগ্রপথিক
শেখ হাসিনা নিজেই বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ১০০ নারীর মধ্যে একজন। অন্য নারীদেরকেও উদ্দীপ্ত করতে অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নারী শিক্ষায় তার অবদানের জন্য তিনি ইউনেসকোর শান্তিবৃক্ষ পুরস্কার পেয়েছেন। বাংলাদেশকে ডিজিটাল করায় তার নানা উদ্যোগ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অবদানের জন্য গত বছর জাতিসংঘ তাকে সাউথ সাউথ পুরস্কার দেয়।

সহজাত নেতৃত্ব
তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন- একই বছর ভারত-পাকিস্তান স্বাধীন হয়। বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ হয়। তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের শোষণমূলক নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতেই জীবনের বেশিরভাগ সময় পার করে দেন। ছাত্রনেতা হিসেবে শেখ হাসিনা স্বাধীনতাপূর্ব আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬২-এর আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।

ইডেন কলেজের সহ-সভাপতি হিসেবে, তিনি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নেন। তার সেই আন্দোলন সফল হয়। ভাষাশহীদরা ১৯৫২ সালে বাংলাভাষার জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে প্রাণ দেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন এবং তাকে পাকিস্তানের একটি জেলে বন্দি করে রাখা হয়। শেখ হাসিনা তার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের সঙ্গে গৃহবন্দি থেকে মুক্তিযুদ্ধে কৌশলগত ভূমিকা রাখেন। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

জঙ্গিগোষ্ঠীর একমাত্র লক্ষ্যবস্তু
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কারণে বারবার তিনি হয়েছেন জঙ্গিগোষ্ঠীর একমাত্র লক্ষ্যবস্তু। এ পর্যন্ত তিনি ১৯ বার মৃত্যুর কাছাকাছি থেকে ফিরে এসেছেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট এ গ্রেনেড হামলা যার মধ্যে অন্যতম। ওই দিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ যেন পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। গ্রেনেড হামলা হয়েছিল শেখ হাসিনার সন্ত্রাস বিরোধী গণমিছিলে। শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলার জন্য গ্রেনেডের পর ছোড়া হয়েছিল গুলি। আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী সেদিন শহীদ হয়েছিলেন। রাস্তা পরিণত হয়েছিল রক্ত আর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন মাংসের স্তূপে। শেখ হাসিনা তখন থেকেই বয়ে বেড়াচ্ছেন তার কানে শ্রবণজনিত সমস্যা।

উন্নত বাংলাদেশের পথিকৃৎ
শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দেশ পরিচালনার নীতি পরিবর্তন করেছে প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবনযাত্রা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দারিদ্র্য বিমোচনে তার প্রণীত ৬ দফা গৃহীত হয়েছে। সারা বিশ্বে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থা শেখ হাসিনা প্রণীত দারিদ্র্যবিমোচন নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে ভিশন-২০২১-এর লক্ষ্যমাত্রা অনেকাংশেই অর্জিত হয়েছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, গড় আয়ু বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্তি ইত্যাদি লক্ষ্যমাত্রার অনেক আগেই আমরা অর্জন করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য ২০২০ সালে তিনি ভিশন-২০৪১-এর রূপকল্প দেন। ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১২,৫০০ মার্কিন ডলারে, দারিদ্র্য পুরোপুরি দূরীভূত হবে, প্রবৃদ্ধি থাকবে ৯ শতাংশের বেশি, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হবে ৫৬,৭৩৪ মেগাওয়াট।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ