শেরপুরে সেবা নার্সিং হোমে অব্যবস্থাপনায় একজনের মৃত্যুর অভিযোগ

বগুড়ার শেরপুরে সেবা নার্সিং হোম নামে এক বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনায় একজন রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত চানমিয়া মণ্ডল (৬০) উপজেলার ৪ নং খানপুর ইউনিয়নের ভাণ্ডার কাফুড়া ভদ্রপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, গত শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১ টায় শেরপুর পৌর শহরের জগন্নাথ পাড়াস্থ, সেবা নার্সিং হোমে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। পরে ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক ডাঃ এস এম শাহ আলী পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোগীর পিত্তথলীতে পাথর হয়েছে বলে জানান। সেই দিন আনুমানিক বিকাল ৫ টায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপরাশেন শেষে রোগীকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করলে ধিরে ধিরে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। এর পর রাত দেড়টায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে অব্যবস্থাপনার অভিযোগে স্বজনেরা হৈ চৈ করলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তৎক্ষণাত ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এবিষয়ে মৃতের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার বাবার হার্টের সমস্যা জনিত রোগে ভুগছিলেন। এ কথা তারা ডাক্তারকে জানিয়েছেন। কিন্তু ডাক্তার তাদের কথা আমলে না নিয়ে, কোন সমস্যা নেই বলে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের সময় কোন এনেস্থিয়াসিস্ট ও বিশেষজ্ঞ সার্জন ছিল না। নার্সিং হোমের মালিক ডাঃ শাহ আলী ও দুইজন নার্স মিলে অপরেশন করেন। ফলে অদক্ষতা ও অবহেলা জনিত কারেণই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এব্যাপারে সেবা নার্সিং হোমের মালিক ডাঃ এস এম শাহ আলীর সাথে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি।

রোগীর মৃত্যুর ব্যাপারে জানতে চাইলে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে এখনও কেউ লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ করে নাই। অভিযোগ পেলে তদ্ন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য সেবা নার্সিং হোম দীর্ঘ দিন থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, গত ২০১৮ সালের পরে তাদের নিবন্ধনের মেয়াদ উর্ত্তীণ হলেও, এখনও তারা নবায়ন করেননি। এছাড়াও বেসরকারী ক্লিনিক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, এনেস্থিয়াসিস্ট, নার্স ও চিকিৎসার সরঞ্জামাদীর অভাব রয়েছে বলে জানা গেছে।

এবিষয়ে জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি রয়েছে। তার বাইরে কেউ যদি কোন ক্লিনিক-হাসপাতাল পরিচলনা করেন তা অবশ্যই অবৈধ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ক্লিনিক গুলোর অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে শেরপুর নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মুনসীসাইফুল বারী ডাবলু ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর শেরপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, শেরপুরের অধিকাংশ ক্লিনিকগুলো সরকারি বিধি মালার তোয়াক্কা করছে না। ফলে একদিকে যেমন নাগরিকরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে। তারা এবিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারী বৃদ্ধি ও দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ