শৈশব ভ্রমন

সে দিন বিকেল বেলা। আমি বাড়িতেই ছিলাম। বাবা হটাৎ বাড়ি ফিরলেন। যদিও এ সময় তার বাড়ি ফেরার কথা নয়। কি আর করার? ভাগ্য যদি বায়ে বয়, তাহলে শুধু পরের বকুনি খাওয়ার অপেক্ষা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সম্ভবত রাস্তায় পটলা মাস্টারটা বাবাকে সবকিছু বলেছে। পড়াশুনা করি না, ক্লাস পালায় ইত্যাদি ইত্যাদি আরো দু-চারটি নিন্দা বানিয়ে বানিয়ে বাড়িয়ে বলেছে নিশ্চয়। ওকে একবার বাগে পেলে হয়। একটা উচিত শিক্ষা দিয়েই ছাড়বো। স্কুলে যাবো কি করে? সে শুধু পড়া না হলে মারবে, আর আমি ওর হাত-মুখের মার খাওয়ার জন্য স্কুলে যাবো? ছাত্র হিসাবে যদিও মেধাবী ছিলাম। কিন্তু পড়াশুনাতে একেবারেই মন বসতো না। সারাদিন বন্ধুদের সাথে বনে বনে ঘুড়ে বেড়াতাম। আর পাখির বাসা খুঁজতাম। এর জন্য ওরাও মাঝে মধ্যেই বকুনি খেত। যা খাদ্যের বিনিময় রাতের ক্ষুধাকে অনাহারে তুষ্ট করতো।

আমাদের সকলেরই অসম্ভব পাখি পোষার শখ ছিল। অনেক পাখি ধরতাম। কিন্তু একটাও রাখতে পারতাম না। কোনটি হয়তো মরে যেত, নয়তো বা কোনটি উড়ে যেত। মন খুব খারাপ হতো তখন। এর কারনে যতগুলো পাখির বাসা দেখাছিলো, সব রেগে ভেঙ্গে ফেলতাম। কিন্তু বুঝতাম না, বন্য প্রাণী বনে আর মানব শিশু মাতৃকোড়ে। এটাই প্রকৃতির সৌন্দর্য।


আরও পড়ুন>>


হটাৎ সেই পটলা মাস্টারের সাথে সাক্ষাত হলো। বদমাইশটা স্কুলেই যাচ্ছে। বর্ষা মাস। গ্রাম বলে রাস্তায় পানি আটকে চলন অনুপযোগী করেছে। বলতে গেলে প্রায় ছোট খাটো একটা বন্যায় বটে। পটলা মাস্টারকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য বন্ধুরা একটা বুদ্ধি আটলাম। পটলাটাকে তার সাইকেলসহ কাঁদায় স্মান করালাম। কাঁদা পানির রঙে পটালাকে দারুন মানিয়েছিল। ডুবন্ত মাঝির পারে ওঠার দৃশ্য দেখে সবার হাসির অভাবটা পূরণ হলো। কাজটি সম্পূর্ন করা গেল। কিন্তু ফলটা সামলানো গেল না। বাড়ি ফিড়ে সবারই একই অবস্থা। নিজেরাই উচিত শিক্ষা পেলাম। বেধরক মার, কান ঢলা, নাকে খড় ইত্যাদি ইত্যাদি। রাগ হলো। আবার আচ্ছা করে উচিত শিক্ষা দেওয়ার শখ হলো। কিন্তু আর সাহস হলো না।


আরও পড়ুন>>


এটা ছিল শুধু পূর্বাহ্ণ আর মধ্যাহ্ণের ছবি মাত্র। অপরাহ্ণে ভিন্ন দৃশ্যের শুটিং হতো। বাঁদড় সম্প্রদায় হতে যে, মানুষ সম্প্রদায়ের আগমন ইহার যথার্থতা নিরুপনে পর্যবেক্ষন করতাম। এক গাছ থেকে অন্য গাছে বাঁদড়ের মতো ঝুলতাম। যদিও হাতে, বুকে ছিলে অসহনীয় জ্বালা হতো। কিন্তু তাতে মনোযোগ দেওয়ার মতো সময় ছিল না। তাই বিভিন্ন পুরস্কারের আশায় গাছে ওঠার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়তাম।

তেমনি এক অপরাহ্ণের কথা। সদ্য সেই পরিচিত প্রকৃতিতে আগমন। অমনি ছায়াভূত সবার মাথার একটা অলীক ভাবনা ফেলে দেয়। হটাৎ করে আমার মামাতো ভাই পুরস্কার ঘোষনা করে। কৃষ্ণচূড়ার ঐ চূড়ার ফুলটা পেড়ে দিতে পারলে পাঁচ টাকা পুরস্কার দিবে। আর না পারলে ওকে পাঁচ টাকা পুরস্কার দিতে হবে। মাদরাসার একেবারে পশ্চিম-উত্তর কোণায় অবস্থান সেই সুবিশাল দেহের অধিকারী কৃষ্ণচূড়ার গাছের। পাশেই তার ছায়াই ঘুমিয়ে আছে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা। এমনি ভূতের ভয় নামক জ্বরের কারনে সবাই সে গাছে চড়ার কথা মনেও আনতো না। কিন্তু পুরস্কার বলে কথা। যত কঠিন প্রতিযোগিতা হোক পুরস্কার জিততেই হবে। সাক্ষীর কাছে পুরস্কার জমা রেখে জয়ের খেলায় নেমে পরলাম। পিচ্ছিল গাছটাতে শেওলা বর্ণ ধারন করে এক নতুন খেলার নিয়ম তৈরি করেছে। দুধাপ উঠলে আবার তিন ধাপ নিচে নামিয়ে আনে। এ যেন নিয়ন্ত্রণহীন প্রকৃতির লিফট। অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার আগে একটা বুদ্ধি আটলাম। মাঠ হতে বালি দিয়ে গেঞ্জিটা পূর্ণ করে, সেই রঙে গাছের চারপাশটা রঙ করালাম। পিচ্ছিল ভাবটাকে একটু রোধ করা গেল। পুরস্কারটা মস্তিস্ককে এতটা আসক্ত করে দিয়েছিল যে, সেটা ছাড়া মাথায় আর কিছু ছিল না। তাই আবার প্রতিযোগিতা শুরু করলাম। অবশেষে গাছে শক্ত একটা অবস্থান করে বসা গেল। মানে একটা শাখা ডালের নাগাল পাওয়া গেল। একটু জিরিয়ে আবার শুরু।


আরও পড়ুন>>


ফুলটাও যেন খুব দুষ্টু। এমন জায়গায় বসে মজা দেখছে। আর মনে মনে বলছে আজকে তোকে উচিত শিক্ষা দিব। ইতিমধ্যে একটা শিক্ষা হয়েছে। পা ফসকে পড়তেই কোনমতে একটা ডাল ধরে কিছুক্ষন ব্যাঙ ঝুলা হয়ে আবার ডালে ওঠে বসলাম। এবার ভয়টা শরীরে কাঁপুনির সৃষ্টি করে মাথার পুরস্কারের ভূতটাকে বিদায় করল। কিন্তু দুইটা ভূত রয়ে গেল। এক না পারলে পাঁচ টাকা দিতে হবে। আর দুই এতটা উপরে উঠলাম তার কি হবে।
তারপর আবার চেষ্টা শুরু করে অবশেষে পাঁজি ফুলের সন্ধানে প্রতিযোগিতা শেষ করলাম। নিচে নেমে দেখলাম হাত, পা, বুকের অবস্থা নাজুক। যেন অপটু হাতে মানচিত্র অ্কংন প্রতিযোগিতা। অপটু হাতের বিচ্ছিন্ন কালি মানচিত্রটাকে বিশ্রি রুপ দিয়েছে। কিন্তু সে যন্ত্রণা শরীরের কাঁপুনির ভয়ের কাছে হার মানলো। মামাতো ভাইটাও ঘটনায় ভয় পেয়ে দ্রুত পুরস্কার পর্বের শেষ করল। কেননা কিছু ঘটলে ওরো খবর ছিল।

বাড়ি ফিরেই পোষাক ভূতের দর্শনে লাঠি নিয়ে তাড়া। দৌড়ে পাঁচ টাকার সাবান এনে দিয়ে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলাম। তারপরেও লাঠির আকর্ষনটাকে বঞ্চিত করা গেল না। তাই ঠিক করলাম আর কোন প্রতিযোগিতা নয়। হটাৎ করে প্রিয় সঙ্গিটাও সপরিরারে ঢাকায় প্রস্থান। আমি একা হয়ে গেলাম। খুব খারাপ লাগতো। দুষ্টুমি আর করতে পারতাম না। একা তাই। আর কি করার ? এজন্য পড়াশুনায় সাথে খুঁনসুটি শুরু করলাম।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসায় কমনওয়েলথ মহাসচিব

কমনওয়েলথের মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড বাংলাদেশের বিগত এক দশকের ‘অসামান্য অর্জনের’ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে এই উন্নয়নের জন্য তাকে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিয়েছেন।...

বগুড়ায় কিশোরী ধর্ষণ মামলার দুই সহযোগী কারাগারে

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার দুই ব্যক্তি কে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। ৪ ডিসেম্বর তাদের ধুনট থানা থেকে বগুড়া জেলা...

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বর্গীয় পরিমল চন্দ্র বর্মনের মৃত্যুতে শোক ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বর্গীয় পরিমল চন্দ্র বর্মনের অকাল মৃত্যুতে এবং তার বিদেহী আত্নার শান্তি কামনায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট পঞ্চগড় জেলা শাখার আয়োজনে স্মরণ সভা...

গাঁজাকে বিপজ্জনক মাদকের তালিকা থেকে বাদ

চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষণা কাজে গাঁজার ব্যবহার সহজলভ্য করতে নেওয়া হলো এ সিদ্ধান্ত নেশাজাতীয় বিপজ্জনক মাদকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে গাঁজার নাম। চিকিৎসা কাজে গাঁজার...
%d bloggers like this: