সখীপুরের বহেড়াতৈল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল অবস্থা

0
53

সিরাজুস সালেকীন সিফাত,সখীপুর প্রতিনিধি

৩৯তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরি পেয়ে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে ফারদিন রুবায়েত রাজিব গত ১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। মাসখানেক পর গত ৭ জানুয়ারি  বহেড়াতৈল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দিলেও গত দুই মাস ধরে তিনি ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এলাকার মানুষের সেবা দিতে যেতে পারছেন না। কারণ ওই হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মচারী ও রোগীদের জন্য নেই শৌচাগার। এমনকি চিকিৎসা কর্মকর্তার বসার কোনো চেয়ার-টেবিলও নেই। বাধ্য হয়েই রাজিব সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন।

একই কারণে রাজিবের আগে রেজওয়ানা হায়দার নামের এক নারী চিকিৎসক তিনিও ওই হাসপাতালে নিয়োগ পেয়ে একদিনও রোগীদের সেবা দিতে পারেনি। ফারদিন রুবায়েত রাজিব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাছে তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করেন। ফারদিন রুবায়েত রাজিব বলেন, আমি আমার এলাকার মানুষের সেবা করার জন্য আমার গ্রামের হাসপাতালে বদলি হয়ে এসেছি। অথচ তিনি দাবি করেন, আমার গ্রামের মানুষ গত তিন বছর ধরে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে নূন্যতম সেবা পাচ্ছেন না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মিজানুর রহমান জানান, বহেড়াতৈল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চারটি পদ রয়েছে। গত দুই বছর ধরে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা কর্মকর্তার পদটি শূন্য রয়েছে। গত ১১ডিসেম্বর রেজওয়ানা হায়দার নামে একজন নারী চিকিৎসক যোগ দিলেও শৌচাগার ও চিকিৎসকের বসার ব্যবস্থা না থাকায় ওই নারী চিকিৎসক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সেবা দিয়েছেন। এখন কাগজে কলমে ফারদিন রুবায়েত রাজিব নামের ওই চিকিৎসককে তাঁর গ্রামের হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে কাজ করছেন সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

সখীপুর বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফেরদৌস বলেন, কমপক্ষে দুই বছর ধরে এ হাসপাতালে চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওই হাসপাতালের কাছে বাজারের একটি গণশৌচাগার রয়েছে। প্রয়োজনে চিকিৎসকরা এটা ব্যবহার করতে পারে।

বহেড়াতৈল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা গোলাপ হোসেন বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে চিকিৎসা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে আমাকেই এ সেবা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালের নিজস্ব শৌচাগার না থাকায় বাজারের গণশৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভবন চুয়ে পানি পড়ে। আধুনিক ভবন নির্মিত হলে শৌচাগার ও আসন ব্যবস্থার সমস্যা থাকবে না।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বলেন, বহেড়াতৈল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসকের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়াও ওই হাসপাতালে কোনো শৌচাগারও নেই। আমি অল্প কয়েকদিন আগে এ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি। ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে শৌচাগার ও চিকিৎসকের আসবাবপত্র নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও টাঙ্গাইল সিভিল সার্জনকেও জানানো হয়েছে। ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার থাকলেও তাঁকে উপজেলার সদর হাসপাতালে কাজ করানো হচ্ছে।

Leave a Reply