সন্তান না হওয়ায় চিকিৎসার কথা বলে ভারতে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যা

- Advertisement -

চিকিৎসার কথা বলে পরিকল্পিতভাবে ভারতের গুজরাটে নিয়ে বাংলাদেশি মেয়ে ছালমা খাতুনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী কামরুলের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১১ মে) সকালে নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় পুলিশ গুজরাটের একটি নদী থেকে ছালমার মরদেহ উদ্ধার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে অপরাধীকে গ্রেফতার ও ঘটনা তদন্তে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। হত্যার শিকার ছালমা যশোরের বসুন্দিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী কামরুল বসুন্দিয়া গ্রামের ইউনুচের ছেলে।

ছালমার বাবা জানান, তার মেয়ের সঙ্গে পাশের গ্রামের ছেলে কামরুলের ২ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সন্তান না হওয়াতে ডাক্তার দেখানোর নাম করে তার কামরুল গত ১৫ এপ্রিল ছালমাকে ভারতে নিয়ে যায়। ৩ দিন আগে কামরুল ভারত থেকে ফিরে এসে তাদের জানায় ছালমাকে হারিয়ে ফেলেছে। এ সময় তার আচরণে সন্দেহ হলে পুলিশে অভিযোগ দেওয়া হয়। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন তাদের জামাই তার মেয়েকে হত্যা করেছে। মরদেহ বর্তমানে ভারতের গুজরাট প্রদেশের আনন্দ জেলার ভালেজ পুলিশ স্টেশনে আছে বলে জানান এই বাবা।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে গুজরাটের ভালেজ থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। আর যশোর কোতোয়ালি থানায় আপাতত পাচার মামলা হয়েছে। অপরাধীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

ছালমার ফুপু শিরিনা বেগম জানান, ভাইজির মরদেহ যাতে দ্রুত দেশে ফেরত এনে দাফনের কাজ সারতে পারেন এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন পাশাপাশি হত্যার বিচারও চান তিনি।

ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের হেড অব চ্যান্সারি শামীমা ইয়াসমীন স্মৃতি জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত মেয়েটির মরদেহ যাতে তার পরিবার ফেরত পেতে পারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

এদিকে ছালমাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যার কোনো কারণ এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। তবে তার স্বামী গ্রেফতার হলে রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ