সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথেই নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে হবে-শুভ্রাংশু চক্রবর্তী

- Advertisement -

২৪ আগস্ট নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র দিনাজপুর জেলা শাখার পক্ষ থেকে র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় । সকাল ১০ টায় বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র দিনাজপুর জেলার শতাধিক নেতা-কর্মীর এক সুস্বজ্জিত র‌্যালী সুইহারিস্ত সংগঠনের কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে দিনাজপুর নাট্য সমিতি হল রুমে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। নারীমুক্তি কেন্দ্র দিনাজপুর জেলার সংগঠক নন্দীনী রায়ের সভাপতিত্ত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী,বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন দিনাজপুর জেলা সমন্বয়ক এ,এস,এম,মনিরুজ্জামান, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল জেলা সংগঠক অজয় রায়,দিনাজপুর মেস ও গৃহ পরিচারিকা সমিতির নেতা মুক্তা রায়।

কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী বলেন দিনাজপুরের শ্রমজীবী মানুষ লড়াই সংগ্রামের এক গৌরবাজ্জবল ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন । একজন শ্রমজীবী নারীর উপর পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বর্বর নির্যাতন ও হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে দিনাজপুরের ৭ জন শ্রমজীবী মানুষ শহীদ ও দুশতাধিক নারী পুরুষ আহত হয়ে যে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলেছেন যা সারাদেশের বিবেকবান মানুষকে আন্দোলনে শামিল করেছে এবং প্রশাসনকে দায়ী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনতে বাধ্য করেছেন তা ইতিহাসে নজির বিহীন ঘটনা।

তিনি বলেন আজকে সারাদেশের শ্রমিক কৃষক খেটে খাওয়া মানুষের উপর শোষণ,নির্যাতন ও লুন্ঠন চালিয়ে মুষ্ঠিমেও ধনীক শ্রেণী যেভাবে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে সেই সম্পদের ভোগ বিলাসীতা ও দখলে রাখার জন্য সমাজে অনৈতিক জবরদস্তির এক বর্বর শাসন কায়েম করেছে আর এই জবরদস্তির সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন সমাজের নারী শিশুরা । তিনি এই অন্যায় জবরদোস্তির ধনীক শ্রেণীর শাসনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরে শ্রমিক-কৃষক, মেহনতী মানুষ ও বিবেকবান জনসাধারনকে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তোলাড় আহ্বান জানান । সেই আন্দোলনে বিজয় অর্জিত হলেই দিনাজপুরে ইয়াসমিন হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে ৭ শহীদ ও দেশে স্বাধীনতা আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অত্নদানকারী সকল শহীদের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

বক্তারা আরো বলেন,ইয়াসমিনের ধর্ষক চার পুলিশ সদস্যের ফাঁসি হলেও আন্দোলনকারী ৭ জনের হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার আজও হয়নি। নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষন ও হত্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নেই। সিনেমা-নাটক-বিজ্ঞাপনে নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মৌলবাদী-ধর্মান্ধরা নারীদের ফতোয়া দিয়ে ঘরে আটকে রাখতে চায়। এসবই হয় রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায়। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষন ও হত্যা বন্ধে কার্যকর আইন প্রণয়ন-প্রয়োগসহ যথাযত উদ্যোগ গ্রহন করার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান। বক্তারা সম্প্রতি অভিনেত্রী পরিমনিকে গ্রেফতার ও হয়রানী করার তিব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মুক্তি দাবী করেন। বক্তাগন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সকল আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান।

আলোচনা সভার শুরুতে শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ