সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করলে প্রশাসনের কেউ ছাড় পাবে না: গয়েশ্বর

- Advertisement -

যে সরকারকে জনগণ চায় না; সে সরকারকে টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের কেউ সাহায্য করলে, তারাও ছাড় পাবে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত সদ্য প্রয়াত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেমের স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রশাসনের বিতর্কিত ভূমিকার কড়া সমালোচনায় প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, যারা প্রশাসনে আছেন, তারা এখন থেকে সরকারের অবৈধ কাজে যাবেন না, সরকার রক্ষা করার দায়িত্ব প্রশাসনের নয়। পোশাকধারী কিংবা নন পোশাকধারী যেই হোন না কেন, এখনও সময় আছে, জনগণের পক্ষে আসুন। যে সরকারকে জনগণ চায় না, সে সরকারকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

বর্তমান দুরবস্থার জন্য রাজনীতিতে করপোরেটদের অনুপ্রবেশ দায়ী বলে মন্তব্য করেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, রাজনীতি করপোরেটদের হাতে চলে গেছে এবং তারাই আন্দোলন-সংগ্রামে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতার চেয়ে সম্পদ বেশি দরকার বলেই রাজনীতি থেকে রাজনীতিবিদরা বিতাড়িত হচ্ছেন।

বর্তমান শাসন ব্যবস্থার সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, আইয়ুবের মধ্যে যতটুকু লজ্জা ছিল, তা-ও বর্তমান সরকারের মধ্যে নেই। যেকোনো শ্বৈরাচারের মধ্যে লজ্জা থাকলেও লুটপাটকারী বর্তমান সরকার বুকটান করে কথা বলে।

এ সময় সরকারপ্রধানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘একক নিরঙ্কুশ ক্ষমতা যাদের বেশি প্রয়োজন, তাদের পরিণতি যে কী হবে, তা হয়তো আমি বলতে পারব না। অতীত ইতিহাস বলে দাম্ভিকতা, অহংকার, জনগণের অর্থ লুণ্ঠন করা, জনগণকে প্রতারিত করার ফল অত্যন্ত ভয়ানক।’

সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে জঙ্গিবাদ ইস্যুকে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের কথা বলে পশ্চিমা বিশ্বকে অন্ধকারে রাখতে চায় সরকার। জঙ্গিবাদকে পুঁজি করে যারা লুটপাট করে, তারা রাষ্ট্রটাকে বরবাদ করছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দরকার।

দেশের সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘দেশের মানুষ যখন বিপদে পড়ে, তখন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চালায়। জাতীয় ঐক্যের ফসল কার গোলায় গেছে, সেটা বড় কথা নয়, সে ফসল যাতে জনগণের গোলায় যায়, সে চিন্তা বিএনপি করছে। আমরা (বিএনপি) আমাদের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে একসঙ্গে পথচলা, পাশাপাশি পথচলা, আলাদা আলাদা মঞ্চে একজোটে কাজ করতে চাই।

বিএনপির এই নেতা ভারত প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনিবার্য। বিএনপি চায় সমমর্যাদার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে। দুটি রাষ্ট্র যে আলাদা, তাদের মর্যাদা যে আলাদা, সেই বন্ধুত্বে কেউ যদি সাড়া দেয়, তা থাকবে চিরকাল।’

আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, বিএনপির যে রূপরেখা আসবে সে রূপরেখা নিয়ে দীর্ঘসময় পথ চলতে হবে। রাতারাতি সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।’

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ