সরকার মুষ্টিমেয় ধনীদের স্বার্থে কোটি কোটি মানুষকে মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলেছে

স্টাফ রিপোর্ট।।

সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্হার নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে আগামী ৩১মে থেকে সবকিছু খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ এখনো পর্যন্ত সব জেলায় করোনা টেষ্টসহ চিকিৎসা সেবার কোন আয়োজন সরকার করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জুনের পুরো সময়কাল জুড়ে করোনা সংক্রমণ আরো ভয়াবহতার দিকে যাবে।

আজকে পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর মিছিল প্রতিদিন বাড়ছে। কোভিড হাসপাতাল, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, ডাক্তার ও নার্স- স্বাস্থ্যকর্মীর সুরক্ষার উপকরনের ঘাটতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে আমরা কতো অসহায়। এইসব ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ না নিয়ে লকডাউন তুলে নিয়ে সবকিছু খুলে দিলে সারাদেশে ব্যাপক জনগন করোনায় আক্রান্ত হবে। সেই আক্রান্ত মানুষরা চিকিৎসা না পেয়ে মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যুবরণ করবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমজীবি মানুষ। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল ( মার্কসবাদী) নেতা কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, সরকার শুরুতে ‘সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে’ এই ধরনের দায়িত্বহীন কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। আবার পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে যেভাবে লকডাউন ঘোষণা করেছে তা কোন কার্যকর ফলাফল বয়ে আনেনি। লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবি সাধারণ মানুষের পরিবার পরিচালনার নূন্যতম নগদ অর্থ সহযোগিতার ব্যবস্হা না করে ঘরে থাকতে বলা না খেয়ে মেরে ফেলার সামিল। খাবার না পেয়ে বাইরে বের হওয়া মানুষকেই আবার দোষারোপ করছে সরকারের মন্ত্রীরা। সরকারের চূড়ান্ত সমন্বয়হীনতা, হঠাৎ করে গার্মেন্টস খুলে দেয়া, ঈদকে সামনে রেখে দোকানপাট খুলে দিয়ে গাদাগাদি করে ফেরী চলাচলের কারনে আজ করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায় চলে গিয়েছে।

বিবৃতিতে বলেন,এই মুহুর্তে সর্বোচ্চ সংক্রামক এলাকাগুলোকে লাল -হলুদ-সবুজ জোনে বিভক্ত করা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অধিক সংক্রিমত এলাকায় মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কার্যকর লকডাউন ঘোষনা, সর্বোচ্চ সংখ্যক পরিক্ষা নিশ্চিত ও আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্হা করে পরিস্হিতি মোকাবেলা করতে হবে। অন্য জোনগুলোতে বিশেষজ্ঞদের মতামত সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিতে হবে। অথচ সরকার সে পথে না গিয়ে জাতীয় পরামর্শক কমিটির মতামত গ্রহন না করে জীবন- জীবিকা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্হার কথা বলে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলাফল হবে চরম আত্মঘাতি। এর দায় দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। এমনতর পরিস্থিতিতে জনগণকে যার যার অবস্থান থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

4 COMMENTS

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: