সারা বিশ্বে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত, খরচ বাড়ছে আপনার

- Advertisement -

কোথাও কম্পিউটারের চিপ সংকট, কোথাও গাড়ির যন্ত্রাংশের সংকট, কোথাও আবার বন্দরে পণ্যজট আর জাহাজজট। সারা বিশ্বের সরবরাহ ব্যবস্থায় এখন শনির দশা।

পণ্য ও জাহাজজট বাড়ায় সংকুচিত হচ্ছে সরবরাহ চক্র, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য যেটা অশনিসংকেত। দুঃস্বপ্ন বাড়িয়ে দিচ্ছে পণ্যের দাম। মহামারি থেকে উত্তরণও ব্যাহত হচ্ছে বাণিজ্যের এই বেহাল দশার কারণে।

করোনা মহামারি থেকে বিশ্ব অর্থনীতি উত্তরণের পথে দেখা দিচ্ছে একের পর এক জটিলতা। মহামারির সময় সারা বিশ্বে নৌবন্দরগুলোতে যে জাহাজ ও পণ্যজট দেখা দিয়েছিল, এবার তা মালামাল বোঝাই ও খালাসের সমস্যাকে আরও কঠিন করে তুলছে। ব্যাহত হচ্ছে ভোগ্যপণ্য ও কাঁচামালের স্বাভাবিক সরবরাহ।

এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজারগুলোতে শিগগিরই শুরু হবে বড়দিনের ছুটি উপলক্ষে কেনাকাটার মৌসুম। এর আগেই পণ্যের সংকটে কমতে পারে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা, মূল্যস্ফীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভোক্তারাও।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ায় টাইফুনের কারণে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ব্যাহত হয় জাহাজ চলাচল। সারাবিশ্বে জাহাজে পণ্য পরিবহন এই বছরের পুরোটাই ব্যাহত হয়েছে। সুয়েজ খালে জাহাজ আটকে পড়া, একাধিক বড় সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় এবং চীন ও ভিয়েতনামের মতো বৃহত্তম উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে করোনা মহামারিতে লকডাউনের প্রভাবে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয় শিপিং কোম্পানিগুলো। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে ট্রাকচালক ও বন্দর কর্মীর স্বল্পতাও ছিল। সঙ্গে ভোক্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা তো আছেই।

বন্দরে জাহাজ আসার পর পণ্য খালাস বা পণ্যবোঝাই শেষ করতে যে সময় লাগে তাকে বলা হয়, ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’- বিশ্বব্যাপী ৭৭ শতাংশ বন্দরগুলো এই ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ ট্রাফিকে অস্বাভাবিক বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছে। ২০২১ সালের সরবরাহ স্বল্পতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, বিশ্বের এক প্রান্তের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে আরেক প্রান্তে জাহাজ জটকে ভয়াবহ রূপ দিতে পারে। সৃষ্টি হতে পারে চাহিদামতো পণ্যের স্বল্পতা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনে যদি এখন জট কমেও যায়, তাহলে লস অ্যাঞ্জেলস ও লং বিচের মতো বন্দরে অপেক্ষা করা জাহাজের সারি দীর্ঘ হবে। নৌযান বন্দরে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার কারণেই এমন সমস্যা তৈরি হয়। এর আগে গত সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলস বন্দর সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সচল রাখার নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ইউরোপও স্বস্তিতে নেই। যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান বন্দর ফেলিক্সটোয়ি’তে ফেরত পাঠানোর জন্য রাখা খালি কন্টেইনারের স্তূপ এত বেড়েছে যে, একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজকে গতিপথ বদলে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের বন্দরে যেতে হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনা জাহাজশিল্পের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও দুঃসংবাদ। বড়দিনের ছুটি উপলক্ষ্যে ভোক্তারা প্রিয়জনদের জন্য পছন্দ তো উপহার কিনতে না পারার শঙ্কা আছে। চরম সংকটে পড়বে খুচরা বিক্রি।

সম্প্রতি হংকং ও শেনঝেন বন্দরে বিশাল জাহাজের সারির রেকর্ড দেখা যায়। অপেক্ষমাণ জাহাজের বর্তমান সংখ্যা মে মাসের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সে সময় করোনার বিস্তার রোধে শেনঝেন ও লানতিয়ান বন্দর এলাকায় লকডাউনের প্রভাব পড়েছিল।

ঝড়ের প্রভাব এশিয়ার আরেক বন্দরনগরী সিঙ্গাপুরও থমকে গেছে। পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথে অবস্থিত এ বন্দর। কিন্তু, সেখানেও এখন অপেক্ষমান জাহাজের দীর্ঘ লাইন। গত ২১ জুলাইয়ের পর যা সবচেয়ে বেশি। জুলাই মাসে চীনের সাংহাইতে আঘাত হানে টাইফুন ইন-ফা। সে সময় জাহাজের ভিড় বাড়ে সিঙ্গাপুরের বহির্নোঙরে।

এসব সামুদ্রিক ঝড় বা টাইফুন এশিয়ার তীব্র চাপে থাকা বন্দরগুলোর শ্বাস নেওয়ার অবস্থা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর অবকাঠামোগুলোর সক্ষমতাও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। একসঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত পণ্য খালাস করার সময় দেখা যাচ্ছে ট্রাকচালকের অভাব, রেলে পরিবহন ও গুদামজাত করার সমস্যা। মহামারি থেকে উত্তরণকে ব্যাহত করতে পারে বাণিজ্যের এই শনির দশা।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ