সিলিণ্ডারের গায়ে মূল্য লেখা না থাকায় গ্যাস বিক্রিতে নৈরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক

সরকারী এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারে দামও উল্লেখ করা থাকলেও বেসরকারি বিপনন কোম্পানীগুলো লাগামহীন। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর সিলিন্ডারের গায়ে দাম উল্লেখ করার সরকারের জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা মানছে না তারা।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারে দাম উল্লেখ করে দিতে। কিন্তু উদ্যোক্তারা এতে রাজি হচ্ছেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলপি গ্যাসের কাঁচামালের দাম কত, সেটি সবাই জানে। এছাড়া পরিবহন খরচ কত হয়, সেটাও বের করা যায়। কিন্তু একজন উদ্যোক্তা এক সিলিন্ডার এলপিজিতে কী পরিমাণ লাভ করছেন, তা একান্তই তার নিজস্ব বিষয়। এখানে উদ্যোক্তা কতদূরের ডিলারের কাছে বিক্রি করছেন, আবার সেই এলপিজি ডিলার কত দামে গ্রাহকের কাছে তা বিক্রি করবেন, তা জানা না থাকায় গ্রাহকরা ঠকছেন।’

আমাদের দেশের সকল ধরণের মোড়কজাত পণ্যের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখার বিধান রয়েছে। কিন্তু এলপি গ্যাস বিপনন কোম্পানীগুলো তা মানছেন না। তাতে না কি তাদের ব্যবসা ভাল হয় না।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সেই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘উদ্যোক্তারা বলছেন, এতদিন তাদের একেবারেই ব্যবসা হয়নি। তাদের বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হয়। সঙ্গত কারণে তারা সরকারের কঠোরতা মানতে রাজি নয় বলে আমাদের মনে হয়েছে।’


আরও পড়ুন  আমরা সমস্ত বাংলাদেশে যোগাযোগের একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করে দিচ্ছি ॥ প্রধানমন্ত্রী


কিছুদিন আগে সংসদেও এ নিয়ে আলোচন হয়। এক অধিবেশনে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জনান, ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর মালিকানাধীন সিলিন্ডারের গায়ে গ্যাসের খুচরা দাম ২০১২ সাল থেকেই লেখা হচ্ছে। কিন্তু বেসরকারি মালিকানাধীন সিলিন্ডারের গায়ে গ্যাসের দাম এখনও লেখা হয় না। তবে বিষয়টি বাস্তবায়ন করার জন্য বেসরাকরি এলপিজি বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কয়েক দফায় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘সরকার এলপিজি ব্যবসায়ীদের সবসময় নানা সুবিধা দেয়। তবে দামের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা মতো দাম বাড়িয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি)-কে অনেকবার বলা হলেও কেউ কোনও উদ্যোগ নেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নানা উদ্যোগের কথা মুখে মুখে শোনা গেলেও বাস্তবে তার কিছুই হয়নি।’

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে এলপি গ্যাসের চাহিদা ১০ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু বিপিসির বাৎসরিক সরবরাহের ক্ষমতা মাত্র ১৬ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ বাকি ৯ লক্ষ ৮৪ হাজার মেট্রিক টনের জন্য বেসরকারী বিপননকারী কোম্পানীগুলোর উপরেই নির্ভর করতে হয়। এতে করে বিপিসির বাজারজাতকৃত সিলিণ্ডরের দাম কমা বা বাড়ার সাথে বাজারের কোন প্রভাব পরে না।

সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি সিলিন্ডার এলপি গ্যাসের মূল্য ৭০০ টাকা। ২০০৯ সাল থেকে এই দামেই এলপি গ্যাস বিক্রি করছে তারা। আর বেসরকারি খাতে প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম ডিলার পর্যায়ে ৯৫০ টাকা। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হয় ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়।

খোদ রাজধানীতে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না পেয়ে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন অনেকে। বনশ্রীর এফ ব্লকের বাসিন্দা নূরে জান্নাত বলেন, ‘এলপিজি সিলিন্ডারের গায়ে দাম লেখা না থাকার কারণে বিতরণ কোম্পানিগুলো ইচ্ছা মতো দাম নেয়। তার প্রায়ই বলেন, দাম বেড়েছে। বলেই ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি রেখে দেয়। আমরাও বাধ্য হয়ে তা দিচ্ছি। একই অভিযোগ সিলিন্ডার ব্যবহারকারী প্রায় সব গ্রাহকের। তাদের দাবিও একটাই, সিলিণ্ডারের গায়ে দাম লেখা দেখতে চান তারা।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: