হাতীবান্ধায় খাদ্য গুদামে ধান চাল সংগ্রহে অনিশ্চয়তা

- Advertisement -

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় গত নভেম্বর মাস থেকে আমন ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অভিযানের শুরু থেকে এখন পযর্ন্ত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় নাম মাত্র ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র।

সরকার যে দামে ধান কিনছে , সে তুলনায় খোলা বাজারে ধানের দাম তুলনামুলক বেশি হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারী খাদ্য গুদামে ধান বিক্রিতে অনিহা দেখা দিয়েছে ।

এমন পরিস্থিতিতে ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ । তবে চাল সংগ্রহ নিয়ে আশাবাদী তারা।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন সুত্রে জানা গেছে , এবার বোরোধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১১১৫ মেট্রিকটন আর চাল ৩৫৭ মেট্রিকটন । ২৭ টাকা কেজি দরে ধান কিনছে সরকার ফলে ১২ ই জানুয়ারী পর্যন্ত মাত্র ১৮ টন ধান সরবরাহ করেছেন কৃষকরা ।

অন্য দিকে প্রতিকেজি চাউলের দাম ৪০ টাকা হারে নির্ধারন করে চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ৩৫৭ মেট্রিক টন । সেখানে এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৩১১’০৫০ টন। ১,০৮০ টাকা মণ দরে ধান ও ১,৬০০ টাকা মণ দরে চালের দাম নির্ধারন করা হয় । এক মাসের বেশি হলেও মাত্র ১৮ টন ধান ও ৩১১’০৫০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল আলম ।

বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় গত দু মৌসুমেই সরকারী গুদামে ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি ।

বাজারে প্রতিমণ চিকন ধান ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা এবং মোটা ধান ১হাজার ৮০ টাকায় বিক্রি বেচাকেনা হচ্ছে। সরকার যে দামে ধান কিনছে তা মুলত মোটা ধানের দাম ।

সংশ্লিষ্টরা জানান সরকার যখন ধান সংগ্রহ শুরু করেছে তখন অধিকাংশ কৃষকের গোলা শুন্য । বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় তারা আগেই ধান বিক্রি করে দিয়েছে ।

বড়খাতা পশ্চিম সারডুবী গ্রামের কৃষক আব্দুল আলী বলেন প্রায় ১৫০ মণের উপরে ধান পেয়েছিলাম , ১ হাজার ১০০ থেকে শুরু করে ১২০০ পর্যন্ত দামে ধান বিক্রি করে দিয়েছি । সামান্য কিছু ধান গোলায় আছে সরকার যে দামে ধান কিনছে তার চেয়ে বাজারে মণে ১০০- ১৫০ টাকা বেশি । তাই খাদ্য গুদামে ধান দেইনি ।

খোলাবাজারে মোটা চালের দর সরকারী দরের সমান হওয়ায় বিনা লাভে গুদামে চাল দিতে বাধ্য হচ্ছেন ৩৩জন মিল মালিক ।

হাতীবান্ধা উপজেলা মিল মালিক সমিতির সভাপতি মনোয়ার হোসেন দুলু জানান , গতবার সরকারী গুদামে চাল দিয়ে আমাদের লোকসান গুনতে হয়েছিলো । এবার ও আমরা কিছু ধান কিনেছি এখন আর কিনতে পারছি না কারন যে দামে ধান কিনছি তাতে চাল করে গুদামে দিলে আমরা অনেকেই লোকসানের মুখে পড়বো । গত কয়েকটি মৌসুমেই আমরা লোকসান দিয়েছি আরও লোকসান দিলে আমাদের আর ব্যবসা থাকবে না । খাদ্য অধিদফতর যে রকম চাউল চায় আসলে আমাদের এলাকায় এ রকম মিল নেই। আর লেবার সংকট তো আছেন তাই আমরা যথা সময়ে চাল দিতে ব্যার্থ হচ্ছি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু হেনা মোস্তফা কালাম বলেন, আমাদের সাথে ৩৩ জন মিলার চাল দেওয়ার চুক্তি করেছেন ফলে তারা চাল দিবেন । তবে বাজারে কিছুটা দাম বেশি হওয়ার ফলে কৃষকরা খোলাবাজারে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন । ফলে লক্ষমাত্রা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে ।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ