হ্যালান্ডের মতো পিতা-পুত্র এক ক্লাবে খেলেছেন যারা

- Advertisement -

সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হ্যালান্ড। বায়ার্ন মিউনিখ, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনার মতো ক্লাব তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী হলেও হ্যালান্ড বেছে নিয়েছেন ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের। হ্যালান্ডের সঙ্গে ম্যানসিটির সম্পর্ক ক্লাবে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই। তার পিতা আলফি-ইং হ্যালান্ডও ছিলেন একজন ফুটবলার। ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনিও খেলছেন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে। তবে পিতা-পুত্রের এক ক্লাবে খেলার এটাই একমাত্র উদাহরণ নয়।

ফুটবলার পিতার ফুটবলার সন্তানের উদাহরণ আছে অজস্র। এদের অনেকেই জায়গা করে নিয়েছেন সেরাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। পিতা যে ক্লাবের হয়ে খেলেছেন, পরবর্তী সময়ে সেই জুতোয় পা গলানোর উদাহরণও নেহায়েত কম নয়। এসি মিলানের মালদিনিদের কথাই ধরা যাক। সিজার মালদিনিকে দিয়ে এসি মিলানে মালদিনিদের রাজত্বের শুরু। এরপর পাওলো মালদিনিকে তো এসি মিলানের সর্বকালের সেরা হিসেবেই অনেকে আখ্যায়িত করে থাকেন। এখন এসি মিলানে তৃতীয় প্রজন্মের মালদিনি হিসেবে খেলছেন দ্যানিয়েল মালদিনি। এমন আরও কয়েকজন পিতা-পুত্রের জুটির কথা জানা যাক–

১. আলফি-আর্লিং হ্যালান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি): আসছে মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়া আর্লিং হ্যালান্ডের পিতা আলফি হ্যালান্ড পুত্রের মতো এত পরিচিত না হলেও ইংলিশ লিগের বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। রাইটব্যাক ও মিডফিল্ডার হিসেবে খেলায় পারদর্শী সিনিয়র হ্যালান্ড প্রিমিয়ার লিগে নটিংহ্যাম ফরেস্ট, লিডস ইউনাইটেড ঘুরে যোগ দেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। সেখানে খেলেন ৩৮ ম্যাচ। বাঁপায়ের হাঁটুর ইনজুরিতে ভোগা আলফির ক্যারিয়ার আরও সংক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক রয় কিনের কুখ্যাত এক ট্যাকলে। ইংলিশ লিগে তাদের দ্বৈরথ আলাদা মাত্রা পেয়েছিল এরপর।

পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সিটিতে যোগ দেওয়া হ্যালান্ড প্রিমিয়ার লিগে কতটুকু সফল হবে তা সময় বলে দেবে।

২. ইয়োহান-জর্দি ক্রুইফ (বার্সেলোনা): ইয়োহান ক্রুইফ ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন তার ক্রীড়াশৈলী ও দর্শনের জন্য। কোচ রাইনাস মিশেলের টোটাল ফুটবল ফিলোসফি তার হাত ধরেই নেদারল্যান্ডস দলে প্রতিষ্ঠা পায়। খেলোয়াড় ক্রুইফ আয়াক্সের হয়ে ইতিহাস গড়ে বার্সেলোনায় এসে পরিপূর্ণতা দেন ক্যারিয়ারকে। ফুটবল ইতিহাসকে সবচেয়ে প্রভাবিত করা তারকাদের মধ্যে অন্যতম ক্রুইফ বার্সেলোনার হয়ে ১৯৭৩-১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ১৪৩টি ম্যাচ খেলেন। এরপর ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পালন করেন কোচের দায়িত্ব।

পিতার মতো সফল হতে না পারলেও জর্দি ক্রুইফ খেলেছেন বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে। ক্রুইফ যখন বার্সেলোনার কোচ তখন ১৯৯৪-৯৬ পর্যন্ত বার্সেলোনার হয়ে ৪১ ম্যাচ খেলেন জর্দি।

৩. সিজার-পাওলো-দ্যানিয়েল মালদিনি (এসি মিলান): পিতা-পুত্রের সঙ্গে নাতিও যোগ হয়েছে মালদিনিদের গল্পে। ক্লাব ফুটবলে পিতা-পুত্রের গল্পে সবচেয়ে বিখ্যাত মালদিনিরাই। এই গল্পের শুরু সিজার মালদিনিকে দিয়ে। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৬ পর্যন্ত এসি মিলানের হয়ে ৩৪৭টি ম্যাচ খেলে ক্লাবটির কিংবদন্তিতে পরিণত হন সিজার।

এসি মিলানে এরপর তার জার্সি গায়ে জড়ান সিজার পুত্র পাওলো। সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন হিসেবে নিজেকে পরিণত করার পথে পাওলো এসি মিলানের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জয় করেন। যার মধ্যে রয়েছে ৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ১৯৮৪-২০০৯ পর্যন্ত ২৫ বছর একটানা এসি মিলানে খেলে অবসরে যান পাওলো। তার অবসরের সঙ্গে সঙ্গে অবসরে পাঠানো হয় তার পরিহিত ৩ নম্বর জার্সি। কথা ছিল মালদিনি পরিবারের কেউ ভবিষ্যতে এসি মিলানের হয়ে খেললে এই ৩ নম্বর জার্সি তার গায়েই উঠবে।

পাওলোর উত্তরসূরি হয়ে এখন এসি মিলানে খেলছেন তার পুত্র দ্যানিয়েল। ২০০১ সালে জন্ম নেওয়া দ্যানিয়েল অবশ্য পিতামহ ও পিতার মতো ডিফেন্ডার নন। বরং তিনি খেলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে। ২০২০ সালে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু করা দ্যানিয়েল এখন পর্যন্ত এসি মিলানের জার্সি গায়ে চড়িয়ে খেলেছেন ১৫টি ম্যাচ। তিনি অবশ্য পিতার ৩ নম্বর জার্সি পরছেন না। এসি মিলানে দ্যানিয়েলের জার্সি নম্বর ২৭।

৪. ড্যানি-দালি ব্লিন্ড (আয়াক্স): ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত আয়াক্সে খেলেন নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ড্যানি ব্লিন্ড। ড্যানি সেই সৌভাগ্যবান দুজন ডাচ ফুটবলারের একজন যারা উয়েফার সব টুর্নামেন্ট জিতেছেন। তার পথ ধরে পুত্র দালিও বেছে নিয়েছেন ফুটবল। ২০০৮-২০১৪ পর্যন্ত প্রথম দফায় তিনি আয়াক্সে খেলেন। মাঝে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে চার বছরের ব্যর্থ ক্যারিয়ার শেষে ফের আয়াক্সে যোগ দেন এই তারকা। মিডফিল্ড ও ডিফেন্সে সমান তালে খেলতে পারা দালি আয়ক্সের হয়ে এখন পর্যন্ত ২১২টি ম্যাচ খেলেছেন।

৫. প্যাট্রিক-জাস্টিন ক্লুইভার্ট (আয়ক্স): ১৯৯৪-৯৭ পর্যন্ত আয়াক্সে খেলেন নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট। আয়াক্সের গোল্ডেন জেনারেশনের সদস্য প্যাট্রিক সেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেকে বার্সেলোনার কিংবদন্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।

প্যাট্রিকের ছেলে জাস্টিন পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আয়াক্সের যুবদলে যোগ দিয়ে ২০১৬ সালে মূল দলে জায়গা করে নেন। সেখানে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৪৪টি ম্যাচ খেলেন তিনি।

৬. জিনেদিন-এনজো জিদান (রিয়াল মাদ্রিদ): রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করে ইতিহাস গড়ার আগে জিনেদিন জিদানের পরিচয় ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতস সেরা ফুটবলার হিসেবে। কোচ হিসেবেও তার অর্জন তাকে জায়গা করে দিয়েছে সেরা কোচদের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। জিদান খেলোয়াড়ি জীবনে ২০০১-০৬ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে খেলে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ বেশ কিছু শিরোপা জয় করেন। ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ভলিতে করা তার গোলটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত।

জিদানের ছেলে এনজো জিদান রিয়াল মাদ্রিদ একাডেমিতে খেলেছেন। রিয়ালের সিনিয়র দলেও অভিষেক হয়েছিল তার।

৭. কার্লেস-সার্জিও বুসকেটস (বার্সেলোনা): বার্সেলোনা একাডেমির গ্র্যাজুয়েট কার্লেস বুসকেটস বার্সেলোনার গোলরক্ষক হিসেবে ১৯৯০-৯৯ পর্যন্ত ৭৯টি ম্যাচ খেলেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন পুত্রও। বার্সেলোনার সর্বজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সার্জিও বুসকেটস নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে। ২০০৮ সাল থেকে বার্সার মূল দলে খেলা বুসি এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন ৪৪৯ ম্যাচ।

৮. মিগুয়েল-মিকেল ও জাভি আলনসো (রিয়াল সোসিয়েদাদ): স্পেন জাতীয় দলের হয়ে ২০ ম্যাচ খেলা মিগুয়েল ১৯৭৭-১৯৮২ পর্যন্ত ১৫২টি ম্যাচ খেলেছেন রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে। পরবর্তী সময়ে বার্সেলোনার হয়েও খেলেন তিনি। তার দুই পুত্রও ফুটবলার হিসেবে মাঠ মাতিয়েছেন। বড় ছেলে মিকেল ২০০১-২০০৮ পর্যন্ত ১০৮টি ম্যাচ খেলেন সোসিয়েদাদের হয়ে।

এই পরিবারের সবচেয়ে বিখ্যাত ফুটবলার মিগুয়েলের দ্বিতীয় ছেলে জাভি। সোসিয়েদাদের পক্ষে ২০০০-০৪ পর্যন্ত ১১৪টি ম্যাচ খেলা জাভি আলনসো পরবর্তী সময়ে লিভারপুল ও বায়ার্নে খেলেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন তিনি।

৯. দিয়েগো-গুইলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ): অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনে খেলোয়াড়ি জীবনে দু-দফায় খেলেছেন ক্লাবটিতে। প্রথম দফায় ১৯৯৪-৯৭ সাল পর্যন্ত ৯৮টি ম্যাচ খেলা সিমিওনে দ্বিতীয় দফায় ২০০৩-০৫ পর্যন্ত অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে আরও ৩৫টি ম্যাচ খেলেন। তার বড় ছেলে জিওভান্নি সিরি ‘আ’ ক্লাব হেল্লাস ভেরোনায় খেললেও দ্বিতীয় ছেলে গুইলিয়ানো খেলেন পিতার ক্লাবে। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের যুবদলের এই খেলোয়াড় সিনিয়র দলের হয়েও এই মৌসুমে একটি ম্যাচ খেলেছেন।

১০. রিভালদো-রিভালদিনহো (মোগি মিরিম): তালিকার বাকি পিতা-পুত্রের গল্পের চেয়ে এই পিতা-পুত্রের গল্প কিছুটা আলাদা। বাকিরা আলাদা আলাদা সময়ে একই ক্লাবে খেললেও ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রিভালদো খেলেছেন তার ছেলে রিভালদিনহোর সঙ্গে জুটি বেঁধে। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব মোগি মিরিমের হয়ে ২০১৪-১৫ মৌসুমে এই বাপ-ছেলে জুটি একই সঙ্গে মাঠে নেমেছেন। রিভালদো দলটির হয়ে আটটি ম্যাচ খেলেন। অন্যদিকে পুত্র রিভালদিনহো খেলেন ২৭টি ম্যাচ।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ