২৫ শে বৈশাখ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০তম জন্মবার্ষিকী

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশী(বাংলাদেশী) শিক্ষার্থী হিসাবে পড়ার সুবাদে শান্তিনিকেতনে সোনালি কিছু সময় কাটানো সুযোগ হয়েছে। সেই সাথে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শান্তিনিকেতন সম্পর্কেও একটা অনুভূতি ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে।

আজ ২৫শে বৈশাখ কবিগুরুর ১৬০তম জন্মবার্ষিকী। ১২৬৮ সালের ২৫ শে বৈশাখের কোলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ও মা সারদাদেবীর কোল আলো করে যে শিশু জন্ম নিয়েছিলেন সে বিশ্বের কবি আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শৈশবে বিভিন্ন স্কুলে তাঁকে ভর্তি করা হয় কিন্তু শিশু রবীন্দ্রনাথ চার দেওয়ালে আবদ্ধ বিদ্যালয় বা প্রথাগত শিক্ষা কোনোটাই খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেননি । বাড়ির অনুকূল পরিবেশে এবং পিতার সান্নিধ্যে থেকেই তিনি প্রকৃত শিক্ষা লাভ করেন বলে মনে করা হয়। তিনি প্রাচীন ভারতবর্ষের তপোবনে যে ভাবে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পাদিত হত সেই আদর্শে জীবনে অতিবাহিত করেছিলেন। পরিণত বয়সে শান্তিনিকেতনে আশ্রমিক বিদ্যালয় গড়ে প্রকৃতির মুক্তাঙ্গনে বসে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দিতেন । শান্তিনিকেতনে তিনি শিক্ষক নন, গুরুদেব ।

রবীন্দ্রনাথ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। সবথেকে বড় পরিচয় তিনি কবি । বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তার রয়েছে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি । সোনারতরী, ক্ষণিকা, মানসী, পূরবী, চিত্রা, গীতালী, গীতাঞ্জলি এর মতো অজস্র কাব্য-কবিতা। ডাকঘর, রাজা, রক্তকরবী, বিসর্জন প্রভৃতি অসামান্য নাট্যসম্ভা। বৌঠাকুরানীর হাট, গোরা, চতুরঙ্গ, ঘরে বাইরে প্রভৃতির মত উপন্যাস। ছুটি, সুভা, দানপ্রতিদান, পোস্টমাস্টার, দেনাপাওনা অতিথির মতো অসংখ্য ছোট গল্প। তার কৃতকর্ম বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। শিক্ষা, দর্শন, রাজনীতি, সমাজনীতি, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয় একাধিক প্রবন্ধ আছে। সঙ্গীতেও তার অবদান বিশাল সমুদ্রের মতো। প্রেম, প্রকৃতি, পূজা ঈশ্বরভাবনা সবকটি দিকেই রয়েছে অজস্র গান।

দেশে বিদেশে বহু জায়গায় তিনি আমন্ত্রিত হয়েছেন এবং ভ্রমণ করেছেন । বাইরের জগৎ নিয়ে রচনা করেছেন গীতিনাট্য, নাট্যকাব্য যেমন— বাল্মীকির প্রতিভা, চিত্রাঙ্গদা, শ্যামা, চন্ডালিকা প্রভৃতি। প্রতিটি নাটক, নৃত্যনাট্যয় মানবতার চরম সত্যকে প্রকাশ করেছেন বারবার।

তাই কবি গুরুর জন্মবার্ষিকীতে বর্তমান যুগের সাথে তাল-মিলায়ে দুটি কথা লিখতে ইচ্ছা করতেই পারে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে, দুই বাংলাই (পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ) এই দিবসটি দুইটি ভিন্নভিন্ন দিনে অনুষ্ঠিত হয়। আজ ভারতে (পশ্চিমবঙ্গ) ২৫ শে বৈশাখ হলেও বাংলাদেশে ২৫শে বৈশাখ ছিলো গতকাল। তাই ভার্চুয়াল মাধ্যমের স্টেটাস দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিত হয়। এই একটি সমাধান কি আর আসবে না!

- Advertisement -

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ

Bengali Bengali English English German German Italian Italian
%d bloggers like this: