Home Blog

ইরানে সহিংস বিক্ষোভ অব্যাহত, ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন দেশে

পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ইরানে সহিংস বিক্ষোভ চলছেই। দমনের চেষ্টা করছে সরকার। এ পর্যন্ত আটক করা হয়েছে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে। সহিংস বিক্ষোভে এরই মধ্যে ৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির ৩১টি প্রদেশে। ইরান ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা।

পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর জেরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। চলমান বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এ কথা বলেন রাইসি। এমনকি দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা যারা আমলে নিচ্ছে না, তাদের পরিকল্পিতভাবে মোকাবিলার কথাও জানান তিনি।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের দমাতে কাঁদানে গ্যাস, বেয়নেট, জলকামান ও গুলির মতো প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি অত্যাধুনিকসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এই বিক্ষোভের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় জনগণ। মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে ইরানের ৩০টির বেশি প্রদেশের পাশাপাশি বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ বিক্ষোভ। এতে আটক করা হয়েছে সহস্রাধিক আন্দোলনকারীকে।

ইরানের বিক্ষোভের এ আগুন ছড়িয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিস, জার্মানি, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। রাস্তায় নেমে নিজের চুল কাটার পাশাপাশি প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এ ঘটনার।

এ ছাড়া ইরানের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে লন্ডনেও। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) শহরের রাস্তায় বিক্ষোভে নামেন কয়েকশ বিক্ষোভকারী। পরে লন্ডনে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের সামনে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তারা। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে নিরাপত্তা বাহিনী। একপর্যায়ে দুই পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ওই এলাকা। এদিন অন্তত ১২ বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।

একজন বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমি এখানে এসে চুল কাটছি। কারণ, ইরানে হিজাবের কারণে আজ না হয় কাল আমাদের অনেক বোন মরতে যাচ্ছে। আমি এটা চাই না। আমি এটি ঘৃণা করি। এখানে এসে আমি তাদের সমর্থন জানাতে চাই–যাদের প্রতিবাদের কোনো ভাষা নেই।’

গত সপ্তাহে ঠিকমতো হিজাব না পরার অভিযোগে মাহসা আমিনিকে গ্রেফতার করে ইরানের পুলিশ। পরে তাদের হেফাজতেই মৃত্যু হয় তার। তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে–এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রেফতার হওয়ার পর মাহসা আমিনি ‘হৃদ্‌রোগে’ আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে যান এবং পরে তার মৃত্যু হয়। তার পরিবারের দাবি, মাহসা আমিনির হৃদ্‌রোগ ছিল না।

দেবী দুর্গাকে বরণ, রাজধানীর মন্দিরে মন্দিরে ব্যাপক আয়োজন

মহালয়ায় চণ্ডিপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করতে রাজধানীর মন্দিরে মন্দিরে ছিল ব্যাপক আয়োজন। উত্তরা পশ্চিম ও পূর্ব থানাধীন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে সমবেত হয় নানা শ্রেণি-পেশার হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভক্তরা।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মহালয়ার পুণ্যতিথিতে উত্তরা পশ্চিম ও পূর্ব থানাধীন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টর মাঠে শুরু হয় আয়োজন। অনুষ্ঠানে যোগ দেন নানা শ্রেণি-পেশার হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভক্তরা। সবার চোখে-মুখে প্রশান্তির ছাপ, মহাষষ্ঠীতে দেবীকে বরণ করে নেয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষাও স্পষ্ট।

ভক্তরা বলেন, এই পূজা উপলক্ষে আমরা ধর্ম-বর্ণের সবাই যেন একসঙ্গে মিলিত হতে পারি, সেই প্রার্থনাই করি। এখানে আমরা সবাই মিলে অনেক আনন্দ করব। আর সবার শান্তির জন্য মায়ের কাছে প্রার্থনা করব।

সবার ঐক্যের মাধ্যমে পুরো বিশ্বে চলমান সব অস্থিরতা অচিরেই কেটে যাবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।

উত্তরা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সহ-আহ্বায়ক প্রণব দাসগুপ্ত বলেন, ‘আজকের পুরো বিশ্বাটাই বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোনো দিকেই স্থায়ীভাবে বসে নেই পৃথিবী। আমরা দেবী দুর্গার আরাধনা করছি যেন মায়ের কৃপায় এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারি।’

১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হয়ে ৫ অক্টোবর মহাদশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

‘বিয়ে’ করছেন প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা

টালিপাড়ায় আলোচিত জুটির নাম ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিৎ। ব্যক্তিজীবনে দুজনেরই অনেক চড়াই-উতরাই দিয়ে জীবন এগিয়ে চলেছে। প্রসেনজিৎকে দেখা গেছে একাধিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে। অন্যদিকে ঋতুপর্ণার বিবাহিত জীবনে অনেক টানাপড়েনই চলেছে প্রসেনজিৎকে কেন্দ্র করে।

টালিপাড়ার বাতাসে প্রেমের গুঞ্জনও উঠেছে বারবার এই জুটিকে নিয়ে। তবে এবার সব উত্তরই দর্শক পেতে যাচ্ছেন। আগামী ২৫ নভেম্বর ‘বিয়ের’ পিঁড়িতে বসছেন তারা। তবে তা বাস্তবে নয়।

চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের নতুন ছবি ‘প্রসেনজিৎ ওয়েডস ঋতুপর্ণা’।

নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে ব্যক্তিগত জীবনের নানা গুঞ্জনকে ভালোই কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে ছবিটিতে। এ ছবির পরিচালক সম্রাট শর্মা।

চমকে পরিপূর্ণ এ ছবি নিয়ে আগে থেকেই কিছু বলতে নারাজ ছবির পরিচালক সম্রাট শর্মা। নতুন এ ছবিতে দর্শকরা দেখতে পাবেন অভিনেতা ঋষভ বসু আর ঈপ্সিতা মুখোপাধ্যায়কে। তবে তাদের জুটি হিসেবে দেখা যাবে কি না, এ তথ্য পরিচালক এখনই স্পষ্ট করতে চান না দর্শকের কাছে।

আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ডাক ভারত-চীনের

ইউক্রেন ইস্যুতে ঘরে-বাইরে চাপের মুখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই এবার পুতিনের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছে রাশিয়ার বিরোধী শিবির। ইউক্রেনে নতুন করে সেনা মোতায়েনের প্রতিবাদে বিভিন্ন শহরে চলছে বিক্ষোভ। দুই মিত্র চীন ও ভারত রাশিয়াকে সমর্থন দিলেও এখন আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ অবসান চায় তারা।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। সাত মাস হতে চললেও যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং ইউক্রেনে সামরিক অভিযান জোরদার করতে নতুন করে সেনা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর নতুন নতুন এলাকা পুনরুদ্ধার ও রুশ সেনা হতাহতের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো সরাসরি এ যুদ্ধে অংশ না নিলেও রাশিয়াকে চাপে রাখতে চালিয়ে যাচ্ছে নানামুখী তৎপরতা। রাশিয়ার ওপর অবরোধের পাশাপাশি ইউক্রেনকে অস্ত্র ও অর্থসহায়তা করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। এতে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা চাপ উপেক্ষা করে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও এখন নিজ দেশেই ক্ষোভের মুখে পুতিন। ইউক্রেনে আরও তিন লাখ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাশিয়াজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। প্রতিদিনই দেশটির বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিবাদ করছেন পুতিনবিরোধীরা।

ইউক্রেন যুদ্ধে মিত্র দেশ রাশিয়াকে সমর্থন দিয়ে এলেও আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে চীন ও ভারত। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ইউক্রেনে সংঘাত অবসানে জোরালোভাবে আহ্বান জানিয়েছেন দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

চলতি মাসের শুরুর দিকে উজবেকিস্তানে রুশ ও চীনা প্রেসিডেন্টের বৈঠকে ইউক্রেন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকার পরও রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক ধরে রেখেছে ভারত। মস্কোর কাছ থেকে অস্ত্র ও জ্বালানি ক্রয় করেছে দিল্লি। এ নিয়ে অবশ্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে টানাপোড়েনও সৃষ্টি হয় মোদি সরকারের।

তবে নিজ দেশের সুরক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দিতে নারাজ পুতিন। লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তান ও শ্রীলংকাকে ঝুলিয়ে রেখেছে চীন

অর্থনৈতিক চাপের সম্মুখীন পাকিস্তান ও শ্রীলংকা উভয়ই সহায়তা পেতে দীর্ঘ সময় ধরে চীনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে চীন। কিন্তু সবসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটি যে আর্থিক সহায়তা চাইছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তার ঘোষণা দেয়নি বেইজিং।

অন্যদিকে, স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকট মোকাবিলা করছে শ্রীলংকা। পাকিস্তানও গত মাসে ভয়াবহ বন্যায় ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে উভয় দেশ চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় চালিয়ে গেলেও আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। যে কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দিকে ঝুঁকছে তারা।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক সহায়তার ব্যাপারে আইএমএফের নতুন প্রতিশ্রুতিসমূহ এখন চীনের কাছে দুই দেশের বকেয়া ঋণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। গত পাঁচ বছরে দুই দেশকে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার অর্থ দিয়েছে চীন।

পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ জানিয়েছে, পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া এবং চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেংয়ের সঙ্গে জিয়ানে আলোচনা করেছেন। পাকিস্তানকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছে চীন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, জেনারেল ওয়েই উভয় দেশকে একসঙ্গে সমস্যা কাটিয়ে উঠার, একে অপরকে সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করার এবং এগিয়ে যাওয়ার পথে একে অপরের মূল স্বার্থকে অটলভাবে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু পাকিস্তানকে সহায়তার কোনো প্রস্তাবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। তবে বেইজিং এর আগে ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের ত্রাণ সরবরাহ করেছিল।

এছাড়া শ্রীলংকা ৪০০ কোটি ডলার ঋণের জন্য চীনকে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু কয়েক মাস ধরে টানা আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি।

এদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর শ্রীলংকাকে ২৯০ কোটি ডলার ঋণ দিতে রাজি হয়েছে আইএমএফ। ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক ঋণ চুক্তিও হয়েছে। তবে এ ঋণ শ্রীলংকা তখনই পাবে, যখন শ্রীলংকার বিদ্যমান ঋণ পুনর্গঠন করতে চীন, ভারত ও জাপানসহ অন্যান্য প্রধান ঋণদাতা দেশ এগিয়ে আসবে।

‘ওয়াসার এমডি ও উত্তর সিটি মেয়রকে জেলে পাঠাতে হবে’

নদী দূষণের দায়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠাতে চান জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মনজুর আহমেদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ওয়াসার এমডি, উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রকে মোবাইল কোর্টের সম্মুখীন করব আমরা, চাইব যেন তাদের ছয় মাসের জেল, চার লাখ টাকা জরিমানা হয়।’

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ঢাকার চারপাশের নদনদী দূষণের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিদিন ঢাকা শহরের মানুষ ৫০ লাখ কেজি মল ও ১৫০ কোটি লিটার মূত্র উৎপাদন করে। ঢাকা ওয়াসার দায়িত্ব ছিল এগুলো শোধন করা, কিন্তু এগুলো সিটি করপোরেশনের পানি নিষ্কাশন নালার মাধ্যমে নদ-নদীতে গিয়ে পড়ে।’

পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকা ওয়াসার এই ব্যর্থতার কারণে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চান তিনি।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় খাল পরিদর্শনের উদাহরণ টেনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, খালের ময়লা-আবর্জনা যাতে নদীতে গিয়ে না পড়ে সেজন্য খালের মুখে নেট দিতে বলা হয়েছিল। উত্তর সিটি করপোরেশন এখনো সে কাজ করেনি।

এ জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও তিনি একই ধরনের শাস্তির কথা বলেন।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওয়াসার এমডি, উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রকে মোবাইল কোর্টের সম্মুখীন করব আমরা, চাইব যেন তাদের ছয় মাসের জেল, চার লাখ টাকা জরিমানা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার খালগুলোর অবস্থাও এখন ভালো নয়।

তবে বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান। বরং তিনি দক্ষিণের মেয়রকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।

মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, খালের দূষিত পানি যাতে নদীতে গিয়ে না পড়ে সেজন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র খালের মুখে বর্জ্য শোধনাগার করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

সভায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদী ও পরিবেশ নিয়ে এখন কিছুটা রাজনীতি হচ্ছে। নদী ও পরিবেশ নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

ঢাকার চারপাশের নদ-নদী রক্ষায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যথাযথ চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নদ-নদী অবৈধ দখলের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি দখলমুক্ত করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ কাজটি ভালোভাবে করেছে। ঢাকার চারপাশের নদ-নদীকে ঘিরে যে চ্যালেঞ্জ, সেই চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে হবে।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস প্রমুখ বক্তব্য দেন। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডির নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

পরমাণু অস্ত্র নিয়ে রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হুঁশিয়ারি

পরমাণু অস্ত্র নিয়ে এবার রাশিয়াকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলেছে, মস্কো যদি ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে তাদের ‘বিপর্যয়কর’ পরিণতি বরণ করতে হবে। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) এ হুঁশিয়ারি দেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান।

ইউক্রেনের ন্যাটোয় যোগদান ঠেকাতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী।

তবে সম্প্রতি ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ খারকিভের ইজিয়াম শহর থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া। এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দিতে ইউক্রেনে রুশ অধিকৃত অন্তত চারটি অঞ্চলে গণভোট চলছে।

গত শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষ হলেই এই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে একীভূত করতে দেশটির পার্লামেন্টে আলোচনা শুরু হবে।

এমন পরিস্থিতিতে অধিকৃত অঞ্চলগুলোর সুরক্ষায় ‘প্রয়োজনে’ পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন রুশ কর্মকর্তারা। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। একই সঙ্গে অধিকৃত অঞ্চলে গণভোটের ঘটনায় রাশিয়ার ওপর আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে জাপোরিজিয়া পরমাণু কেন্দ্রের পাশে ইউক্রেনীয় বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। এসব হামলায় অন্তত আটটি ‘কামিকেজ ড্রোন’ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি দেশটির।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রুশ বাহিনী পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে সব কটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এর আগে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানায়, বন্দরনগরী ওডেসাতে ইরানের তৈরি ড্রোন দিয়ে সারা রাত হামলা চালিয়েছে রুশ সেনারা।

রাশিয়ার দাগেস্তানে সেনা সমাবেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

রাশিয়ায় নতুন করে সেনা সমাবেশের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ হচ্ছে। দেশটির মুসলিম অধ্যুষিত দাগেস্তানে বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। খবর বিবিসির।

ইউক্রেনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নতুন করে সেনা সমাবেশের ঘোষণার পর দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন বহু মানুষ। অনেকেই এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করছে পুলিশ।

দাগেস্তানের রাজধানী মাখাচকালায় রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পুতিনের ঘোষণার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এসব সংঘর্ষের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর স্টেনগান ব্যবহার করছে এবং লাঠিচার্জ করছে।

আরেক ভিডিওতে একদল বিক্ষোভকারীর হাত থেকে বাঁচতে এক পুলিশ সদস্যকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়।

জানা যায়, দাগেস্তানে বিক্ষোভের সময় অনেককে গ্রেফতার করে নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে খুবই কঠোর এবং বেপরোয়াভাবে বিক্ষোভকারীদের আটক করার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়ার স্বতন্ত্র মানবাধিকার গোষ্ঠী ওভিডি-ইনফো।

সংবাদমাধ্যম জানায়, দাগেস্তান মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। এর আগেও সেখানে বিদ্রোহ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং জাতিগত সহিংসতার ইতিহাস আছে।

সম্প্রতি রাশিয়াজুড়ে বড় বড় শহরে শুরু হওয়া বিশাল বিক্ষোভ এবং ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানের মধ্যে দাগেস্তানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের চিত্র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বিরল সহিংসতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা দেন। এতে দেশটির অন্তত তিন লাখ রিজার্ভ সেনা ডাকা হচ্ছে।

দাগেস্তানে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আপনারা আমাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে যাচ্ছেন কেন? কে আক্রান্ত হয়েছে? রাশিয়া আক্রান্ত হয়েছে? তারা আমাদের কাছে আসেনি। আমরাই ইউক্রেনে হামলা করছি। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করেছে। এ যুদ্ধ থামান।’

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে যেতে অস্বীকার করলে সেনাদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। একইভাবে যুদ্ধের ময়দানে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলেও দেয়া হবে শাস্তি। সেই শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড।

এমন নির্দেশনা দিয়ে একটি ডিক্রি জারি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনে নতুন করে আরও সেনা মোতায়েনের ঘোষণার তিন দিন পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন এ নির্দেশনা দিয়েছেন পুতিন।

এর মধ্যেই নতুন সেনা সমাবেশ বাস্তবায়ন শুরু করেছে রাশিয়া। শুরু হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়াও। শুরুতেই বাহিনীতে যোগ দেয়ার ডাক পড়েছে রাজধানী মস্কোর নাগরিকদের। এ জন্য এরই মধ্যে একটি ডিক্রি জারি করেছেন মস্কোর মেয়র। এতে প্রতি সেনাকে মাসিক ৫০ হাজার রুবল বেতন দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

রুশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাদের সামরিক প্রশিক্ষণ আছে এবং যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা আছে কেবল তাদেরই রিজার্ভ সৈন্য হিসেবে ডাকা হবে।

জানা যায়, দাগেস্তান থেকে এরই মধ্যে হাজার হাজার সেনা ইউক্রেনে লড়াই করতে গেছে বলে ধারণা করা হয়। বিবিসি রাশিয়ান সার্ভিসের সর্বসাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউক্রেনের লড়াইয়ে রাশিয়ার যেকোনো প্রদেশের তুলনায় এই দাগেস্তানেরই সবচেয়ে বেশি সেনা হতাহত হয়েছে।

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ মাসের শুরুতে ইউক্রেন যুদ্ধে অন্তত ৩০১ সেনা নিহত হয়েছে, এ সংখ্যা রাজধানী মস্কোর সেনার তুলনায় ১০ গুণ বেশি।

রাখাইন গ্রাম পুড়িয়ে দিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের বুথিডং টাউনশিপের (উপজেলা) একটি গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে দেশটির দখলদার সেনাবাহিনী। স্থানীয় সময় শুক্রবার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী থাপিকে তুয়াং নামে ওই গ্রামটিতে আগুন দেয় জান্তা সেনা।

মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামটির এক বাসিন্দা মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম নারিনজারাকে বলেন, শুক্রবার গ্রামটিতে একযোগে হঠাৎ অসংখ্য গোলা নিক্ষেপ করে সেনাবাহিনী। এরপরই গ্রামটিতে প্রবেশ করে তারা।

তিনি বলেন, এ সময় আতঙ্কে গ্রামবাসী পালিয়ে যেতে শুরু করেন। পরে সেনাবাহিনী গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, ওই গ্রামে ৬০টি বেশি বাড়ি এবং ৩০০ জনের মতো মানুষ বাস করতেন।

গ্রামটির অপর এক বাসিন্দা জানান, সেনাবাহিনীর ছোড়া একটি গোলার আঘাতে দুজন আহত হয়েছেন। হামলা শুরু হলে আতঙ্কে গ্রামবাসী নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ছোটাছুটি করতে থাকেন।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও নাসাকা যখন গ্রামে প্রবেশ করে, তখন তারা বিরামহীন গুলি ছুড়ছিল। পরে গ্রামে প্রবেশ ঢুকে ঘরবাড়িতে আগুন দিতে শুরু করে।

গ্রামটি থেকে পালিয়ে যাওয়া অন্য এক বাসিন্দা বলেন, সেখানে কেবল বয়স্ক ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাদের পালিয়ে আসার ক্ষমতা নেই। এমনকি তারা নড়াচড়াও করতে পারেন না।

‘ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক আগেই সেখানে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাই গ্রামে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে কিছুই জানি না আমরা,’ বলেন তিনি।

অন্যদিকে আরাকান প্রিন্সেস মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার থাপিকে তুয়াং গ্রামে হামলা চালিয়ে জান্তা বাহিনী গ্রামটি জ্বালিয়ে দিয়েছে।

পঞ্চগড়ে ট্রলারডুবি: মৃত্যু বেড়ে ৩০

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। নতুন করে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে।

এদিকে সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে আবারও কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপেই ট্রলার ডুবে যায় বলে জানিয়েছেন বেঁচে ফেরা যাত্রীরা।

সোমবার সকালে মাড়েয়ায় দুজন, দেবীগঞ্জে দুজন ও দিনাজপুর খানসামা এলাকা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহালয়া উপলক্ষে করতোয়া নদী ট্রলারে পার হচ্ছিলেন শতাধিক সনাতন ধর্মের মানুষ। এ সময় ট্রলারটি কিছুদূর যাওয়ার পর দুলতে শুরু করলে মাঝি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নদীর মাঝখানে ট্রলারটি ডুবে যায়। অনেকেই সাঁতরে তীরে উঠলেও শিশুসহ বাকিরা ডুবে যায়।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ২১ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

এরা হলেন: উপজেলার মাড়েয়া ফুটকিবাড়ী এলাকার হেমন্তের মেয়ে কলি রানী (১৪), দেবীগঞ্জ শালডাঙা হাতিডোবার কার্তিক রায়ের স্ত্রী লক্ষ্মী রানী (২৫), কাবুল চন্দ্র রায়ের ছেলে দিপঙ্কর চন্দ্র রায় (৩), মাড়েয়া বামনপাড়া এলাকার সজিব চন্দ্র রায়ের মেয়ে প্রিয়ন্তী (২), দেবীগঞ্জের লক্ষ্মীগড় ডাঙাপাড়া এলাকার চন্ডি দাসের স্ত্রী প্রমিলা রানী (৫৫), দেবীগঞ্জ পশ্চিম শিকারপুর এলাকার কালি কান্তের ছেলে অমল চন্দ্র (৩৫), রবীন চন্দ্রের স্ত্রী তারা রানী (২৪), পাঁচপীর বংশীধর পূজারি এলাকার মৃত চুড়ামোহন রায়ের স্ত্রী ধনবালা (৫৭), রমেশ চন্দ্রের স্ত্রী সুমিত্রা রানী (৫৭), ময়দান দিঘি এলাকার বিলাশ চন্দ্রের স্ত্রী সফলতা রানী (৫৫), মাড়েয়া বামনহাট এলাকার রমেশ চন্দ্রের স্ত্রী শিমলা রানী (৩৫), বড়শশী কুমারপাড়া এলাকার আহম্মদ আলীর ছেলে হাছান আলী (৫২), মাড়েয়া আলোকপাড়া এলাকার রমেশ চন্দ্র ও মিনুতি রানীর শিশু কন্যা উশোশী, দেবীগঞ্জের হাতিডুবা এলাকার নারায়ণের শিশু কন্যা তনুশী, পাচঁপীর মদনহার এলাকার রতন চন্দ্র ও শুতী রানীর শিশু কন্যা শ্রেয়শী, সাকোয়ার গড় দিঘি বাবু বাজার এলাকার ধর্ম নারায়ণের শিশু কন্যা প্রিয়ন্তী, মাড়েয়া এলাকার রবীন্দ্রের ছেলে বিলাশ চন্দ্র, মাড়েয়া বামন হাট এলাকার নির্মল চন্দের স্ত্রী শোভা রানী (২৭) ও খুশি রানী নামে এক নারী। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোলেমান আলী বলেন, মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেয়া হবে। এ ছাড়া আহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, এটি এ জেলার ইতিহাসে ভয়াবহ ট্রলারডুবি। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ চলছে। মৃতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। জেলা প্রশাসন আহতদের চিকিৎসা খরচ বহন করবে।