Home Blog

লক্ষ্মীপুর জেলার প্রাইভেট স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরন সিলেটে বন্যার্তদের মাঝে

ভয়াবহ বন্যার শিকার হয়েছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণাসহ উত্তরপূর্ব এলাকার জনপদ।অত্যধিক বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সেখানে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বেশিরভাগ এলাকা, দেখা দেয় খাদ্য সংকট, মানবেতর জীবনযাপন করছে পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ। বন্যার্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিষ্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন নগদ অর্থ, খাদ্য সামগ্রী এবং জরুরী ঔষুধ বিতরন করা হয় শনিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে।

উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ বিতরণ করছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিবন্দি হয়ে সেখানে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন কাটাতে হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধদের।

বন্যা দুর্গতদের খাবারসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন স্বাভাবিক রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। দেখা দিয়েছে শিশুখাদ্য সংকট। এমন অবস্থায় শিশুখাদ্য সহ খাবার সামগ্রীর ত্রাণ কাজে এগিয়ে এসেছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিষ্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন নগদ অর্থ, খাদ্য সামগ্রী এবং জরুরী ঔষুধ বিতরন করা হয়। এছাড়াও অন্যান্য উপজেলায় হস্থান্তর করা হয় সিলেট সেনানিবাসের আজ দুপুর ১টা সিলেট সেনানিবাসে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করা হয় সিলেট সেনানিবাসের ত্রাণ গ্রহণ বিভাগের প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন মাহজাবিন তানজিম রাফার কাছে।
এছাড়াও সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল জেলায় খাবার বিতরন করার জন্য বিশুদ্ধপানি প্রদান করা হয়েছে জেলা পুলিশ সিলেট’র পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন এর প্রতিনিধি এসআই আনোয়ারের কাছে, জেলা পুলিশ লাইনে।

সংগঠনটির ৬ সদস্যের টিমে ছিলেন রাশেদ আহমেদ, মামুন হোসেন, আল ফারুক, মোশাররফ হোসেন, রাজু হাসান, ওয়াহিদুর রহমান মুরাদ।

ত্রাণ বিতরণ কালে সদস্য মোঃ ওয়াহিদুর রহমান বলেন, সিলেট বিভাগের অতি দরিদ্র বন্যার্তদের জন্য লক্ষ্মীপুুর জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনিষ্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন নগদ অর্থ, খাবার ও ঔষুধ বিতরণ করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ছাতক এর দোয়ারা বাজার ও সুনামগঞ্জের প্রত্যান্ত এলাকায়।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনিষ্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি রাজু হাসান বলেন, ‘বন্যায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জাতির এই ক্রান্তিকালে আমাদের সবার এক হওয়াটাও অতীব জরুরি। বন্যাউপদ্রুত এলাকায়, বিশেষ করে প্রত্যান্ত এলাকায় খাদ্যসংকট কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা।’ তারই ধারাবাহিকতায় এই কার্যক্রম। তিনি আরও বলেন, পক্ষ থেকে এই জরুরি পরিস্থিতিতে আমরা চেষ্টা করছি সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে। মানুষের এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সবাইকে এক হওয়া দরকার। বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় আমাদের একতা এবং আন্তরিকতা খুব বেশি প্রয়োজন।’

পাংশা মন্দিরের কালী প্রতিমা ভাংচুর

হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা বর্তমান সময়ের স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। এবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের মহাশ্মশানে প্রথমে নির্মাণ কাজের ইট চুরি করা হয় গেট ভেঙে পরে মন্দিরের কালী প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে।ধারণা করা হচ্ছে গত রোববার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

সোমবার (২৭ জুন) স্থানীয় পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তাদের পরামর্শে ভেঙে ফেলা প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।

মন্দির সংলগ্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসিন্দা অখিল মৌলিক জানান, মন্দিরটির সামনে তালা দেয়া থাকে। তালা ভেঙে কালী প্রতিমার দুটি হাত, জিহ্বা ভেঙে ফেলেছে। কপালে স্বর্ণের টিপ ছিল। সেগুলোও নিয়ে গেছে। সকালে মন্দিরে পূজা করতে গিয়ে এ দৃশ্য দেখে প্রশাসনকে জানানো হয়। পুলিশ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এসে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে দিতে বলেন। যে কারণে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতি বছর বৈশাখ মাসে এ মন্দিরে পূজা হয়। প্রতি পূজার আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে নতুন প্রতিমা দিয়ে পূজা করা হয়।

মৌরাট মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি উদয় শংকর চক্রবর্তী জানান, মন্দির সম্প্রসারণের জন্য কয়েকদিন আগে কিছু ইট এনেছিলেন। শনিবার মহাশ্মশানের গেট ভেঙে সেখান থেকে অনেকগুলো ইট চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। পরদিন ঘটলো প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা। কারা কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা বোধগম্য নয়।

পাংশা থানার ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে মন্দির কর্তৃপক্ষ একটা অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীর অপেক্ষায় ফেরি আগের থেকে গাড়ি কমেছে ৮শত থেকে ১হাজার

ব্যস্ত আর ভোগান্তির নাম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি ঘাট। তবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর প্রথম দিন থেকেই এ ঘাটে ফেরিগুলোকে যানবাহন সংকটে থাকতে দেখা গেছে।

যেখানে যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো এখন ফেরি থাকছে যানবাহনের অপেক্ষায়। এ ছাড়াও ঘাট সড়কও ছিল অনেকটা ফাঁকা।

সূত্রে মতে গত ২৪ জুন (শুক্রবার) দৌলতদিয়া থেকে ২৪ ঘণ্টায় বাস, ট্রাক, ছোট গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ মোট তিন হাজার ৭৫২টি ও ২৫ জুন দৌলতদিয়া থেকে ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৩৪৩টি যানবাহন পরিবহন করেছে ফেরিগুলো। পদ্মা সেতু চালুর পর ২৬ জুন (রবিবার) দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৭১০টি যানবাহন নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছায় ফেরিগুলো।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়াতে দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ কমে গেছে। অধিকাংশ যানবাহন সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছে। যার ফলে দৌলতদিয়া ঘাট অনেকটাই ফাঁকা।

ট্রাকচালক সাইদুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর আগে অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে সিরিয়ালের অপেক্ষায় থাকতে হতো। কিন্তু আজ আমার ট্রাকে কাঠ বোঝাই করে সরাসরি ফেরিতে উঠতে পেরেছি। এতে খরচ অনেক কমে গেছে। মালিকপক্ষ অনেক খুশি হবে।

ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছেন, সেতু চালুর পর ৮০০ থেকে এক হাজার যানবাহন দৌলতদিয়া নৌপথে কমে গেছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাস ও ছোট গাড়ির সংখ্যাই বেশি।

বিআইডাব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বাণিজ্য) শিহাব উদ্দিন বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দিন থেকে ঘাটে যানবাহনের চাপ কম থাকলেও পরে এর কেমন প্রভাব পড়বে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সেতু চালু হয়েছে বলে অনেকেই সেখান দিয়ে পারাপার হচ্ছে- যার কারণে ঘাট কিছুটা ফাঁকা। বর্তমানে এ নৌপথে ছোট-বড় ২১টি ফেরির মধ্যে ১৮টি চলাচল করছে। তিনটি ফেরি যানবাহন কম থাকায় বসিয়ে রাখা হয়েছে।’

নড়াইল পৌরসভায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬২ কোটি ৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকার বাজেট পেশ

নড়াইল পৌরসভায় আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬২ কোটি ৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে নড়াইল পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে পৌরসভার মেয়র আনজুমান আরা এ বাজেট ঘোষণা করেন।

বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, এডিবিসহ উন্নয়ন খাথ থেকে ১ কোটি টাকা ৫০ হাজার এবং প্রকল্প খাত থেকে ৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ এনামুল কবির টুকু, পৌরসভার সচিব মোঃ ওহাবুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাকির হাসান, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর সরদার, হিসাবরক্ষক মোঃ সাইফুজ্জামান, কাউন্সিলর ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক। আগামী অর্থ বছরে পৌরসভার পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩০ লাখ ৪ হাজার ৭০৮ টাকা।

এছাড়া রাজস্ব আদায় এবং উন্নয়ন ও প্রকল্প খাত থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে পৌরসভার উন্নয়নমূলক সমস্ত ব্যয় করা হবে। পৌর মেয়র তার বাজেট বক্তব্যে পৌর কর না বাড়ানো, পৌরসভার পরিকল্পিত রাস্তা, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন প্রতিশ্রুতি দেন।

বালিয়াকান্দিতে মাদ্রাসা ছাত্র হত্যায় জরিত ৩ আসামী গ্রেফতার

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে আজিম মোল্লা বাদল (১৫) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রের হত্যার রহস্য উদঘাটন করে হত্যায় জড়িত ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ জুন) সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহার দিক নির্দেশনায় বালিয়াকান্দি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আজিম মোল্লা বাদল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করিয়া প্রকৃত আসামীদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার কৃত আসামীরা হলেন সবুর শেখ (২২), স্বাধীন মন্ডল(১৬),তোজাই মোল্লা(১৬)।

উলেখ্য রবিবার (২৬ জুন) সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপু ইউিয়নের বড় হিজলি গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে আজিম মোল্লা বাদল( ১৫) নামোর এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত বাদল মোল্লা বালিয়াকান্দি উপজেলার বড় হিজলি গ্রামের হুমায়ন মোল্লার ছেলে ও বড় হিজলি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র।, মরদেহের গোপনাঙ্গ কাটা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন ছিল।

বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, হত্যাকান্ডের কারন ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৩ আসামীকে গ্রেফতার করে রাজবাড়ী আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

মোংলা বন্দরে বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস উদযাপন

বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে মোংলা বন্দরে আলোচনা সভাসহ হাইডোগ্রাফীর উপর বিশেষ উপস্থাপনের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় মোংলা বন্দরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন), কমোডর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার।

এছাড়াও এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মবক’র বিভাগীয় প্রধানগন, বিভিন্ন মেরিটাইম স্টেক হোল্ডারের প্রতিনিধি ও মোংলা বন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন। মোংলা বন্দরের প্রধান হাইড্রোগ্রাফার লেঃ কমান্ডার এম ওবাইদুর রহমান বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবসের গুরুত্ব এবং মোংলা বন্দরের হাইড্রোগ্রাফি শাখা কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর বিশেষ উপস্থাপন প্রদান করেন এবং হাইড্রোগ্রাফি শাখা কর্তৃক বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট এর প্রদর্শন করা হয়।

হাইড্রোগ্রাফি বিষয়ে জনসাধারণের সচেতনা বৃদ্ধি এবং সমুদ্র সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধিতে হাইড্রোগ্রাফার এবং হাইড্রোগ্রাফির অবদান সম্পর্কে তুলে ধরার লক্ষ্যে দিবসটি পালিত হয়। “জাতিসংঘের দশ বছর মেয়াদী মহাসমুদ্র পরিকল্পনায় হাইড্রোগ্রাফির অবদান” ছিল এই বছরের হাইড্রোগ্রাফি দিবসের প্রতিপাদ্য। সমুদ্র থেকে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ে বৈশ্বিকভাবে যে সমন্বয় সাধন করে থাকে তার অবদান তুলে ধরাও এই দিবসটির আরেকটি উদ্দেশ্য। এই দিবস পালনের মাধ্যমে দেশের সমুদ্র সংক্রান্ত কমিউনিটি এবং অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হবে এবং ভবিষ্যতে যে কোন মেরিটাইম সংক্রান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি ভিত্তি তৈরী হবে।

একটি ফেরি বদলাতে পারে রাঙ্গাবালীর জীবনযাত্রা

একটি ফেরি পাল্টে দিতে পারে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর মানুষের জীবনযাত্রা। ফেরির অভাবে সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পটুয়াখালীর এ দ্বীপের মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোটে পাড়ি দিতে হয় প্রমত্তা আগুনমুখা নদী। রোগী ও পণ্য পরিবহনে পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি।

তিন দিকে বঙ্গোপসাগর। আরেকদিকে প্রমত্তা আগুনমুখা নদী। মাঝখানের দ্বীপটির নাম রাঙ্গাবালী। এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট এবং কৃষি ও মৎস্য ভাণ্ডার; কিন্তু সড়কপথে নেই যোগাযোগ ব্যবস্থা।

জানা গেছে, এখানকার মানুষের পারাপারের বাহন শুধুমাত্র স্পিডবোট। চলমান বর্ষায় চরম ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোটেই পাড়ি দিতে হয়। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার পথে নদী পারাপারেই প্রাণ দিতে হয় অনেক রোগীকে। তাই ফেরি চালুসহ সড়কপথে সংযোগ স্থাপনের দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, ঝড়-তুফান থাকলে আমরা আসা-যাওয়া করতে পারি না। অনেক সময় স্পিডবোর্ট ও নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এখানে একটি ফেরি থাকলে আমাদের সুবিধা হতো। এছাড়া কৃষি ও ব্যবসা সম্প্রসারণ হতো।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ইতিবাচকভাবে যেটা করলে এখানে দ্রুত ফেরি আসবে সেটা শতভাগ আমরা নিশ্চিত করেছি। এ ছাড়া আমরা সে প্রতিবেদনটি পাঠিয়ে দিয়েছি।

পায়রা বন্দরের জাহাজ নোঙর করবে এই রাঙ্গাবালীতে। তাই ২ লাখ মানুষের এই দ্বীপটিতে রয়েছে উন্নয়নের নানা সম্ভাবনা।

গাইবান্ধায় রুমা বেগমের কোলজুড়ে এলো একসঙ্গে তিন কন্যা

নুর মোঃ খালেকুজ্জামান, গাইবান্ধা।।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রুমা বেগমের (৩২) কোলজুড়ে এলো একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তান। তিন নবজাতক ও মা সুস্থ আছেন।

সোমবার (২৭ জনু) সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের মধ্যভাঙ্গা মোড়ের টুবরিপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতেই তিন সন্তান প্রসব করেন ওই গৃহবধূ। রুমা বেগম ওই গ্রামের আশাদুল প্রামাণিকের স্ত্রী।

দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান প্রামাণিক বলেন, আশাদুল প্রামাণিক সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই। সে কৃষি কাজ করে। ভোরে রুমা বেগমের প্রসব বেদনা ওঠে। এ সময় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় নিজ বাড়িতেই স্বাভাবিক প্রসবে তিন সন্তানের জন্ম দেন। ভূমিষ্ঠ হওয়া তিন নবজাতক সুস্থ আছে।

নবজাতকের বাবা আশাদুল ইসলাম বলেন, তাদের আরও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সকালে প্রসব বেদনা উঠলে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য টাকা সংগ্রহ করতে ব্যস্ত ছিলাম। পরে জানতে পারলাম তিন কন্যাসন্তান হয়েছে। প্রসূতি ও নবজাতকরা সুস্থ আছে।

তিনি আরও বলেন, অভাবের সংসার। অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে সংসার চলে। সাত সদস্যের এই পরিবার চালানো অনেকটা কষ্টকর। পরে তাদের কোনো চিকিৎসা লাগলে টাকার অভাবে তা সম্ভবও হবে না। নবজাতকদের কী নাম রাখা হবে তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

তিন নবজাতকের জন্মের বিষয়ে দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকদের দেখতে যাচ্ছি। এর আগে ইউনিয়নে এমন ঘটনা ঘটেনি।

উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সারা দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করছে। কারণ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, ‘রেল যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত ও নতুন নতুন রেলপথ স্থাপন করা হচ্ছে। সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীগুলো খনন করা হচ্ছে কারণ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে এবং বাণিজ্য ও ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।’

সোমবার (২৭ জুন) সকালে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক) প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন সরকার প্রধান।

বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদানের চেক হস্তান্তর করে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুদান চেক গ্রহণ করেন।

সমগ্র দেশেই ব্রিজ এবং উন্নত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যোগাযোগের একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসবের পাশাপাশি নদীগুলো ড্রেজিং করে নৌপথও সচল করা হচ্ছে। আমাদের পূর্ববর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায়ই বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা সেটা আবার নতুন করে চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন রেল লাইনও করে দিচ্ছি। যার ফলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাও বাড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এ সময় নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশেরই এক ব্যক্তির প্ররোচনায় বিশ্ব ব্যাংক যখন পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগিরাও সরে দাঁড়ায়, তখন আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করব। তখন দেশের জনগণের পাশাপাশি আপনারাও অনেকে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে সবধরনের সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে জন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

দেশের জনগণই তার ‘সবচেয়ে বড় শক্তি’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের সাহস এবং সহযোগিতা এবং তারা পাশে থাকাতে আমরা আমাদের নিজস্ব টাকায় এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, প্রথমবার সরকারের আসার পর যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে বিদ্যুৎ, রেল এবং গ্যাস সংযোগও প্রদান করা হয়। পদ্মা সেতুও সেভাবেই করা হয়েছে, মাল্টিপারপাস। সেখানেও গ্যাস, বিদ্যুৎ, রেল সংযোগের সঙ্গে অত্যাধুনিক ওয়াইফাই সুবিধাও থাকবে।

সিলেট বিভাগে পর পর তিন বার বন্যা হলো। সেখানে যেমন ফসলের ক্ষতি হয়েছে তেমনি ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাটের ও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তেমনি পানি যখন নেমে আসছে তখন নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ দেশের যে কোনো দুর্যোগ ও দুর্বিপাকে মানবিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসায় এবং মানষের পাশে দাঁড়ানোয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের প্রচেষ্টাই হচ্ছে দেশের জনগণের দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলা। যাতে বিশ্ব দরবারে আমরা মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে চলতে পারি।

দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমাদের উন্নয়নও করতে হবে আবার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য যততত্র শিল্প যাতে গড়ে না ওঠে এবং কৃষিজমি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি এলএনজি আমদানি করে শিল্প কলকারকানা চলমান রাখারও উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

করোনাকালীন সরকার যেমন সকল জনগণের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছে তেমনি চলমান বিশ্ব মন্দার মধ্যে শিল্প কলকারখানা চলমান রাখতে নানারকম আর্থিক প্রণোদনাও প্রদান করেছে। কোনোভাবেই যাতে অর্থনীতির গতি ব্যাহত না হয়ে পড়ে সে জন্য কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষসহ সকলকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যেই আবার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাবটাও অর্থনীতির ওপর পড়েছে। আবার এসেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সমস্যা আসবে এবং সেই সমস্যা মোকাবিলা করেই আমাদের পথ চলতে হবে। আজকে আপনারা বন্যা কবলিত মানুষকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন। আর আপনারা যখন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তখন আর আমাদের চিন্তা থাকে না। আমরা মনে করি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব এবং বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারব।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবারও বলেন, এই তহবিল থেকে কেবল বন্যা দুর্গত জনগণই নয়, পীড়িত ও দুস্থ জনগণকেও এখান থেকে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়। যেখানে তাদের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় করোনার প্রাদুর্ভাব পুনরায় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সকলকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলার এবং মাস্ক ব্যবহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

আজ ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মোট ৩০৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করে।

এগুলো হচ্ছে-সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিডিবিএল, ইডকল, বিআইএফএফএল, এক্সিম ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ইষ্টার্ন ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, যমুনা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সোসাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড। সূত্র বাসস।

জনি ডেপকে ফাঁসাতে পরিকল্পনা, মেইল ফাঁস

পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে জনি ডেপকে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক ইমেইল দেখে এমনটাই মনে করা হচ্ছে। ইমেইলে ২০১৬ এর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা আছে যখন পুলিশের কাছে একটি ফোন কল গিয়েছিল। সেই কলে ডেপের বিরুদ্ধে গৃহ নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন অ্যাম্বার। দাবি করেছিলেন ডেপের বাড়ি থেকেই ফোন করেছেন তিনি।

জনি ডেপের লিগ্যাল টিম অ্যাডাম ওয়াল্ডম্যান, বেন চিউ ও ক্যামিলি ভাসকুয়েজের মাঝে আদানপ্রদান হওয়া এই মেইলে ২০১৬-এর সেই ঘটনাটিকে মিথ্যা বলা হচ্ছে। এবং বলা হয়েছে, ডিভোর্স লয়্যারের সঙ্গে আলোচনা করে কাহিনী সাজিয়ে পুলিশকে ফোন করেছিলেন অ্যাম্বার। ইমেইলে বলা হয়েছে অ্যাম্বার হার্ড সাহায্য চাইতে ফোন করেছিলেন জোশ ড্রিউ-এর প্রাক্তন স্ত্রী পেনিংটনকে। পুরো বিষয়টি ছিল মিথ্যা ও সাজানো। তারা পরিকল্পিত উপায় অভিনেতাকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন। সেই সময়ে জনি বাড়িতে একাই লুকিয়ে ছিলেন।

অ্যাম্বার সেখানে ছিলেনই না। পাহারাদাররাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইমেইলে ইলন মাস্কের সঙ্গে অ্যাম্বার হার্ডের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথাও লেখা আছে। জনির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ২০১৬ সালে বিচ্ছেদের আবেদন করেন অ্যাম্বার। অ্যাম্বারের এ অভিযোগে জনি ডেপের সুনাম, অর্থ, ক্যারিয়ার সব হারাতে হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের মেট গালাতে বাগদান সারেন জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ড। ২০১৬ সালের আগস্টে ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ডিভোর্স নিষ্পত্তি করেন আদালত। বিচ্ছেদের দেড় বছরের মাথায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় নারীদের নির্যাতন নিয়ে অ্যাম্বার হার্ড একটি বই লেখেন। মতামতধর্মী ওই লেখায় জনি ডেপের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি অ্যাম্বার। কিন্তু জনি ডেপের দাবি ওই লেখার মাধ্যমে তার সাবেক স্ত্রী তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছেন এবং তাতে তার মানহানি হয়েছে।

পরে ২০১৯ সালে aঅ্যাম্বার হার্ডের এ লেখার কারণে তার বিরুদ্ধে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানহানি মামলা করেন জনি। পরে পাল্টা ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেন অ্যাম্বার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাবেক স্ত্রী আম্বার হার্ডের বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলায় জিতলেন মার্কিন অভিনেতা জনি ডেপ। আদালতের জুরি সদস্যরা জানিয়েছেন, আম্বার যে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ জনির বিরুদ্ধে এনেছিলেন, তা মিথ্যা এবং অবমাননাকর।